কোষস্থ নির্জীব বস্তু কী কী । Ergastic substance । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

কোষস্থ নির্জীব বস্তু (Ergastic substance)

কোষের বিপাকের ফলে নির্জীব বস্তু সৃষ্টি হয় এবং সাইটোপ্লাজম গহ্বরে জমা থাকে। নির্জীব বস্তুগুলো তিন ধরণের। সঞ্চিত পদার্থ, নিঃসৃত পদার্থ এবং বর্জ্য পদার্থ।

 

১। সঞ্চিত পদার্থ (Reserve materials) যে সব পদার্থ কোষে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে তাকে সঞ্চিত পদার্থ বলে। কোষের প্রধান সঞ্চিত পদার্থ হলো

(i) প্রোটিনঃ মসুর, খেসারী, মটর, ছোলা, অড়হড়, মুগ, মাসকলাই প্রভৃতি দানায় প্রোটিন থাকে। এসব প্রোটিন দানাকে অ্যালিউরন দানা বলে।

(ii) লিপিডঃ নারকেল, বাদাম, সরিষা, রেপসিড প্রভৃতিতে লিপিড থাকে।

(iii) শর্করাঃ গম, ভূট্রা, আলু, চাল, কাউন প্রভৃতিতে শর্করা থাকে।

(iv) গ্লাইকোজেনঃ যকৃত পেশিকোষে প্রাণীজ শে^তসার হিসেবে সঞ্চিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া, নীলাভসবুজ শৈবাল এবং ছত্রাকে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত থাকে।

(v) ইনিউলিনঃ ইনিউলিন একধরণের শর্করা বা পলিস্যাকারাইড। ইহা Compoitae গোত্রের কতিপয় উদ্ভিদ বিশেষ করে সূর্যমুখী, ডালিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের কোষে সঞ্চিত থাকে।

(vi) জাইমোজেন দানাঃ বিভিন্ন ধরণের এনজাইম একত্রিত হয়ে জাইমোজেন দানা গঠন করে। ইহা উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে সঞ্চিত থাকে।

 

২। নিঃসৃত পদার্থ (Secretory products) কোষ থেকে যে সব রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত বা নিঃসৃত হয় তাকে নিঃসৃত পদার্থ বলে। প্রধান নিঃসৃত পদার্থ হলো পিগমেন্ট, নেকটার (মকরন্দ), এনজাইম এবং হরমোন। ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল, অ্যান্থোসায়ানিন প্রভৃতি হলো উল্লেখযোগ্য পিগমেন্ট।

 

৩। বর্জ্য পদার্থ (Excretory or waste products) প্রোটোপ্লাজমের বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন উপজাত পদার্থকে বর্জ্য পদার্থ বলে। ইহা কোষে জমা থাকে।

(i) রেজিনঃ পাইন, অরোক্যারিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের রজন নালীতে যে আঠা জাতীয় পদার্থ থাকে তাকে রজন বা রেজিন বলে। সেতার বেহালার তার মসৃন করার জন্য রজন ব্যবহার হয়।

(ii) ট্যানিনঃ তেঁতুল গাব উদ্ভিদের ফলত্বক বীজত্বকে ট্যানিন থাকে। চামড়া পাকানো, রং কালি তৈরী করতে ট্যানিন ব্যবহার হয়।

(iii) গামঃ জিগা, সজিনা, বাবলা প্রভৃতি উদ্ভিদে গঁদ বা গাম থাকে। ইহা আঠা হিসেবে ব্যবহার হয়।

(iv) জৈব এসিডঃ টমেটোতে ম্যালিক এসিড, লেবুতে সাইট্রিক এসিড, আমরুলে অক্সালিক এসিড, তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে।

(v) ল্যাটেক্সঃ বট, ডুমুর, অশথ, আকন্দ, করবী প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড, পাতা, ফুল ফলে তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স থাকে।

(vi) টারপিনয়েডঃ তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, পাইনাস কোষ প্রভৃতিতে টারপিনয়েড থাকে। 

(vii) অ্যালকালয়েডঃ তামাকে নিকোটিন, ধুতুরায় ডাটুরিন, কফিতে ক্যাফেইন, আফিমে ওপিয়াম, সর্পগন্ধায় সার্পেন্টাইন, সিঙ্কোনায় কুইনাইন প্রভৃতি উপক্ষার বা অ্যালকালয়েড থাকে।

(viii) উদ্বায়ী তেলঃ লেবু, তুলসী, কামিনী, রক্তদ্রোণ, শ্বেতদ্রোণ, ইউক্যালিপটাস প্রভৃতি উদ্ভিদের ফুল, ফল পাতায় উদ্বায়ী তেল থাকে।

(ix) খনিজ ক্রিস্টালঃ খনিজ কেলাস দুই ধরণের। সিস্টোলিথ এবং র‌্যাফাইড। আঙ্গুরের থোকার মতো ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে সিস্টোলিথ এবং সূঁচের মতো ক্যালসিয়াম অক্সালেটকে র‌্যাফাইড বলে। বট, ডুমুর, রাবার প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় সিস্টোলিথ এবং মানকচু, ওলকচু, মুখীকচু প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড পাতায় র‌্যাফাইড থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *