১। শাখা কলম (Cutting)ঃ উদ্ভিদের শাখা কেটে মাটিতে লাগিয়ে নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন করাকে শাখা কলম বলে। শাখাকলম তিন ধরনের। মাটির শাখা কলম, পানির শাখা কলম এবং বালির শাখা কলম। গোলাপ, আখ, জবা, পাতাবাহার, মাদার, জিগা, সজিনা, কমলালেবু, আপেল, ক্রোটন, মেহেদী ইত্যাদি উদ্ভিদে শাখা কলম করা যায়।
২। দাবা কলম (Layering)ঃ উদ্ভিদের মাটি সংলগ্ন শাখার কিছু অংশ কয়েক সপ্তাহ মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখলে অস্থানিক মূল বের হয়। এই অংশটি থেকে পরে নতুন উদ্ভিদের জন্ম হয়। বিভিন্ন ধরনের দাবা কলম হলো- সরল দাবা কলম, যৌগিক দাবা কলম ও পরিখা দাবা কলম। চন্দ্রমল্লিকা, স্ট্রবেরি, আপেল, আঙ্গুর, ডালিম, সফেদা, জুঁই, লেবু ইত্যাদি উদ্ভিদে শাখা কলম করা যায়।
৩। জোড় কলম (Grafting)ঃ একটি উদ্ভিদের অংশের সাথে অপর একটি উদ্ভিদ অংশ যুক্ত করে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে জোড় কলম বলে। যে উদ্ভিদ অংশটি যুক্ত করা হয় তাকে সায়ন (scion) বলে। সায়নকে যে উদ্ভিদের সাথে সংযুক্ত করা হয় তাকে স্টক (stock) বলে। স্টক একটি টবে লাগানো হয়। পরে স্টকের সাথে কাক্সিক্ষত সায়ন সংযুক্ত করা হয়। স্টক নিম্নমানের উদ্ভিদ হতে পারে। কিন্তু সায়ন উন্নতমানের হতে হয়। সাধারণত ফুল ও ফল গাছে জোড় কলম করা হয়। কুল, আম, জাম, লিচু, পেঁয়ারা, চাঁপা, ম্যাগনোলিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদে জোড় কলম করা হয়।
৪। গুটি কলম (Gootee)ঃ গুটি কলমের জন্য শক্ত কান্ডবিশিষ্ট গাছের শাখা নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত শাখার গোঁড়ার দিকে কয়েক সেমি বাকল ছাড়িয়ে নেয়া হয়। বাকল ছাড়ানো স্থানটি মাটি, গোবর ও খড় দিয়ে ঢেকে শক্ত করে বেঁধে দেয়া হয়। নিয়মিত পানি দিলে কিছু দিন পর সে স্থান থেকে অস্থানিক মূল বের হয়। মূলসহ শাখাটি কেটে মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। আম, লেবু, কমলালেবু, গোলাপ, গন্ধরাজ, বাগান বিলাস, লিচু, লটকন, সফেদা, জামরুল প্রভৃতি উদ্ভিদে গুটি কলম করা যায়।
৫। চোখ কলম (Budding)ঃ এক উদ্ভিদ থেকে কুঁড়ি বা চোখ অন্য উদ্ভিদে যুক্ত করাকে চোখ কলম বলে। কাক্সিক্ষত ফলন বিশিষ্ট উদ্ভিদের চোখ বা কুঁড়ি সাবধানে চাকু দিয়ে কেটে আলাদা করা হয়। এরপর একই প্রজাতির অন্য একটি উদ্ভিদের শাখার সমব্যাস যুক্ত অংশ কাটা হয়। এই শাখার সাথে কাক্সিক্ষত কুঁড়িটি লাগিয়ে দেয়া হয়। এরপর বায়ুরোধী করে বেঁধে দেয়া হয়। কিছু দিনের মধ্যে মুকুল গজিয়ে ঐ শাখা কাক্সিক্ষত গুণসম্পন্ন ফল উৎপন্ন করবে। ফল গাছ বিশেষ করে কুল বা বড়ই এবং গোলাপ গাছে চোখ কলম করা হয়।
৬। টিস্যু কালচার (Tissue culture)ঃ টিস্যু কালচার একটি আধুনিক জীবপ্রযুক্তি। মাইক্রোপ্রোপাগেশন এর মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র টিস্যু থেকে অসংখ্য চারা সৃষ্টি করা হয়। কাংক্ষিত উদ্ভিদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে কলা, আলু, বেল, স্ট্রবেরী, স্টেভিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, লিলি, অর্কিড, গ্ল্যাডিওলাস, লালপাতা প্রভৃতি উদ্ভিদের চারা উৎপন্ন করা হয়।