দেহকোষে শর্করা জারণের ফলে CO2 উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন CO2 রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে আসে এবং বাইরে নির্গত হয়। রক্তে CO2 তিনটি উপায়ে পরিবাহিত হয়। যথা-
(i) ভৌত দ্রবণরুপেঃ রক্তে ভৌত দ্রবণ হিসেবে ৫% CO2 পরিবাহিত হয়। রক্তের প্লাজমার পানিতে CO2 দ্রবীভ‚ত হয়ে কার্বনিক এসিড গঠন করে এবং পরিবাহিত হয়।
CO2 + H2O —————-→ H2CO2 (কার্বনিক এসিড)
(ii) কার্বামিনো যৌগ হিসেবেঃ রক্তে কার্বামিনো যৌগ হিসেবে ১০% CO2 পরিবাহিত হয়। দেহকোষে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হিমো গ্লোবিন বিক্রিয়া করে কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ হিসেবে কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবাহিত হয়।
CO2 + HbNH2 ———–→ HbNHCOOH (কার্বামিনো হিমোগেøাবিন)
(iii) বাইকার্বনেট যৌগরুপেঃ রক্তে বাইকার্বনেট যৌগরুপে ৮৫% CO2 পরিবাহিত হয়। এটি দুইটি উপায়ে পরিবাহিত হয়। সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3) এবং পটাশিয়াম বাইকার্বনেট (KHCO3) হিসেবে।
ব্যাপন প্রক্রিয়ায় CO2 লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে এবং কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ এনজাইমের সহায়তায় পানির সাথে বিক্রিয়া করে কার্বনিক এসিড (HCO3) উৎপন্ন করে। অধিকাংশ কার্বনিক এসিড ভেঙ্গে H+ এবং HCO3- আয়নে পরিনত হয়।
CO2+H2O→ H2CO3→ H+ + HCO3-
লোহিত রক্তকণিকার ভিতরে K+ ও HCO3- যুক্ত হয়ে পটাশিয়াম বাইকার্বনেট (KHCO3) গঠন করে। কিছু HCO3- লোহিত রক্তকণিকা হতে রক্তরসে চলে আসে এবং Na+ এর সাথে যুক্ত হয়ে সোডিয়াম বাইকার্বনেট (NaHCO3) গঠন করে। লোহিত রক্তকণিকা হতে যতটি HCO3- রক্তরসে আসে ততটি Cl- রক্তরস থেকে লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে। একে ক্লোরাইড শিফট বিক্রিয়া বা হ্যামবার্জার বিক্রিয়া বলে।
লোহিত রক্তকণিকায়ঃ K+ + HCO3 → KHCO3
রক্তরসে ঃ Na+ HCO3 → NaHCO3
স্বাভাবিক স্থিতাবস্থায় প্রায় ২৫-৩৩% অক্সিজেন কলারসে প্রবেশ করে। ১০০ মিলি রক্ত ১৯-২০ মিলি অক্সিজেন ১০০ মিলি রক্ত ১৪-১৫ মিলি CO2 পরিবহন করে।