যে প্রক্রিয়ায় বিপাক ক্রিয়ার ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ দেহের বাইরে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে। ঘাস ফড়িং-এর রেচন প্রক্রিয়া নিচে আলোচনা করা হলো।
১। মালপিজিয়ান নালিকাঃ মালপিজিয়ান নালিকা রক্ত হতে পানি, পটাশিয়াম ইউরেট ও CO2 শোষণ করে। নালিকার ভিতরে পানি, CO2 ও পটাশিয়াম ইউরেট একত্রে বিক্রিয়া করে পটাশিয়াম বাই কার্বনেট ও ইউরিক এসিড উৎপন্ন করে। এদের মধ্যে পটাশিয়াম বাই কার্বনেট ও পানি পুনঃশোষিত হয়ে রক্তে ফিরে যায়। অপরদিকে, ইউরিক এসিড মলাশয়ে চলে যায়। মলাশয়ে ইউরিক এসিড থেকে অতিরিক্ত পানি শোষিত হয় এবং বিশুদ্ধ ইউরিক এসিড মলের সাথে দেহের বাইরে নির্গত হয়।
রক্ত ———— পানি + পটাশিয়াম ইউরেট + CO2
পানি + পটাশিয়াম ইউরেট + CO2 —– পটাশিয়াম বাই কার্বনেট + ইউরিক এসিড
২। ইউরেট কোষঃ যে কোষ ইউরিয়াকে ইউরেট হিসেবে জমা রাখে তাকে ইউরেট কোষ বলে। ইউরেট কোষ প্রধানত প্রোটিন, শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাদ্যকে পরিবর্তিত উপাদান হিসেবে সঞ্চিত রাখে। এছাড়া ইহা হিমোলিম্ফে বিদ্যমান কিছু ইউরিক এসিডকে ইউরেট হিসেবে জমা রাখে।
৩। ইউরিকোস গ্রন্থিঃ পুরুষ ঘাস ঘড়িং-এর মাশরুম গ্রন্থিতে ইউরিকোস গ্রন্থি থাকে। এরা হিমোসিল থেকে রেচন দ্রব্য শোষণ করে ইউরিক এসিড হিসেবে জমা রাখে। ইউরিক এসিড পরে শুক্রাণুর সাথে বাইরে নির্গত হয়
৪। কিউটিকলঃ নিম্ফ দশায় হিমোসিলে ভাসমান অ্যামিবোসাইট কোষ থাকে। এ সব কোষ রক্ত থেকে রেচন দ্রব্য সংগ্রহ করে কিউটিকলের নিচে জমা রাখে। খোলস মোচনের সময় পুরাতন কিউটিকলসহ সঞ্চিত রেচন দ্রব্য বাইরে নির্গত হয়।