১। ধান (Oryza sativa)ঃ ধান হলো পৃথিবীর প্রধান খাদ্যশস্য। ধানের চাল থেকে ভাত, চিড়া, মুড়ি, পিঠা, পায়েস প্রভৃতি তৈরী করা হয়। এর খড় গো-খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। ধানের কুড়া থেকে ভোজ্য তেল ও হাঁস-মুরগীর খাদ্য তৈরী করা হয়। উপজাতীয় অঞ্চলে চাল থেকে দেশী মদ তৈরী করা হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স ২। গম (Triticum aestivum)ঃ গম হলো পৃথিবীর দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য। গম থেকে আটা, ময়দা, সুজি প্রভৃতি পাওয়া যায়। রুটি, পাউরুটি, পরোটা, সিঙ্গারা, বিস্কুট প্রভৃতি তৈরীতে ইহা ব্যবহার হয়। এর খড় গো-খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।
৩। ভূট্রা (Zea mays)ঃ ভূট্রা থেকে পপকন, খই, কর্ণফ্লেক্স প্রভৃতি তৈরী হয়। ইহা হাঁস-মুরগীর খাদ্য ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৪। যব বা বার্লি (Hordeum vulgare)ঃ যব বা বার্লি থেকে আটা পাওয়া যায়। যবের ছাতু সহজপ্রাচ্য ও স্বাস্থ্যপ্রদ খাদ্য। ইহা হরলিক্স ও কমপ্ল্যান খাদ্য তৈরীতে ব্যবহার হয়।
৫। কাউন (Setaria italica)ঃ কাউনের চাউল থেকে ভাত, পিঠা, পায়েস, দুধি, ক্ষির প্রভৃতি তৈরী হয়। ইহা হাঁস-মুরগী ও গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।
৬। আখ (Saccharum officinarum)ঃ আখ থেকে গুড় ও চিনি পাওয়া যায়। চিটাগুড় বা মলাসেস থেকে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল, ভিনেগার, মেথিলেটেড স্পিরিট, দেশী মদ প্রভৃতি তৈরী করা হয়। আখের ছোবড়া থেকে কাগজ ও পারটেক্স তৈরী করা হয়। ইহা থেকে জ্বালানি পাওয়া যায়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৭। বাঁশ (Bambusa tulda)ঃ বাঁশ হলো উঁচু বৃক্ষ জাতীয় আদি ঘাস। বাংলাদেশে ২৮ প্রজাতির বাঁশ জন্মে। বাঁশ কাষ্ঠল, বৃক্ষ জাতীয় এবং উঁচু। এর পুষ্পের বৈশিষ্ট্য, ফাঁপা পর্বমধ্য এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ঘাসের মতো। তাই একে ঘাস বলা হয়। ইহা গৃহসজ্জা ও আসবাবপত্র তৈরীতে ব্যবহার হয়। আমাদের দৈনন্দিন কর্মকান্ডে বাঁশের গুরুত্ব অপরিসীম। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৮। দুর্বাঘাস (Cynodon dactylon)ঃ দুর্বাঘাস লন তৈরী, পশু খাদ্য এবং ওষুধি উদ্ভিদ হিসেবে ব্যবহার হয়। ইহা রক্তপাত বন্ধ ও ক্ষত নিরাময়ে ভেষজ হিসেবে কাজ করে।
৯। লেমন ঘাস (Cymbopogon citranus)ঃ লেমন ঘাস হলো লেবুর গন্ধযুক্ত ঘাস। ইহা সুগন্ধি তেল ও প্রসাধনী তৈরীতে ব্যবহার হয়। চাইনিজ স্যুপ তৈরীতেও ইহা ব্যবহার হয়। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১০। ঝাড়– ঘাস (Thysanolaema maxima)ঃ এই ঘাস দিয়ে ঝাড়– তৈরী করা হয় বলে একে ঝাড়– ঘাস বলা হয়। ইহা পাহাড়ী অঞ্চলে জন্মে। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১১। নলখাগড়া (Phragmites karka)ঃ কাগজের মন্ড এবং বহুবিধ জিনিস তৈরীতে নলখাগড়া ব্যবহার হয়। ইহা জলাময় অঞ্চলে জন্মে। ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১২। ওট (Avena sativa)ঃ এই উদ্ভিদ খাদ্য শস্য উৎপাদন করে।
১৩। চোরকাঁটা (Andropogon aciculatus)ঃ চোরকাঁটা হলো একটি সাধারণ আগাছা।
পোয়েসী গোত্রের আরো কয়েকটি উদ্ভিদঃ জোয়ার (Sorghum vulgare), বাজরা (Pennisetum typhoides), মূলী বাঁশ (Melocanna bambusoides), কাশফুল (Saccharum spontaneum), চিনা (Panicum miliaceum), ছন/উলুখড় (Imperata cylindrica), ইকড় (Eranthus ravannae), গন্ধবেনা (Vetiveria zizanioides) প্রভৃতি।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স