কোষের বর্জ্য পদার্থ কী কী । Excretory or waste products । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

কোষের বর্জ্য পদার্থ (Excretory or waste products)

প্রোটোপ্লাজমের বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন উপজাত পদার্থকে বর্জ্য পদার্থ বলে। ইহা কোষে জমা থাকে।

১। রেজিনঃ পাইন, অরোক্যারিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের রজন নালীতে যে আঠা জাতীয় পদার্থ থাকে তাকে রজন বা রেজিন বলে। সেতার বেহালার তার মসৃন করার জন্য রজন ব্যবহার হয়।

২। ট্যানিনঃ তেঁতুল গাব উদ্ভিদের ফলত্বক বীজত্বকে ট্যানিন থাকে। চামড়া পাকানো, রং কালি তৈরী করতে ট্যানিন ব্যবহার হয়।

৩। গামঃ জিগা, সজিনা, বাবলা প্রভৃতি উদ্ভিদে গঁদ বা গাম থাকে। ইহা আঠা হিসেবে ব্যবহার হয়।

৪। জৈব এসিডঃ টমেটোতে ম্যালিক এসিড, লেবুতে সাইট্রিক এসিড, আমরুলে অক্সালিক এসিড, তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে।

৫। ল্যাটেক্সঃ বট, ডুমুর, অশথ, আকন্দ, করবী প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড, পাতা, ফুল ফলে তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স থাকে।

৬। টারপিনয়েডঃ তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, পাইনাস কোষ প্রভৃতিতে টারপিনয়েড থাকে। 

৭। অ্যালকালয়েডঃ তামাকে নিকোটিন, ধুতুরায় ডাটুরিন, কফিতে ক্যাফেইন, আফিমে ওপিয়াম, সর্পগন্ধায় সার্পেন্টাইন, সিঙ্কোনায় কুইনাইন প্রভৃতি উপক্ষার বা অ্যালকালয়েড থাকে।

৮। উদ্বায়ী তেলঃ লেবু, তুলসী, কামিনী, রক্তদ্রোণ, শ্বেতদ্রোণ, ইউক্যালিপটাস প্রভৃতি উদ্ভিদের ফুল, ফল পাতায় উদ্বায়ী তেল থাকে।

৯। খনিজ ক্রিস্টালঃ খনিজ কেলাস দুই ধরণের। সিস্টোলিথ এবং র‌্যাফাইড। আঙ্গুরের থোকার মতো ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে সিস্টোলিথ এবং সূঁচের মতো ক্যালসিয়াম অক্সালেটকে র‌্যাফাইড বলে। বট, ডুমুর, রাবার প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় সিস্টোলিথ এবং মানকচু, ওলকচু, মুখীকচু প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড পাতায় র‌্যাফাইড থাকে।

 

 

কোষের সঞ্চিত পদার্থ কী কী । Reserve materials । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

কোষের সঞ্চিত পদার্থ (Reserve materials)

যে সব পদার্থ কোষে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে তাকে সঞ্চিত পদার্থ বলে। কোষের প্রধান সঞ্চিত পদার্থ হলো

১। প্রোটিনঃ মসুর, খেসারী, মটর, ছোলা, অড়হড়, মুগ, মাসকলাই প্রভৃতি দানায় প্রোটিন থাকে। এসব প্রোটিন দানাকে অ্যালিউরন দানা বলে।

২। লিপিডঃ নারকেল, বাদাম, সরিষা, রেপসিড প্রভৃতিতে লিপিড থাকে।

৩। শর্করাঃ গম, ভূট্রা, আলু, চাল, কাউন প্রভৃতিতে শর্করা থাকে।

৪। গ্লাইকোজেনঃ যকৃত পেশিকোষে প্রাণীজ শে^তসার হিসেবে সঞ্চিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া, নীলাভসবুজ শৈবাল এবং ছত্রাকে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত থাকে।

৫। ইনিউলিনঃ ইনিউলিন একধরণের শর্করা বা পলিস্যাকারাইড। ইহা Compoitae গোত্রের কতিপয় উদ্ভিদ বিশেষ করে সূর্যমুখী, ডালিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের কোষে সঞ্চিত থাকে।

৬। জাইমোজেন দানাঃ বিভিন্ন ধরণের এনজাইম একত্রিত হয়ে জাইমোজেন দানা গঠন করে। ইহা উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে সঞ্চিত থাকে।

 

  কোষস্থ নির্জীব বস্তু কী কী । Ergastic substance । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

কোষস্থ নির্জীব বস্তু (Ergastic substance)

কোষের বিপাকের ফলে নির্জীব বস্তু সৃষ্টি হয় এবং সাইটোপ্লাজম গহ্বরে জমা থাকে। নির্জীব বস্তুগুলো তিন ধরণের। সঞ্চিত পদার্থ, নিঃসৃত পদার্থ এবং বর্জ্য পদার্থ।

 

১। সঞ্চিত পদার্থ (Reserve materials) যে সব পদার্থ কোষে সঞ্চিত খাদ্য হিসেবে জমা থাকে তাকে সঞ্চিত পদার্থ বলে। কোষের প্রধান সঞ্চিত পদার্থ হলো

(i) প্রোটিনঃ মসুর, খেসারী, মটর, ছোলা, অড়হড়, মুগ, মাসকলাই প্রভৃতি দানায় প্রোটিন থাকে। এসব প্রোটিন দানাকে অ্যালিউরন দানা বলে।

(ii) লিপিডঃ নারকেল, বাদাম, সরিষা, রেপসিড প্রভৃতিতে লিপিড থাকে।

(iii) শর্করাঃ গম, ভূট্রা, আলু, চাল, কাউন প্রভৃতিতে শর্করা থাকে।

(iv) গ্লাইকোজেনঃ যকৃত পেশিকোষে প্রাণীজ শে^তসার হিসেবে সঞ্চিত থাকে। ব্যাকটেরিয়া, নীলাভসবুজ শৈবাল এবং ছত্রাকে গ্লাইকোজেন সঞ্চিত থাকে।

(v) ইনিউলিনঃ ইনিউলিন একধরণের শর্করা বা পলিস্যাকারাইড। ইহা Compoitae গোত্রের কতিপয় উদ্ভিদ বিশেষ করে সূর্যমুখী, ডালিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের কোষে সঞ্চিত থাকে।

(vi) জাইমোজেন দানাঃ বিভিন্ন ধরণের এনজাইম একত্রিত হয়ে জাইমোজেন দানা গঠন করে। ইহা উদ্ভিদ কোষের সাইটোপ্লাজমে সঞ্চিত থাকে।

 

২। নিঃসৃত পদার্থ (Secretory products) কোষ থেকে যে সব রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত বা নিঃসৃত হয় তাকে নিঃসৃত পদার্থ বলে। প্রধান নিঃসৃত পদার্থ হলো পিগমেন্ট, নেকটার (মকরন্দ), এনজাইম এবং হরমোন। ক্লোরোফিল, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল, অ্যান্থোসায়ানিন প্রভৃতি হলো উল্লেখযোগ্য পিগমেন্ট।

 

৩। বর্জ্য পদার্থ (Excretory or waste products) প্রোটোপ্লাজমের বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন উপজাত পদার্থকে বর্জ্য পদার্থ বলে। ইহা কোষে জমা থাকে।

(i) রেজিনঃ পাইন, অরোক্যারিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদের রজন নালীতে যে আঠা জাতীয় পদার্থ থাকে তাকে রজন বা রেজিন বলে। সেতার বেহালার তার মসৃন করার জন্য রজন ব্যবহার হয়।

(ii) ট্যানিনঃ তেঁতুল গাব উদ্ভিদের ফলত্বক বীজত্বকে ট্যানিন থাকে। চামড়া পাকানো, রং কালি তৈরী করতে ট্যানিন ব্যবহার হয়।

(iii) গামঃ জিগা, সজিনা, বাবলা প্রভৃতি উদ্ভিদে গঁদ বা গাম থাকে। ইহা আঠা হিসেবে ব্যবহার হয়।

(iv) জৈব এসিডঃ টমেটোতে ম্যালিক এসিড, লেবুতে সাইট্রিক এসিড, আমরুলে অক্সালিক এসিড, তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে।

(v) ল্যাটেক্সঃ বট, ডুমুর, অশথ, আকন্দ, করবী প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড, পাতা, ফুল ফলে তরুক্ষীর বা ল্যাটেক্স থাকে।

(vi) টারপিনয়েডঃ তুলসী পাতা, পুদিনা পাতা, পাইনাস কোষ প্রভৃতিতে টারপিনয়েড থাকে। 

(vii) অ্যালকালয়েডঃ তামাকে নিকোটিন, ধুতুরায় ডাটুরিন, কফিতে ক্যাফেইন, আফিমে ওপিয়াম, সর্পগন্ধায় সার্পেন্টাইন, সিঙ্কোনায় কুইনাইন প্রভৃতি উপক্ষার বা অ্যালকালয়েড থাকে।

(viii) উদ্বায়ী তেলঃ লেবু, তুলসী, কামিনী, রক্তদ্রোণ, শ্বেতদ্রোণ, ইউক্যালিপটাস প্রভৃতি উদ্ভিদের ফুল, ফল পাতায় উদ্বায়ী তেল থাকে।

(ix) খনিজ ক্রিস্টালঃ খনিজ কেলাস দুই ধরণের। সিস্টোলিথ এবং র‌্যাফাইড। আঙ্গুরের থোকার মতো ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে সিস্টোলিথ এবং সূঁচের মতো ক্যালসিয়াম অক্সালেটকে র‌্যাফাইড বলে। বট, ডুমুর, রাবার প্রভৃতি উদ্ভিদের পাতায় সিস্টোলিথ এবং মানকচু, ওলকচু, মুখীকচু প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড পাতায় র‌্যাফাইড থাকে।

গ্লাইঅক্সিজোম (Glyoxisome)

গ্লাইঅক্সিজোম (Glyoxisome)
যে সব অঙ্গাণু বিটা-অক্সিডেশন প্রক্রিয়া ঘটায় তাদেরকে গ্লাইঅক্সিজোম বলে। ইহা আবরণী বিশিষ্ট অঙ্গাণু। ইহা বীজের লিপিড সঞ্চয়ী কোষে থাকে। বীজের অংকুরোদগমের সময় লিপিডকে ভেঙ্গে চিনিতে পরিনত করে। এতে চারার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।

নিউক্লিয়াসের কাজ/গুরুত্ব

নিউক্লিয়াসের কাজ/গুরুত্ব
১। জৈবিক কাজঃ  নিউক্লিয়াসকে বলা হয় কোষের মস্তিস্ক। ইহা কোষের সকল জৈবিক কাজ করে।
২। বংশগতিঃ  ক্রোমোজোমে বিদ্যমান উঘঅ অণু বংশগতি নিয়ন্ত্রণ করে।
৩। প্রোটিন সংশ্লেষণঃ  নিউক্লিওলাস রাইবোজোম গঠন করে এবং রাইবোজোম প্রোটিন তৈরী করে।
৪। বিপাক ক্রিয়াঃ  নিউক্লিয়াস কোষের বিপাক নিয়ন্ত্রক অঙ্গাণু।
৫। এনজাইমের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণঃ  নিউক্লিওপ্লাজম এনজাইমের কার্যকলাপের মুল ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে।
৬। প্রকরণ ও মিউটেশনঃ  ইহা জীবের প্রকরণ ও মিউটেশন সৃষ্টি করে।
৭। পদার্থ বিনিময়ঃ  ইহা প্রয়োজনীয় পদার্থ বিনিময় করে।
৮। কোষ বিভাজনঃ  কোষ বিভাজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিউক্লিয়াসের গঠন

নিউক্লিয়াসের গঠন (Structure of Nucleus)

প্রতিটি নিউক্লয়াস ৪ টি অংশ নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো-
১। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বা এনভেলপঃ  নিউক্লিয়াস যে পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বলে। একে এনভেলপ, নিউক্লিওলেমা বা ক্যারিওথিকা বলা হয়। নিউক্লিয়ার মেমব্রেণ দুই স্তর বিশিষ্ট। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। এরা ফসফোলিপিড দ্বারা গঠিত। আবরণী দু’টির মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে পেরিনিউক্লিয়ার স্থান বলে। এর দুরত্ব ১০-১৫ nm। বহিঃআবরণীতে অষ্টভূজাকৃতির ছিদ্র যুক্ত। ছিদ্র গুলোকে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে। নিউক্লিয়ার মেমব্রেণে ৩০০টি নিউক্লিয়ার রন্ধ্র থাকে। প্রতিটি রন্ধ্রের ব্যাস ৯ nm। রন্ধ্রগুলো সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। নিউক্লিয়ার রন্ধে অ্যানুলাস থাকে। অ্যানুলাসে ৮টি করে দানাদার প্রান্তীয় প্রোটিন থাকে। প্রান্তীয় প্রোটিন গুলো পরস্পর স্পোক দ্বারা যুক্ত থাকে। নিউক্লিয়ার ছিদ্রের কেন্দ্রে ট্রান্সপোর্টার নামে একটি বড় প্রোটিন থাকে। ট্রান্সপোর্টারটি অ্যাংকার প্রোটিন দ্বারা এনভেলপের সাথে যুক্ত থাকে। প্রোটিনের সাথে সাব-ইউনিট ও ফাইবার থাকতে পারে। নিউক্লিয়াসের ভিতরে একটি ফাইবার খাঁচা থাকে। ফাইবার খাঁচার সাথে প্রোটিন গুলো ঝুলে থাকে।
২। নিউক্লিওপ্লাজমঃ  নিউক্লিয়ার মেমব্রেণের ভিতরে যে স্বচ্ছ, দানাদার ও জেলীর মতো অর্ধ-তরল পদার্থ থাকে তাকে নিউক্লিওপ্লাজম বা ক্যারিওলিম্ফ বলে। একে নিউক্লিয়াসের প্রোটোপ্লাজমিক রস বলা হয় । এতে নিউক্লিওলাস ও ক্রোমোজোম অবস্থান করে। ইহা প্রধানত প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহাতে DNA, RNA, ফসফোপ্রোটিন, হিস্টোন প্রোটিন, এনজাইম ও খনিজ লবণ থাকে।
৩। নিউক্লিওলাসঃ  নিউক্লিয়াসের ভিতরে যে ঘন, উজ্জ্বল, গোলাকার ও বস্তু দেখা যায় তাকে নিউক্লিওলাস বলে। প্রতিটি নিউক্লিওলাস তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। পার্স অ্যামরফা, নিউক্লিওলোনিমা এবং মাতৃকা। নিউক্লিওলাসের চারিদিকের অংশকে পার্স অ্যামরফা, মধ্যভাগের অংশকে নিউক্লিওলোনিমা এবং ভিতরের তরল অংশকে মাতৃকা বলে। যে কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় না সে কোষে নিউক্লিওলাস থাকে না। ইহা একটি ক্রোমোজোমের সাথে যুক্ত থাকে। এই ক্রোমোজোমটিকে নিউক্লিওলাস অর্গানাইজার বলে। ক্রোমোজোমের যে স্থানে নিউক্লিওলাস যুক্ত থাকে সে স্থানকে SAT বা সেটেলাইট বলে। নিউক্লিওলাসে DNA, RNA, প্রোটিন, লিপিড, এনজাইম, ফসফোরাস, সালফার, পটাশিয়াম প্রভৃতি থাকে। ১৭৮১ সালে বিজ্ঞানী ফন্টানা সর্বপ্রথম নিউক্লিওলাস দেখতে পান। ১৮৪০ সালে বোম্যান এর নামকরণ করেন।
৪। ক্রোমাটিনঃ  নিউক্লয়াসের ভিতরে যে সুক্ষ্ম সুতার মতো প্যাচানো গঠন দেখা যায় তাকে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বা ক্রোমাটিন তন্তু বলে। কোষকে রঞ্জিত করার সময় ইহা কিছু মৌলিক বর্ণ (ফুলজিন রং) ধারণ করে বলে একে ক্রোমাটিন বলা হয়। বর্ণ ধারণ ক্ষমতার কারণে ক্রোমাটিনে দুইটি অঞ্চল দেখা যায়। ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিন। ক্রোমাটিনের গাঢ় বর্ণের বেশি ঘন অঞ্চলকে হেটারোক্রোমাটিন এবং হালকা বর্ণের কম ঘন অঞ্চলকে ইউক্রোমাটিন বলে। ক্রোমাটিনের একক হলো নিউক্লিওসোম। হিস্টোন প্রোটিনকে আবৃত করে রাখলে যে মালার মতো গঠনের সৃষ্টি হয় তাকে নিউক্লিওসোম বলে। ক্রোমাটিনে পানি বিয়োজন ঘটে মোটা ও খাটো হলে তাকে ক্রোমোজোম বলে। প্রতিটি ক্রোমাটিনে DNA, হিস্টোন প্রোটিন ও নন-হিস্টোন প্রোটিন থাকে।

    নিউক্লিয়াস কী ? এর সংখ্যা ও অবস্থান

নিউক্লিয়াস (Nucleus)

ল্যাটিন শব্দ Nux-nut থেকে Nucleus নামের উৎপত্তি। কোষের প্রোটোপ্লাজমে অবস্থিত ঘন, অস্বচ্ছ ও গোলাকার অঙ্গাণু যা বংশগতি পদার্থ বহণ করে এবং কোষের অত্যাবশ্যকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রিকা বলে। একে কোষের প্রাণকেন্দ্র, কেন্দ্রিকা এবং মস্তিস্কও বলা হয়। ইহা কোষের সবচেয়ে বড় অঙ্গাণু। ১৮৩১ সালে রবার্ট ব্রাউন রাস্নার পাতা থেকে নিউক্লিয়াস আবিষ্কার করেন।

সংখ্যা ও অবস্থানঃ  সাধারণত প্রতিটি কোষে একটি করে নিউক্লিয়াস। তবে কোন কোন কোষে (Vaucheria, Botrydium, Shaeroplea, Penicillium, Paramecium) এর সংখ্যা বেশি থাকে। বহু নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট কোষের গঠনকে সিনোসাইট বলে। তবে সিভ-কোষ ও মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় ইহা থাকে না। গোলাকার নিউক্লিয়াসের ব্যাস এক মাইক্রোন। নিউক্লিয়াস কোষের ১০-১৫% স্থান দখল করে থাকতে পারে। স্পার্ম বা শুক্রাণুর প্রায় ৯০% নিউক্লিয়াস।

আকৃতিঃ  নিউক্লিয়াস সাধারণত বৃত্তাকার হয়। তবে উপবৃত্তাকার, প্যাচানো, ফিউজিফরম (মূলাকার), শ্বাখান্বিত প্রভৃতি হতে পারে।

লিনিয়াস-এর কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস

 

লিনিয়াসএর কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস

 

ক্যারোলাস লিনিয়াস ছিলেন সুইডেন দেশীয় প্রকৃতি বিজ্ঞানী। তাকে শ্রেণীবিন্যাসবিদ্যার জনক বলা হয়। তিনি জীবের দ্বিপদ নামকরণ প্রবর্তন করেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ঝঢ়বপরবং চষধহঃধৎঁস হলো। এই গ্রন্থে তিনি সকল উদ্ভিদের জন্য দ্বিপদ নাম ব্যবহার করেন। ঝঢ়বপরবং চষধহঃধৎঁস কে উদ্ভিদের আধুনিক নামকরণের শুরু হিসেবে ধরা হয়।

ক্যারোলাস লিনিয়াস এর শ্রেণীবিন্যাসকে যৌন শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি বলা হয়। এটি একটি কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস পদ্ধতি। তিনি উদ্ভিদের পুংকেশর স্ত্রীকেশরের বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদজগতকে ২৪টি শ্রেণী বহু বর্গে বিভক্ত করেন। ২৪টি শ্রেণীর মধ্যে ১টি অপুষ্পক উদ্ভিদের এবং ২৩টি সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণী।

থিয়োফ্রাস্টাস-এর কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস (Classification of Theophrastus)

থিয়োফ্রাস্টাসএর কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস (Classification of Theophrastus)

Theos অর্থ god এবং to phrase অর্থ devine expression হতে Theophrastus নামটি এসেছে। Theophrastus এর নাম ছিল Tyrtamus। তিনি চমৎকার ভাবে খুব সুন্দর বক্তব্য পেশ করতে পারতেন। তাই তাঁর নাম দেওয়া হয় Theophrastus। প্লেটো অ্যারিস্টোটল এর ছাত্র ছিলেন Theophrastus। তিনি ছিলেন বিখ্যাত গ্রিক উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং লাইসিয়াম গার্ডেনের প্রধান। তাঁকে উদ্ভিদবিজ্ঞানের জনক বলা হয়। তাঁর দুইটি বই অধিক পরিচিত। Enquiry into Plants (Hitoria Plantarum) On the Causes of Plants। তাঁর বইগুলো গ্রিক ভাষায় রচিত। Enquiry into Plants গ্রন্থটি Hitoria Plantarum নামে অধিক পরিচিত।Hitoria Plantarum গ্রন্থটি ১০ খন্ড দ্বারা গঠিত।

() এনাটমি

() বৃক্ষ বংশবিস্তার

 () বন্য বৃক্ষ

() বিদেশী বৃক্ষ গুল্ম

() কাষ্ঠ বৃক্ষ

() উপগুল্ম

() পটহার্বস

() শস্য লিগুম

() উদ্ভিদের ভেষজ ব্যবহার এবং

(১০) যা হারিয়ে গিয়েছে

Hitoria Plantarum  গ্রিক ভাষা থেকে ল্যাটিন অনুবাদ করেন Theodore Gaza এবং ইংরেজি অনুবাদ করেন Arthur Hort।

বিজ্ঞানী থিয়োফ্রাস্টাস উদ্ভিদের কান্ডের প্রকৃতি, বিস্তৃতি কাষ্ঠলতার উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে চারটি শ্রেণীতে ভাগ করেছেন।

১। ট্রি (Tree)

২। শ্রাব বা গুল্ম (Shrub)

৩। আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম (Under Shrub)

৪। হার্ব বা বীরুৎ (Herb)

 ১। ট্রি (Tree)ঃ একক কান্ডবিশিষ্ট শক্ত কাষ্ঠল উদ্ভিদকে ট্রি বা বৃক্ষ বলে। ইহা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। আমMangifera indica, কাঁঠালArtoccarpus heterophyllus, জামSyzygium cumini ইত্যাদি।

২। শ্রাব বা গুল্ম (Shrub) একক কান্ডবিহীন শক্ত কাষ্ঠল শাখাপ্রশাখাবিশিষ্ট ঝোপ জাতীয় উদ্ভিদকে শ্রাব বা গুল্ম বলে। ইহা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। জবাHibiscus rosa sinensis, রঙ্গনIxora coccinea, গন্ধরাজGardenia jasminoides ইত্যাদি।

৩। আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম (Under Shrub) শ্রাব এর চেয়ে ছোট কাষ্ঠল উদ্ভিকে বলা হয় আন্ডারশ্রাব বা উপগুল্ম বলে। ইহা বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। কাল্কাসুন্দাCassia sopera, আঁশ শেওড়াGlycosmis arborea, গোলাপRosa sinensis ইত্যাদি। 

৪। হার্ব বা বীরুৎ (Herb) নরম কান্ডবিশিষ্ট উদ্ভিকে হার্ব বা বীরুৎ বলে। ইহা বর্ষজীবী উদ্ভিদ। অধিকাংশ বীরুৎ একবার ফল দিয়ে মারা যায়। কাষ্ঠল কান্ডবিশিষ্ট হার্বকে উডি হার্ব বলে।  ধানOryza sativa, সরিষাBrassica npus, পাট-Corchorus olitorius ইত্যাদি।

আয়ুষ্কালের উপর ভিত্তি করে হার্বকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা

(i) বর্ষজীবী (Annual) এসব উদ্ভিদ এক ঋতু বা এক বছর এর কম সময় বেঁচে থাকে। সরিষাBrassica napus, ছোলা-Cicer arietinum, গম-Triticum aestivum ইত্যাদি।

(ii) দ্বিবর্ষজীবী (Biennual) এসব উদ্ভিদ দুই ঋতু বা বছর এর কম সময় বেঁচে থাকে। প্রথম বছর দৈহিক বৃদ্ধি লাভ করে এবং দ্বিতীয় বছর ফুল ফল হয়। মূলা-Raphanus sativus, ফুলকফপ-Brassica oleracea ইত্যাদি।

(iii) বহুবর্ষজীবী (Perennial ) এসব উদ্ভিদ দুই ঋতু বা বছর এর বেশি সময় বেঁচে থাকে। এদের ভূনি¤œস্থ কান্ড থেকে প্রতিবছর বায়বীয় কান্ড বের হয়। আদাZingiber officinale, হলুদ Curcuma domestica, দুর্বাঘাস-Cynodon dactylon  ইত্যাদি।

 শ্রেণীবিন্যাসের প্রকারভেদ (Type of Classification)

 শ্রেণীবিন্যাস তিন প্রকার

১। কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস যে শ্রেণীবিন্যাস উদ্ভিদের একটি বা বিশেষ কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয় তাকে কৃত্রিম শ্রেণীবিনাস বলে। থিওফ্রাস্টাস কারোলাস লিনিয়াস এর শ্রেণীবিন্যাস হলো কৃত্রিম শ্রেণীবিন্যাস।

২। প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস যে শ্রেণীবিন্যাস উদ্ভিদের অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয় তাকে প্রাকৃতিক শ্রেণীবিনাস বলে। বেনথামহুকার এর শ্রেণীবিন্যাস হলো প্রাকৃতিক শ্রেণীবিন্যাস।

৩। জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস যে শ্রেণীবিন্যাসে উদ্ভিদকে উৎপত্তিগত সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী আদি হতে আধুনিক ক্রমধারায় সাজানো হয় তাকে জাতিজনি শ্রেণীবিনাস বলে। এঙ্গলারপ্রান্টল, হাসিনসন, বেসি, ক্রনকুইস্ট তাখতাইয়ান এর শ্রেণীবিন্যাস হলো জাতিজনি শ্রেণীবিন্যাস।