দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের পাতলা প্রস্থচ্ছেদ পর্যবেক্ষণ করলে নি¤œলিখিত অংশ দেখা যায়।
১। এপিডার্মিস বা বহিঃত্বকঃ বহিঃত্বক একস্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং কোষাবকাশ অনুপস্থিত। এতে বহুকোষী কান্ডরোম বিদ্যমান। ত্বকের বাইরে কিউটিকল উপস্থিত।
২। অধঃত্বকঃ বহিঃত্বকের নিচে অধঃত্বক অবস্থিত। ইহা ৫–৭ স্তরবিশিষ্ট এবং কোলেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। এতে কোষাবকাশ নাই। কিছু কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
৩। কর্টেক্সঃ ইহা অধঃত্বকের নিচে ২/৩ স্তরবিশিষ্ট। ইহা ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো বড় এবং গোলাকার হওয়ায় আন্তঃকোষীয় ফাঁকা স্থান থাকে। ইহা খাদ্য সঞ্চয় করে।
৪। এন্ডোডার্মিস বা অন্তঃত্বকঃ কর্টেক্সের ভিতরের স্তরকে অন্তঃত্বক বলে। ইহা একস্তরবিশিষ্ট এবং পিপাকৃতির প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। কোষগুলো ঘনসন্নিবিষ্ট এবং ফাঁকবিহীন। এন্ডোডার্মিসে প্রচুর শ্বেতসার দানা জমা থাকে বলে একে স্টার্চ সীথ বা শ্বেতসার আবরণী (Starch sheath) বলে।
৫। স্টিলীঃ অন্তঃত্বকের নিচ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত অংশটি স্টিলী নামে পরিচিত। স্টিলীর বিভিন্ন অঞ্চল হলো–
(i) পেরিসাইকল বা পরিচক্রঃ পরিচক্র ৩–৪ স্তরবিশিষ্ট এবং প্যারেনকাইমা বা স্কে¬রেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত। ভাস্কুলার বান্ডলের মাথায় স্কে¬রেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত পরিচক্র টুপির মতো অবস্থান করে। একে গুচ্ছটুপি বা হার্ড বাস্ট বা Bundle cap বলে। শীর্ষক ভাজক টিস্যু হতে পরিচক্রের উৎপত্তি।
(ii) ভিত্তি টিস্যুঃ পরিচক্রের নিচে বহুস্তর বিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা ভিত্তি টিস্যু গঠিত। কোষগুলো বড় এবং প্রাচীর খুব পাতলা। এই স্তরের মধ্যে ভাস্কুলার বান্ডল অবস্থিত।
(iii) ভাস্কুলার বান্ডলঃ ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা অনেক এবং বলয়াকারে দুই সারিতে সাজানো। ইহা সংযুক্ত, সমপার্শ্বীয় এবং মুক্ত। এর উপাদান গুলো হলো–
জাইলেমঃ মেটাজাইলেম পরিধির দিকে এবং প্রোটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে অর্থাৎ এন্ডার্ক। বহিঃক্যাম্বিয়াম এবং অন্তঃক্যাম্বিয়াম এর মাঝখানে জাইলেম অবস্থিত। ইহা পানি পরিবহন করে। জাইলেম নষ্ট হয়ে লাইসিজেনাস গহŸর সৃষ্টি করেছে।
ফ্লোয়েমঃ জাইলেমের উভয় পাশে ফ্লোয়েম অবস্থিত। জাইলেমের বাইরের দিকের ফ্লোয়েমকে বহিঃফ্লোয়েম এবং ভিতরের দিকের ফ্লোয়েমকে অন্তঃফ্লোয়েম বলে। ইহা খাদ্য পরিবহন করে।
ক্যাম্বিয়ামঃ জাইলেমের উভয় পাশে ক্যাম্বিয়াম অবস্থিত। জাইলেমের বাইরের দিকের ক্যাম্বিয়ামকে বহিঃক্যাম্বিয়াম এবং ভিতরের দিকের ক্যাম্বিয়ামকে অন্তঃক্যাম্বিয়াম বলে। ইহা নতুন কোষ সৃষ্টি করে।