নিউক্লিয়াসের গঠন

নিউক্লিয়াসের গঠন (Structure of Nucleus)

প্রতিটি নিউক্লয়াস ৪ টি অংশ নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো-
১। নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বা এনভেলপঃ  নিউক্লিয়াস যে পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে তাকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বলে। একে এনভেলপ, নিউক্লিওলেমা বা ক্যারিওথিকা বলা হয়। নিউক্লিয়ার মেমব্রেণ দুই স্তর বিশিষ্ট। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। এরা ফসফোলিপিড দ্বারা গঠিত। আবরণী দু’টির মাঝখানের ফাঁকা স্থানকে পেরিনিউক্লিয়ার স্থান বলে। এর দুরত্ব ১০-১৫ nm। বহিঃআবরণীতে অষ্টভূজাকৃতির ছিদ্র যুক্ত। ছিদ্র গুলোকে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে। নিউক্লিয়ার মেমব্রেণে ৩০০টি নিউক্লিয়ার রন্ধ্র থাকে। প্রতিটি রন্ধ্রের ব্যাস ৯ nm। রন্ধ্রগুলো সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। নিউক্লিয়ার রন্ধে অ্যানুলাস থাকে। অ্যানুলাসে ৮টি করে দানাদার প্রান্তীয় প্রোটিন থাকে। প্রান্তীয় প্রোটিন গুলো পরস্পর স্পোক দ্বারা যুক্ত থাকে। নিউক্লিয়ার ছিদ্রের কেন্দ্রে ট্রান্সপোর্টার নামে একটি বড় প্রোটিন থাকে। ট্রান্সপোর্টারটি অ্যাংকার প্রোটিন দ্বারা এনভেলপের সাথে যুক্ত থাকে। প্রোটিনের সাথে সাব-ইউনিট ও ফাইবার থাকতে পারে। নিউক্লিয়াসের ভিতরে একটি ফাইবার খাঁচা থাকে। ফাইবার খাঁচার সাথে প্রোটিন গুলো ঝুলে থাকে।
২। নিউক্লিওপ্লাজমঃ  নিউক্লিয়ার মেমব্রেণের ভিতরে যে স্বচ্ছ, দানাদার ও জেলীর মতো অর্ধ-তরল পদার্থ থাকে তাকে নিউক্লিওপ্লাজম বা ক্যারিওলিম্ফ বলে। একে নিউক্লিয়াসের প্রোটোপ্লাজমিক রস বলা হয় । এতে নিউক্লিওলাস ও ক্রোমোজোম অবস্থান করে। ইহা প্রধানত প্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহাতে DNA, RNA, ফসফোপ্রোটিন, হিস্টোন প্রোটিন, এনজাইম ও খনিজ লবণ থাকে।
৩। নিউক্লিওলাসঃ  নিউক্লিয়াসের ভিতরে যে ঘন, উজ্জ্বল, গোলাকার ও বস্তু দেখা যায় তাকে নিউক্লিওলাস বলে। প্রতিটি নিউক্লিওলাস তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। পার্স অ্যামরফা, নিউক্লিওলোনিমা এবং মাতৃকা। নিউক্লিওলাসের চারিদিকের অংশকে পার্স অ্যামরফা, মধ্যভাগের অংশকে নিউক্লিওলোনিমা এবং ভিতরের তরল অংশকে মাতৃকা বলে। যে কোষে প্রোটিন সংশ্লেষণ হয় না সে কোষে নিউক্লিওলাস থাকে না। ইহা একটি ক্রোমোজোমের সাথে যুক্ত থাকে। এই ক্রোমোজোমটিকে নিউক্লিওলাস অর্গানাইজার বলে। ক্রোমোজোমের যে স্থানে নিউক্লিওলাস যুক্ত থাকে সে স্থানকে SAT বা সেটেলাইট বলে। নিউক্লিওলাসে DNA, RNA, প্রোটিন, লিপিড, এনজাইম, ফসফোরাস, সালফার, পটাশিয়াম প্রভৃতি থাকে। ১৭৮১ সালে বিজ্ঞানী ফন্টানা সর্বপ্রথম নিউক্লিওলাস দেখতে পান। ১৮৪০ সালে বোম্যান এর নামকরণ করেন।
৪। ক্রোমাটিনঃ  নিউক্লয়াসের ভিতরে যে সুক্ষ্ম সুতার মতো প্যাচানো গঠন দেখা যায় তাকে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বা ক্রোমাটিন তন্তু বলে। কোষকে রঞ্জিত করার সময় ইহা কিছু মৌলিক বর্ণ (ফুলজিন রং) ধারণ করে বলে একে ক্রোমাটিন বলা হয়। বর্ণ ধারণ ক্ষমতার কারণে ক্রোমাটিনে দুইটি অঞ্চল দেখা যায়। ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিন। ক্রোমাটিনের গাঢ় বর্ণের বেশি ঘন অঞ্চলকে হেটারোক্রোমাটিন এবং হালকা বর্ণের কম ঘন অঞ্চলকে ইউক্রোমাটিন বলে। ক্রোমাটিনের একক হলো নিউক্লিওসোম। হিস্টোন প্রোটিনকে আবৃত করে রাখলে যে মালার মতো গঠনের সৃষ্টি হয় তাকে নিউক্লিওসোম বলে। ক্রোমাটিনে পানি বিয়োজন ঘটে মোটা ও খাটো হলে তাকে ক্রোমোজোম বলে। প্রতিটি ক্রোমাটিনে DNA, হিস্টোন প্রোটিন ও নন-হিস্টোন প্রোটিন থাকে।

One thought on “নিউক্লিয়াসের গঠন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *