RNA অণুর গঠন স্থায়ী। এর হেলিক্সের স্থানে স্থানে খাঁজ থাকার কারণে গঠন স্থায়ী হয়। খাঁজ গুলো বিশেষ নিয়মে সৃষ্টি হয়। এগুলোকে গৌণ কুন্ডলী বলে। গৌণ কুন্ডলীতে নাইট্রোজেন ক্ষারক গুলো হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা যুক্ত থাকে। জঘঅ অণুকে প্রধানত দু’টি ভাগে ভাগ করা যায়। জেনেটিক RNA ও নন-জেনেটিক RNA
জেনেটিক RNA
যে সব RNA বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে তাকে জেনেটিক RNA বলে। কতিপয় ভাইরাসে DNA এর পরিবর্তে RNA থাকে। এ সব RNA বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বহন করে। জেনেটিক RNA এনজাইম সংশ্লেষ ও প্রোটিন আবরণী সৃষ্টি করতে পারে। ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, TMV, HIV, রেবিস, রিও ভাইরাস, বামন ভাইরাস, রেট্রো ভাইরাস প্রভৃতি ভাইরাসে জেনেটিক RNA থাকে।
নন-জেনেটিক RNA
যে সব RNA বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে না তাকে নন-জেনেটিক RNA বলে। নন-জেনেটিক RNA হলো- tRNA, mRNA, rRNA
১। tRNAঃ যে সব RNA অ্যামাইনো এসিডকে প্রোটিন তৈরীর স্থান রাইবোসোমে বহন করে নিয়ে যায় তাকে tRNA বা ট্রান্সফার RNA বলে। ইহা সবচেয়ে ক্ষুদ্র RNA এবং এদের আণবিক ওজন ২৫,০০০ ডাল্টন। কোষের প্রায় ১৫% হলো tRNA। প্রতিটি tRNA অণু ৯০টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। ইহা কোষের নিউক্লিওলাসে উৎপন্ন হয়। tRNA অণুতে কিছু অস্বাভাবিক ক্ষারক থাকে। যেমন- ইনোসিনিক এসিড, থাইমিন প্রভৃতি। এরা অত্যন্ত স্থায়ী এবং কোষের জন্য প্রোটিন তৈরী করে। জীবদেহে প্রায় ১০০ ধরনের tRNA থাকে। একটি কোষে ৩১-৪২ ধরনের tRNA থাকে।
১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী আর. হোলি (R. Holley)-এর ক্লোভার লিফ বা লবঙ্গ পত্র মডেল অনুসারে tRNA অণু ৫টি বাহু নিয়ে গঠিত।
(i) গ্রাহক বাহুঃ tRNA-এর ৩ ও ৫ প্রান্ত পাশাপাশি অবস্থান করে গ্রাহক বাহু গঠন করে। এতে ৭ জোড়া ক্ষারক থাকে। এছাড়া ৩ প্রান্তে ৪টি অতিরিক্ত অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড আছে। ৩ প্রান্তে – CCA ক্রম এবং চতুর্থটি A অথবা G থাকে। CCA ক্রমকে অ্যামাইনো এসিড সংযুক্তির স্থান বলা হয়। এই স্থানে অ্যামাইনো এসিড সংযুক্ত হয়। ৫ প্রান্তে G অথবা C থাকে।
(ii) D বাহুঃ tRNA-এর দ্বিতীয় বাহু হলো D বাহু। ইহা ১৫-১৮টি নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত। D বাহু ৩-৪ জোড়া ক্ষারক দ্বারা এবং এর ফাঁস বা লুপ ৭টি অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। D বাহুর ফাঁসকে ফাঁস-১ বা Dihydrouridine বা D ফাঁস বলে।
(iii) অ্যান্টিকোডন বাহুঃ tRNA-এর তৃতীয় বাহুকে অ্যান্টিকোডন বাহু বলে। অ্যান্টিকোডন বাহু ৫ জোড়া ক্ষারক দ্বারা এবং এর ফাঁস বা লুপ ৭টি অযুগ্ন নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। এর ফাঁসকে ফাঁস-২ বলে। ফাঁস বা লুপের মাঝে ৩টি নিউক্লিওটাইড অ্যান্টিকোডন গঠন করে। প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় ইহা mRNA এর পরিপূরক কোডন হিসেবে কাজ করে।
(iv) পরিবর্তনশীল বাহুঃ পরিবর্তনশীল বাহু দুই ধরনের। কান্ডহীন এবং কান্ডযুক্ত বাহু। কান্ডহীন বাহুতে ৪-৫টি বেস এবং একটি ফাঁস থাকে। কান্ডযুক্ত বাহুতে ১৩-২১টি বেস এবং একটি ফাঁস থাকে।
(v) T বাহুঃ T বাহুতে কান্ড এবং ফাঁস উভয়ই আছে। এর কান্ড ৫ জোড়া ক্ষারক এবং ফাঁস ৭টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। T বাহুতে একটি রাইবোসোম স্থান থাকে। এর লুপে রাইবোথাইমিন, সিউডোইউরাসিল ও সাইটোসিন বেস থাকে।
প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় tRNA অ্যামাইনো এসিডকে mRNA এর কাছে বহন করে নিয়ে যায়।
২। mRNAঃ যে সব RNA কোষের DNA হতে বংশগতি বিষয়ক সংকেত বহন করে তাদেরকে mRNA বা messenger RNA বলে। একে টেমপ্লেট RNA বা মনোসিস্ট্রোনিক mRNA বলা হয়। ইহা এক সূত্রক এবং অত্যন্ত অস্থায়ী। এদের আণবিক ওজন ৫-২০ লক্ষ ডাল্টন। কোষের প্রায় ৫-১০% হলো mRNA।
mRNA এর গঠন
(i) গুয়ানিন ক্যাপঃ mRNA এর ৫ প্রান্তে গুয়ানিন যুক্ত হয়ে একটি টুপি বা ক্যাপ গঠন করে। একে গুয়ানিন ক্যাপ বলে। গুয়ানিন ক্যাপে ৭টি গুয়ানোসিন নিউক্লিওটাইড থাকে। ট্রান্সলেশনের সময় এই ক্যাপ রাইবোসোমের সংযুক্তি নিশ্চিত করে।
(ii) নন-কোডিং অঞ্চল-১ঃ যে অঞ্চল প্রোটিন সংশ্লেষণ করে না তাকে নন-কোডিং অঞ্চল বলে। টুপির পরে ১০-১০০টি নিউক্লিওটাইড নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। ইহা অ্যাডিনিন ও ইউরাসিল সমৃদ্ধ। এখানে ট্রান্সলেশন ঘটে না।
(iii) সূচনা কোডনঃ যে কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণ সূচনা করে তাকে সূচনা কোডন বলে। সূচনা কোডন হলো AUG। ইহা মেথিওনিন অ্যামাইনো এসিডকে সংযুক্ত করে।
(iv) কোডিং অঞ্চলঃ যে অঞ্চল প্রোটিন সংশ্লেষণ করে তাকে কোডিং অঞ্চল বলে। এই অঞ্চল ১৫০০টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। এই অঞ্চলে ট্রান্সলেশন ঘটে।
(v) সমাপ্তি কোডনঃ যে কোডন প্রোটিন সংশ্লেষণ সমাপ্তি ঘটায় তাকে সমাপ্তি কোডন বলে। সমাপ্তি কোডনগুলো হলো UAA, UAG ও UGA। এর যে কোন একটি কোডন উপস্থিত থাকলে প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়।
(vi) নন-কোডিং অঞ্চল-২ ঃ এই অঞ্চল ৫০-১৫০টি নিউক্লিওটাইড নিয়ে গঠিত। এখানে ট্রান্সলেশন হয় না।
(vii) পলি A টেইলঃ mRNA এর ৩ প্রান্তে অ্যাডিনিন যুক্ত হয়ে পলি A টেইল গঠন করে। ইহা ২০০-২৫০টি অ্যাডিনিন দ্বারা গঠিত।
কাজঃ mRNA নিউক্লিয়াস থেকে প্রোটিন তৈরীর সংকেত সাইটোপ্লাজমে বহন করে নিয়ে যায় এবং অ্যামাইনো এসিডের শৃঙ্খল তৈরী করে।
৩। rRNAঃ যে সব RNA রাইবোসোমের প্রধান গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে তাকে রাইবোসোমাল RNA বা rRNA বলে। এরা সর্বাপেক্ষা স্থায়ী এবং অদ্রবণীয়। কোষের ৮০-৯০% হলো rRNA। অর্থাৎ ইহা রাইবোসোমের প্রধান অংশ। এর আণবিক ওজন ৫-২০ লক্ষ ডাল্টন। প্রতিটি rRNA অণু প্রায় ৩,০০০টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা গঠিত। ইহা শাখাহীন এবং এক সূত্রক। তবে আয়নিক মাত্রা বেড়ে গেলে কোন কোন স্থানে দ্বি-সূত্রক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। দ্বি-সূত্রক অবস্থানে অ্যাডিনিন ও ইউরাসিল এবং গুয়ানিন ও সাইটোসিন জোড়া বাঁধে। rRNA প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন কণা গঠন করে। আদিকোষে তিন ধরনের (23S, 16S, 5S) এবং প্রকৃতকোষে চার (28S, 18S, 5.8S, 5S) ধরনের rRNA থাকে।
কাজঃ rRNA রাইবোসোম গঠন করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।
৪। মাইনর RNAঃ যে সব RNA প্রোটিনের সাথে মিশে এনজাইমের কাঠামো গঠন করে তাকে মাইনর RNA বলে। এরা সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। এতে এনজাইমের বৈশিষ্ট্য থাকে বলে এদেরকে রাইবোজাইমও বলা হয়। যেমন-রাইবোনিউক্লিওপ্রোটিন।
RNA এর গুরুত্ব
১। জেনেটিক RNA বংশগত বৈশিষ্ট্যাবলী বহন করে।
২। প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় tRNA অ্যামাইনো এসিডকে mRNA এর কাছে বহন করে নিয়ে যায়।
৩। mRNA নিউক্লিয়াস থেকে প্রোটিন তৈরীর সংকেত সাইটোপ্লাজমে বহন করে নিয়ে যায় এবং অ্যামাইনো এসিডের শৃঙ্খল তৈরী করে।
৪। rRNA রাইবোসোম গঠন করে এবং প্রোটিন সংশ্লেষণে সহায়তা করে।
৫। মাইনর RNA প্রোটিনের সাথে মিশে এনজাইমের কাঠামো গঠন করে।




