১। সুষম খাদ্য গ্রহণঃ পরিমিত পরিমাণ সুষম খাদ্য খেতে হবে। সুষম খাদ্যে ছয়টি উপাদান থাকে। প্রতিদিন ৫–৬ ধরনের শাক–সবজি, ফলমুল, বাদাম ও ডাল খেতে হবে।
২। চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহারঃ উচ্চ চর্বিযুক্ত খাদ্য, তেল, চিজ, বাটার, ফাস্টফুড ও কোল্ড ড্রিংক পরিহার করতে হবে।
৩। চিনিযুক্ত খাবার পরিহারঃ মিষ্টি, চিনি, চা, কফি, চকলেট, পুডিং, কেক প্রভৃতি পরিহার করতে হবে। চিনিযুক্ত পানীয় ও ফলের রসের পরিবর্তে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
৪। খাদ্য নিয়ন্ত্রণঃ অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ পরিহার করতে হবে। আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। বাদামী চাল ও গমের রুটি খেতে হবে। সাদা চিনি ও ময়দা বর্জন করতে হবে।
৫। নিয়মিত ব্যায়াম করাঃ নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে। নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো ও সাঁতার কাটতে হবে। নিয়মিত খেলা–ধুলা করতে হবে
৬। ওষুধ সেবনঃ ক্ষুধা কমানো অথবা চর্বি শোষণরোধকারী ওষুধ সেবন করে স্থুলতা রোধ করা যায়। Lorcaserine (Belviq), Orlistat (Xenical), Phentermine (Suprenza) প্রভৃতি ওষুধ স্থুলতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হচ্ছে।
৭। গ্যাস্ট্রিক বেলুন ব্যবহারঃ খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম ও ওষুধ সেবনে স্থুলতা নিরাময় না হলে গ্যাস্ট্রিক বেলুন ব্যবহার করা হয়। এই বেলুন ব্যবহার করলে শরীরের ওজন কমে যায়।
৮। গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল হরমোনঃ গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল হরমোন ব্যবহার করে স্থুলতাকে দ্রুত হ্রাস করা যায়। স্থুলতা দূরীকরণে এই হরমোন ম্যাজিক বুলেট হিসেবে কাজ করছে।
৯। সঠিক বিনোদনঃ বাচ্চাদের মাঠে খেলাধুলা, পার্কে ঘুরাফেরা, রাস্তায় হাটা, সুরক্ষিত ছাদে বেড়ানো প্রভৃতি কাজে উৎসাহিত করতে হবে।
১০। সরল জীবন যাপনঃ স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশে সুখী জীবন যাপন, উচ্চ মনোবল, সৃজনশীল চিন্তা ভাবনা করা।
১১। কিটোজেনিক ডায়েটঃ নিম্ন শর্করা এবং উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারকে কিটোজেনিক ডায়েট বলে। স্থুলতা কমাতে চিকিৎসকগণ কিটোজেনিক ডায়েট গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
১২। চিকিৎসাঃ স্থুলতা কমানোর জন্য গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি, গ্যাস্ট্রিক স্কার্ভি, ল্যাপাপেস্কোপিক অ্যাডজস্টেবল গ্যাস্ট্রিক ব্যান্ডিজ প্রভৃতি চিকিৎসা করা যেতে পারে।
১৩। ব্যারিয়াট্রিক সার্জারিঃ ব্যারিয়াট্রিক সার্জারির মাধ্যমে দেহ থেকে সঞ্চিত চর্বি অপসারণ করা হয়। 40 kg/m2 বা BMI এর বেশি সম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি করা হয়।