যে প্রক্রিয়ায় প্রোটন ও অ্যানায়ন সহ অবস্থানের মাধ্যমে কোষের বাইরে থেকে কোষের ভিতরে প্রবেশ করে তাকে প্রোটন-অ্যানায়ন সহপরিবহন মতবাদ বলে। এই মতবাদটি পিটার মিশেল (Peter Mitchel, ১৯৬৮) এর কেমি-অসমোটিক মডেলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।
এই মতবাদ অনুসারে একটি নির্দিষ্ট আয়ন একটি নির্দিষ্ট বাহক দ্বারা পরিবাহিত হয়। কোষঝিল্লিতে ATP থাকে। ATP-ase এনজাইম ATP-কে ভেঙ্গে শক্তি উৎপন্ন করে। এই শক্তির প্রভাবে কোষের ভিতরের তল থেকে প্রোটন (H+) কোষের বাইরের তলে আসে। এই ঘটনাকে প্রোটন পাম্প বলে। এতে কোষের ভিতরের তলে pH বেড়ে যায় এবং বাইরের তলে pH কমে যায়। এই ঘটনাকে pH gradient বলে। একই কারণে কোষের ভিতরের তলে + চার্জ কমে যায় এবং বাইরের তলে+ চার্জ বেড়ে যায়। এই ঘটনাকে Protential gradient বলে। pH gradient I Protential gradient-কে একত্রে Proton Motive Force (PMF) বলে। Proton Motive Force সৃষ্টি হলে কোষের বাইরের তলে বিদ্যমান নিষ্ক্রিয় প্রোটিনগুলো সক্রিয় প্রোটিনে পরিনত হয়। সক্রিয় প্রোটিনগুলো বাহক হিসেবে কাজ করে এবং কোষের বাইরের তল থেকে কোষের ভিতরের তলে ক্যাটায়ন (K+) বহন করে আনে। এতে কোষের ভিতরের তলে ক্যাটায়নের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে কোষের বাইরের তল থেকে প্রোটন (H+) কোষের ভিতরের তলে প্রবেশ করতে চায়। তখন প্রোটন ও অ্যানায়ন সহঅবস্থানের মাধ্যমে কোষের বাইরের তল হতে কোষের ভিতরের তলে প্রবেশ করে। পরে অ্যানায়ন ও ক্যাটায়ন মিলিত হয়ে কোষের খনিজ লবণের চাহিদা পুরণ করে।