অ্যানজিওপ্লাস্টি কী । Angioplasty । অ্যানজিওপ্লাস্টি পদ্ধতি এবং সুবিধা ও অসুবিধা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Angio অর্থ রক্তনালি এবং plasty অর্থ পুননির্মাণ নিয়ে Angioplasty শব্দটি গঠিত। ধমনীতে কোলেস্টেরল বা চর্বি জমে বøক বা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে যান্ত্রিক উপায়ে তা প্রশস্ত করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করাকে এনজিওপ্লাস্টি বলে। একে পারকিউটেনাস করোনারী ইন্টারভেনশন (PCI) বলা হয়। করোনারী ধমনীতে দীর্ঘদিন ধরে কোলেস্টেরল জমা হয়ে প্ল্যাক গঠন করে। প্ল্যাক পুরু হয়ে অ্যাথারোমা গঠন করে যাকে করোনারী বøক বলে। করোনারী ধমনীতে ৭০–৮০% বøক হয়। ১৯৭৭ সালে সুইজারল্যান্ডের ডাঃ আনড্রেস গ্রয়েনজিগ সর্বপ্রথম এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন ধরনের অ্যানজিওপ্লাস্টি হলো–

 ১। বেলুন অ্যানজিওপ্লাস্টি (Ballon angioplasty)

২। স্টেনটিং বা রিং অ্যানজিওপ্লাস্টি (Stenting angioplasty)

৩। লেজার অ্যানজিওপ্লাস্টি (Laser angioplasty)

৪। করোনারী অ্যাথেরেকটমী (Coronary atherectomy)

 

বেলুন স্টেনটিং (রিং) করোনারী অ্যানজিওপ্লাস্টি পদ্ধতি

১। অ্যানজিওগ্রাম করে নিশ্চিত হওয়ার পর সার্জারী করা হয়।

২। অ্যানজিপ্লাস্টি শুরুর আগে রোগীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

৩। রোগীর ব্যথা রোধের জন্য কুঁচকি বা বাহুর ত্বকে লোকাল অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অবশ করা হয়।

৪। মোটা সুঁই দিয়ে কুঁচকি অথবা বাহুর প্রধান রক্তনালিতে একটি ছিদ্র করা হয়।

৫। ছিদ্রের মধ্য দিয়ে একটি গাইড ক্যাথেটার (সরু, নমনীয় ও লম্বা নল) প্রবেশ করানো হয়।

৬। গাইড ক্যাথেটারের প্রান্তটি করোনারী ধমনীর অ্যাথারোমা অংশে প্রবেশ করানো হয়।

৭। গাইড ক্যাথেটারের মাধ্যমে স্ট্যান্ট দ্বারা আবৃত একটি বেলুন ক্যাথেটার পাঠানো হয়।

৮। ধমনীর প্লাক অঞ্চল চিহ্নিত করার জন্য ক্যাথেটারের ভিতরে রঞ্জক পদার্থ প্রবেশ করানো হয়। এপদ্ধতিকে ফ্লুরোস্কোপি (fluoroscopy) বলে। ক্যাথেটার সুনির্দিষ্ট স্থানে পৌছালো কিনা তা পর্যবেক্ষণে রঞ্জক পদার্থ সহায়তা করে। মনিটরের সাহায্যে ইহা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

৯। ধমনীর অ্যাথারোমা অংশে বেলুন ও স্ট্যান্ট পৌছানোর ৩০–৬০ সেকেন্ডের মধ্যে বেলুনটি ফুলানো হয়।এতে অ্যাথারোমা অংশের চর্বি চেপে যায় এবং ধমনীর সরু পথ প্রসারিত হয়।

১০। বেলুন দ্বারা ধমনীর প্রসারিত অংশে ধাতব স্ট্যান্ট বা রিংটি স্থাপন করা হয়। রিং স্থাপনের পর বেলুনসহ ক্যাথেটার বের করে আনা হয়।

১১। রিংটিতে ওষুধের প্রলেপ থাকে যা সর্বদা ধমনীতে মুক্ত হয়। মুক্ত ওষুধ ধমনীর চর্বিকে গলায় এবং পুনরায় বøক তৈরীতে বাঁধা দেয়।

১২। একবার অ্যানজিওপ্লাস্ট করতে ৩০–৪০ মিনিট সময় লাগে এবং রোগীকে একদিন চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়।

অনেকসময় বেলুনের চাপে ধমনীর সরু স্থান প্রসারিত হয় না। ফলে অ্যানজিওপ্লাস্টি সম্ভব হয় না এবং রোগীকে ঈঅইএ সার্জারি করানো হয়।

 

লেজার অ্যানজিওপ্লাস্টি পদ্ধতি

১। লেজার অ্যানজিপ্লাস্টি শুরুর আগে রোগীর হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

২। রোগীর ব্যথা রোধের জন্য কুঁচকি বা বাহুর ত্বকে লোকাল অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অবশ করা হয়।

৩। মোটা সুঁই দিয়ে কুঁচকি অথবা বাহুর প্রধান রক্তনালিতে একটি ছিদ্র করা হয়।

৪। ছিদ্রের মধ্য দিয়ে একটি গাইড ক্যাথেটার (সরু, নমনীয় ও লম্বা নল) প্রবেশ করানো হয়।

৫। গাইড ক্যাথেটারের প্রান্তটি করোনারী ধমনীর অ্যাথারোমা অংশে প্রবেশ করানো হয়।

৬। গাইড ক্যাথেটারের মাধ্যমে একটি লেজার ক্যাথেটার পাঠানো হয়।

৭। ধমনীর প্লাক অঞ্চল চিহ্নিত করার জন্য ক্যাথেটারের ভিতরে রঞ্জক পদার্থ প্রবেশ করানো হয়। এ পদ্ধতিকে ফ্লুরোস্কোপি (fluoroscopy) বলে। ক্যাথেটার সুনির্দিষ্ট স্থানে পৌছালো কিনা তা পর্যবেক্ষণে রঞ্জক পদার্থ সহায়তা করে। X-ray মনিটর দ্বারা ইহা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

৮। ধমনীর প্লাকযুক্ত অংশে পৌঁছার পর লেজার রশ্মি স্তরে স্তরে প্লাক ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংস প্রাপ্ত প্লাক বাষ্পীভূত হয়ে যায়।

৯। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

 

অ্যানজিওপ্লাস্টির সুবিধা

(i) অ্যানজিওপ্লাস্টির মাধ্যমে ধমনীর বøক অপসারণ করায় রোগীর বুকের ব্যথা উপশম হয়।

(ii)  হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা দূর হয়।

(iii) রোগী কয়েক দিনের মধ্যে হালকা কাজকর্ম করতে পারে।

(iv) দীর্ঘকালিন সতর্কতার প্রয়োজন হয় না।

(v) এক মাসের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে যায়।

 

অ্যানজিওপ্লাস্টির অসুবিধা

(i) রিং পড়ানোর সময় ২% রোগীর হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

(ii) অপরেশনের সময় অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হতে পারে।

(iii) বেলুন ছিড়ে যেতে পারে।

(iv) রিং চুপসে রক্ত চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

(v) স্টেন্ট লাগানো স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে।

(vi) রোগীর পুনরায় ব্লকেজ হতে পারে।

(vii) অনেক সময় রিং লাগানো অংশে রক্ত জমাট বাঁধে এবং জমাট বাঁধা রক্ত মস্তিস্কের রক্তনালিতে প্রবেশ করে স্ট্রোক ঘটায়।

(viii) অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে।

(ix) এটি একটি ব্যয় বহুল চিকিৎসা পদ্ধতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *