মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় বিদ্যমান লাল বর্ণের প্রোটিনধর্মী শ্বাসরঞ্জক যা অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন করে তাকে হিমোগ্লোবিন বলে।
হিমোগ্লোবিনের গঠন
হিমোগ্লোবিন একটি গোলাকার অণু। ইহা হিম নামক লৌহ এবং গ্লোবিন নামক প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ১০০ সিসি রক্তে পুরুষে ১৫.৮ গ্রাম এবং স্ত্রীর ১৩.৭ গ্রাম হিমোগ্লোবিন থাকে। হিমোগ্লোবিনে হিম ও গ্লোবিনের অনুপাত ১ ঃ ২৫। হিমের ৩৩.৩৩% হলো লৌহ। পূর্ণবয়স্ক মানুষের রক্তে মাত্র ৪-৫ গ্রাম লৌহ থাকে। এর রাসায়নিক সংকেত (C712H1130O245N214S2Fe)4 এবং আনবিক ওজন ৬৪,৪৫০ ডাল্টন। হিম হলো ফেরাস আয়রন এবং গ্লোবিন হলো পলিপেপটাইড প্রোটিন। প্রতিটি হিমোগ্লোবিনে ৪টি হিম এবং ৪টি গ্লোবিন প্রোটিন থাকে। তাই একে Hb4 লেখা হয়।
হিমোগ্লোবিনের কাজ/গুরুত্ব
১। অক্সিজেন পরিবহনঃ লোহিত রক্তকণিকার হিমোগেøাবিনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে। অক্সিহিমোগ্লোবিন দেহের বিভিন্ন অংশে পৌছে। দেহ কোষে অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙ্গে যায় এবং অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মুক্ত হয়ে যায়। ফলে দেহকোষ প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পায়।
Hb4 + 4O2 → 4Hbo2 (অক্সিহিমোগ্লোবিন)
প্রকৃতপক্ষে হিমোগ্লোবিন ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে বিক্রিয়া করে Hb4o8 গঠন করে।
Hb4 + O2 → Hb4o2
Hb4o2 + O2 → Hb4o4
Hb4o4 + O2 → Hb4o6
Hb4o6 + O2 → Hb4o8
এই বিক্রিয়া অত্যন্ত দ্রæতগতিতে ঘটে এবং ০.০১ সেকেন্ডের কম সময় লাগে। তাপমাত্রা, pH এবং লোহিত রক্তকণিকার ডাইফসফোগিøসারেট এই বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
২। কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনঃ দেহকোষে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হিমোগ্লোবিন বিক্রিয়া করে কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে। কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন যৌগ দেহ কোষ হতে অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে আসে। অ্যালভিওলাসের প্রাচীরে যৌগটি ভেঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড ও হিমোগ্লোবিনে পরিনত। পরে কার্বন ডাই অক্সইড দেহের বাইরে নির্গত হয়।
CO2 + HbNH2 → HbNHCOOH (কার্বামিনো হিমোগ্লোবিন)
মানব দেহে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহনে একমাত্র বাহক হিসেবে কাজ করে হিমোগেøাবিন। অর্থাৎ লোহিত রক্তকণিকা ব্যতীত অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহণ সম্ভব না।