ইনসুলিন ।। ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়ার ধাপসমুহ

১। পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল সংশ্লেষণঃ  ইনসুলিন অণু দুইটি পলিনিউক্লিওটাইড শৃঙ্খল দ্বারা গঠিত। A শৃঙ্খল এবং B শৃঙ্খল। A শৃঙ্খল ২১টি এবং B শৃঙ্খল ৩০টি অ্যামাইনো এসিড দ্বারা গঠিত। পরীক্ষাগারে রাসায়নিক উপায়ে ৬৩টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা A শৃঙ্খল এবং ৯০টি নিউক্লিওটাইড দ্বারা B শৃঙ্খল তৈরী করা হয়। এরপর শৃঙ্খল দু’টি বিশুদ্ধ করা হয়।

২। রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরীঃ  বাহক ব্যাকটেরিয়া নির্বাচন করা হয়। ব্যাকটেরিয়া কোষ হতে প্লাজমিড DNA পৃথক করা হয়। রেস্ট্রিকশন এনজাইম প্রয়োগ করে A শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল হতে নির্দিষ্ট অংশ কর্তন করা হয়। আবার, একই এনজাইম প্রয়োগ করে প্লাজমিড DNA হতেও অনুরুপ অংশ কেটে ফেলা হয়। তবে প্লাজমিড DNA হতে এমন অংশটি কাটা হয়, যে অংশের জিন β গ্যালাক্টোসাইডেজ এনজাইম উৎপন্ন করে। এরপর লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে  A শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল পৃথক পৃথক প্লাজমিড DNA এর সাথে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। A শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল প্লাজমিড DNA এর সাথে সংযুক্তকরণের ফলে রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরী হয়ে যায়। এভাবে দুই ধরনের রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরী হয়। A শৃঙ্খল রিকম্বিন্যান্ট DNA এবং B শৃঙ্খল রিকম্বিন্যান্ট DNA।

৩। পোষক দেহে রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রবেশ করানোঃ রিকম্বিন্যান্ট DNA-কে ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়ায় পোষক ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ করানো হয়। এটি হিট-শক মেথড বা ইলেকট্রিক পালস্ মেথডে করা হয়। পোষককে (E. coli) প্রথমে CaCl2 দ্রবণে এবং পরে ১৪-১৬ ঘন্টা বরফে রাখা হয়। এতে পোষকের কোষপ্রাচীরে Ca লেগে থাকে। একটি পাত্রে পোষক ও রিকম্বিন্যান্ট DNA-এর মিশ্রণ ৩০ মিনিট বরফে, ৯০ সেকেন্ড ৪২০ সে তাপমাত্রায় এবং পুনরায় ২ মিনিট বরফে রাখা হয়। এতে পোষক (E. coli) রিকম্বিন্যান্ট DNA-কে শোষণ করে নেয়।

৪। জিন ক্লোনিংঃ রিকম্বিন্যান্ট DNAসহ পোষক (E. coli) ব্যাকটেরিয়াকে ফার্মেন্টেশন ট্যাংকের কালচার মিডিয়ামে জন্মানো হয়। E. coli ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রিকম্বিন্যান্ট DNA কপিও তৈরী হয়। ফলে β গ্যালাক্টোসাইডেজ A শৃঙ্খল এবং β গ্যালাক্টোসাইডেজ  B শৃঙ্খল  উৎপন্ন হয়। সেই সঙ্গে কিছু পরিমাণ মিথিওনিনও উৎপন্ন হয়।

৫। শৃঙ্খল দুটি পৃথকীকরণঃ কালচার মিডিয়াম থেকে পলিনিউক্লিওটাইডের A  শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল পৃথক করা হয়। এরপর সায়ানোজেন ব্রোমাইড প্রয়োগ করে A  শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খলের সাথে উৎপন্ন মিথিওনিন অপসারণ করা হয়। অতঃপর রাসায়নিক উপায়ে শৃঙ্খল দুটি বিশুদ্ধ করা হয়।

৬। ইনসুলিন অণু তৈরীঃ সালফোনেটিং প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম ডাইসালফোনেটিং ও সোডিয়াম সালফাইট এর উপস্থিতিতে নিউক্লিওটাইডের A শৃঙ্খল ও B শৃঙ্খল একত্রীকরণ করা হয়। অতঃপর ডাইসালফাইড বন্ধনী দ্বারা শৃঙ্খল দু’টি পুনঃসংযোজন করা হয়।

৭। ইনসুলিন বিশুদ্ধকরণঃ উৎপন্ন ইনসুলিনে ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব প্রোটিন থাকে। তাই আহরিত ইনসুলিনকে রাসায়নিক উপায়ে বিশুদ্ধ করা হয়।

৮। ইনসুলিন বাজার জাতকরণঃ বিশুদ্ধ ইনসুলিন উপযুক্ত এম্পুলে ভরা হয়। এরপর উহা বাজার জাত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *