জৈবপ্রযুক্তি ।। সিউয়েজ বা পয়ঃবর্জ্য আত্মীকণে জৈব প্রযুক্তি

গৃহস্থলী, কৃষি খামার, গোয়ালঘর, পোল্ট্রি খামার, মলমূত্র এবং গোসলখানার সাবান ডিটারজেন্ট সমৃদ্ধ তরল বর্জ্যকে সিউয়েজ বলে। দুষিত পানি ব্যবহার করে কলেরা, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, খোসপচড়া প্রভৃতি মারাত্বক রোগ হয়।

বর্তমানে সারা বিশে^ এক্টিভেটেড স্ল্যাজ পদ্ধতিতে সিউয়েজ পরিশোধন করে পরিশোধিত পানি নদী বা হ্রদে ফেলা হয়। এই পদ্ধতিতে অ্যারেশন ট্যাংক এবং সেডিমেন্টেশন ট্যাংক ব্যবহার করা হয়। অ্যারেশন ট্যাংকে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য অণুজীব বাস করে। এসব অণুজীব সিউয়েজের জৈব বস্তুকে ভেঙ্গে CO2 ও পানিতে পরিনত করে। সেডিমেন্টেশন ট্যাংকে পানিকে স্থিতিশীল রাখা হয়। এই ট্যাংকে পরিশোধিত পানি থাকে এবং পানির নিচে তলানি জমা হয়। পরিশোধিত পানি নদী বা হ্রদে ছাড়া হয়। তলানি সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে Zooglea ramigera ব্যাকটেরিয়া উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

পৃথিবীর উন্নত দেশে সিউয়েজকে অন্যান্য আবর্জনার সাথে মিশিয়ে তিনটি পদ্ধতিতে আত্তীকরণ করা হয়।

১। যান্ত্রিক পদ্ধতিঃ পানিতে অদ্রবণীয় শক্ত ও বৃহৎ সিউয়েজ পৃথক করে উচ্চতাপে এবং রাসায়নিক উপায়ে জীবাণু মুক্ত পাউডারে পরিনত করা হয়। এই পাউডার থেকে মুল্যবান জৈব ও অজৈব সার তৈরী করা হয়।

২। জৈব প্রযুক্তিঃ পানিতে দ্রবণীয় সিউয়েজকে বায়ু প্রবাহ এবং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচন ঘটানো হয়। পরে এই দ্রবণে ক্লোরিন যুক্ত করা হয়। ফলে পানি ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হয়।

৩। রাসায়নিক পরিশোধনঃ পরবর্তী পর্যায়ে রাসায়নিক উপায়ে পানিকে নাইট্রেট ও ফসফেট মুক্ত করে বিশুদ্ধ করা হয়।

এ সব বর্জ্য জলাশয়ে জমা হয়ে পানিকে দুষিত করে।

Pseudomonas, Achromobacter, Enterobacter, Flavobacterium, Zooglea, Micrococcus, Arthrobacter, Sphaerotilus  প্রভৃতি ব্যবহার করে এ সব বর্জ্য আত্মীকরণ করা হয়। সিউয়েজের জৈব বর্জ্যকে ভেঙ্গে মিথেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন করা হয়। উৎপন্ন মিথেন শোধনাগারে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।

 

তথ্যবহুল, আকর্ষণীয় ৮০০ পৃষ্ঠার এই বইটি ক্রয়ের জন্য যোগাযোগ-01511483701

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq