১। পোষক কোষে প্রবেশঃ ভাইরাস উপযুক্ত পোষকের সংস্পর্শে আসে। পোষক দেহকে ছিদ্র করে। ছিদ্রের মধ্য দিয়ে ভাইরাসের জিনোম পোষক কোষে প্রবেশ করিয়ে দেয়। ভাইরাস পোষকের দেহে সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
২। বাধ্যতামুলক অন্তঃপরজীবীঃ ভাইরাস হলো বাধ্যতামুলক অন্তঃপরজীবী। ইহা জীবন্ত পোষক কোষে অবস্থান করে। জীবন্ত পোষক ছাড়া ভাইরাস সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে না। এমনকি কালচার মিডিয়ামেও সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে না।
৩। জীবন্ত কোষকে নির্দেশ পালনে বাধ্য করানোঃ ভাইরাসের ক্যাপসিডের ভিতরে নিউক্লিক এসিড থাকে। ভাইরাসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে DNA অথবা RNA থাকে। ভাইরাসের নিউক্লিক এসিড পোষকের নিউক্লিক এসিডের সাথে যুক্ত হয়। এরপর ভাইরাসের নির্দেশে নতুন নতুন ভাইরাস সৃষ্টি করে।
৪। পোষক নির্দিষ্টতাঃ ভাইরাস পোষক নির্দিষ্ট। ব্যাকটেরিওফাজ ব্যাকটেরিয়াকে, সায়ানোফায সায়ানোব্যাকটেরিয়াকে, উদ্ভিদ ভাইরাস উদ্ভিদকে এবং প্রাণী ভাইরাসকে প্রাণীকে আক্রমণ করে। তবে ভাইরাস পোষক পরিবর্তন করলে তাকে ইমার্জিং ভাইরাস বলে।
৫। আক্রমণ স্থান নির্দিষ্টতাঃ ভাইরাস পোষক নির্দিষ্ট এবং আক্রমণ স্থান নির্দিষ্ট। হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস যকৃত কোষকে, HIV শ্বেত রক্তকণিকাকে, পোলিও ভাইরাস সুষুষ্মা স্নায়ুকে, প্যাপিলোমা ভাইরাস জননাঙ্গকে, হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস ত্বককে, ইপস্টেইন বার ভাইরাস নাক ও গলবিলকে এবং T-লিম্ফোট্রফিক ভাইরাস শ্বেত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে।
৬। জিনগত পরিবর্তনঃ ভাইরাসে জিনগত পরিবর্তন ঘটতে পারে। পরিবর্তনশীল ভাইরাস জীবজগতের জন্য মারাত্মক হুমকী। পরিবর্তনশীল প্রজন্মের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন বা ওষুধ কার্যকর হয় না। ফ্লু ভাইরাস এবং কোভিড-১৯ এরুপ ভাইরাস। এ কারণে প্রতি বছর নতুন করে অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হয়।