রক্তরস কী । Plasma । রক্তরসের উপাদান । রক্তরসের কাজ কী। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রক্তের হালকা হলুদ বর্ণের তরল অংশকে রক্তরস বলে। রক্তের ৫৫% রক্তরস। এতে পানি ৯০-৯২% এবং কঠিন পদার্থ ৮-১০% থাকে। রক্তরসের উপাদান দুই ধরনের। ১। জৈব উপাদান  এবং  ২। অজৈব উপাদান

১।  জৈব উপাদান

(i) খাদ্যসারঃ  গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন প্রভৃতি।

(ii) প্লাজমাপ্রোটিনঃ  অ্যালবুমিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন, অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন প্রভৃতি (৭.৫%)।

(iii) স্নেহ দ্রব্যঃ নিউট্রাল লিপিড, কোলেস্টেরল, ফসফোলিপিড, লেসিথিন প্রভৃতি।

(iv) রঞ্জক পদার্থঃ বিলিরুবিন, বিলিভার্ডিন, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল প্রভৃতি।

(v) জৈব এসিডঃ সাইট্রিক এসিড, ল্যাকটিক এসিড প্রভৃতি।

(vi) রেচন পদার্থঃ ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, জ্যানথিন, অ্যামোনিয়া প্রভৃতি।

২। অজৈব উপাদান

(i) তরল উপাদানঃ এতে পানি থাকে ৯০%-৯২%।

(ii) জড় পদার্থঃ এতে জড় পদার্থ  থাকে ৯%।

(iii) গ্যাসীয় পদার্থঃ গ্যাসীয় পদার্থ হলো- O2, CO2, N2  প্রভৃতি।

(iv) খনিজ পদার্থঃ সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ প্রভৃতি

(v) আয়নঃ Na+, K+, Ca++, Cl , HCO3, HPO4  প্রভৃতি

রক্তরসের কাজ (Function of Plasma)

১। খাদ্যসার পরিবহনঃ রক্তরসের মাধ্যমে অ্যামাইনো এসিড, গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, ফ্যাটি এসিড, গিøসারল প্রভৃতি পরিবাহিত হয়।

২। পানি পরিবহনঃ ইহা দেহে পানি পরিবহন ও পানি সমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

৩। রেচন নিষ্কাশনঃ দেহে উৎপন্ন ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে রক্তরস অংশ নেয়।

৪। তাপ সমতাঃ ইহা দেহের সর্বত্র তাপের সমতা নিয়ন্ত্রণ করে।

৫। রোগ প্রতিরোধঃ ইহা দেহকে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৬। অভিস্রবণ চাপঃ রক্তরস প্লাজমাপ্রোটিনের সাহায্যে রক্তের অভিস্রবণ চাপ রক্ষা করে।

৭। রক্ত জমাট বাঁধাঃ ইহাতে প্লাজমাপ্রোটিন থাকায় রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

৮। রক্তকণিকা ধারণঃ ইহা রক্তের লোহিতকণিকা, শ্বেতকণিকা ও অনুচক্রিকা ধারণ করে।

৯। রক্তের তরলতা রক্ষাঃ ইহাতে ৯১% পানি থাকায় রক্তের তরলতা রক্ষা করে।

১০। অম্ল-ক্ষার সমতাঃ রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা রক্ষা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *