প্রোটোপ্লাস্ট কী । প্রোটোপ্লাজমের বৈশিষ্ট্য । প্রাটোপ্লাজমের রাসায়নিক উপাদান ও গঠন । চলন, কাজ বা গুরুত্ব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

প্রোটোপ্লাস্ট (Protoplast)

গ্রীক শব্দ Protoplastos  অর্থ first formed হতে Protoplast শব্দটি গঠিত। কোষপ্রাচীর ব্যতীত কোষের সকল অংশকে প্রোটোপ্লাস্ট বলে। ১৮৮০ সালে Hanstein সর্বপ্রথম প্রোটোপ্লাস্ট শব্দটি ব্যবহার করেন। কৃত্রিম উপায়ে যে প্রোটোপ্লাস্ট তৈরী করা হয় তাকে আইসোলেটেড প্রোটোপ্লাস্ট বলে।

 

প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm)

গ্রীক শব্দ Protos অর্থ আদি এবং plasma নিয়ে Protoplasm  শব্দটি গঠিত। কোষ ঝিল্লির ভিতরে অবস্থিত  অর্ধস্বচ্ছ, আঠালো, বর্ণহীন ও জেলির ন্যায় কলয়েডধর্মী সজীব অংশকে প্রোটোপ্লাজম বলে। ইহা জীবের সকল কার্যাবলি সম্পন্ন করে বলে একে জীবনের ভৌত ভিত্তি বা vivum fluidum বলা হয়। ১৮৪০ সালে পারকিনজে (Purkinje) সর্বপ্রথম Protoplasm  শব্দটি ব্যবহার করেন। ১৮৬৮ সালে Huxley  প্রোটোপ্লাজমকে জীবনের ভৌত ভিত্তি নামে অভিহিত করেন। Wilson এর মতে, প্রোটোপ্লাজম হলো রাসায়নিক পদার্থের সমষ্টি মাত্র। প্রোটোপ্লাজমের প্রধান অংশ তিনটি। কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস।

 

প্রোটোপ্লাজমের বৈশিষ্ট্য (Characters of Protoplasm)

১। প্রোটোপ্লাজম হলো অর্ধস্বচ্ছ, বর্ণহীন, জেলির ন্যায় এবং আঠালো।

২। ইহা দানাদার ও কলয়েডধর্মী।

৩। এর কলয়েড বস্তুকণা সমধর্মী বৈদ্যুতিক চার্জ বহন করে।

৪। এর আপেক্ষিক গুরুত্ব পানির চেয়ে বেশি।

৫। ইহা দেহের সকল মৌলিক জৈবিক কাজ সম্পন্ন করে (শ্বসন, চলন, রেচন, প্রজনন)।

৬। ইহা তাপ, এসিড ও অ্যালকোহলের প্রভাবে জমাট বাঁধে

৭। ইহা সর্বদা গতিশীল এবং এর গতিময় চলনকে সাইক্লোসিস বলে (যেমন- Tradescantia)।

৮। ইহা আঁকাবাঁকা (zig zag) বিচলন প্রদর্শন করে। একে ব্রাউনিয়ান বিচলন (Brownian movement) বলে।

৯। সল থেকে জেল এবং জেল থেকে সল হয়।

১০। মিলিপোর ফিল্টার পেপার দ্বারা প্রোটোপ্লাজমের কণাকে আলাদা করা যায়।

১১। এর মৃত্যু ঘটে।

 

প্রোটোপ্লাজমের রাসায়নিক উপাদান
১। প্রোটোপ্লাজমের প্রধান রাসায়নিক উপাদান পানি। এতে পানির পরিমাণ ৭০%-৯০%।
২। শুষ্ক প্রোটোপ্লাজমের ৪৫% প্রোটিন, ২৫% লিপিড, ২৫% কার্বোহাইড্রেট এবং ৫% অন্যান্য বস্তু থাকে।
৩। প্রোটোপ্লাজমের প্রধান জৈব উপাদান হলো প্রোটিন ও নাইট্রোজেন যৌগ।
৪। এতে অল্প পরিমাণ তরল চর্বি ও তৈল থাকে।
৫। এর খনিজ উপাদান হলো ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, আয়রন ইত্যাদি।

 

প্রোটোপ্লাজমের গঠন সম্পর্কে মতবাদ
১। রেটিক্যুলার মতবাদঃ বিজ্ঞানী Frommann (১৮৬৫) এর মতে, ভিত্তি পদার্থের উপর জালিকাময় তন্তু দ্বারা প্রোটোপ্লাজম গঠিত।
২। গ্র্যানুলার মতবাদঃ বিজ্ঞানী Altman (১৮৮৬) এর মতে, প্রোটোপ্লাজম হলো অসংখ্য ক্ষুদ্র ও বৃহদাকার বায়োব্লাস্ট যুক্ত দানাদার তরল পদার্থ।
৩। অ্যালভিওলার মতবাদঃ বিজ্ঞানী Butschli (১৮৯২) এর মতে, প্রোটোপ্লাজম হলো সাবানের ফেনার মতো অসংখ্য অ্যালভিওলাই যুক্ত কিংবা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বুদবুদ যুক্ত।
৪। কোলয়েড মতবাদঃ বিজ্ঞানী Wilson ও Fishar (১৮৯৪) এর মতে, প্রোটোপ্লাজম আংশিক ভাবে তরল এবং আংশিক ভাবে কোলয়েডধর্মী।

 

প্রোটোপ্লাজমের চলন

প্রোটোপ্লাজম সর্বদা গতিময় চলন প্রদর্শন করে। প্রোটোপ্লাজমের গতিময় চলনকে আবর্তন বা সাইক্লোসিস বলে। ইহা আঁকাবাঁকা (zig zag) বিচলন প্রদর্শন করে, একে ব্রাউনিয়ান বিচলন বলে। ইহা দুই ধরণের চলন প্রদর্শন করে।
১। একমুখী সাইক্লোসিসঃ যে চলনে প্রোটোপ্লাজম একটি গহ্বরকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট পথে একদিকে ঘুরতে থাকে তাকে একমুখী সাইক্লোসিস বলে। পাতা ঝাঁঝির প্রোটোপ্লাজমের চলন একমুখী।
২। বহুমুখী সাইক্লোসিসঃ যে চলনে প্রোটোপ্লাজম কয়েকটি গহ্বরকে কেন্দ্র করে অনিয়মিত ভাবে বিভিন্ন দিকে ঘুরতে থাকে তাকে বহুমুখী সাইক্লোসিস বলে। Tradescantia-র প্রোটোপ্লাজমের চলন একমুখী।

প্রোটোপ্লাজমের কাজ/গুরুত্ব
১। প্রোটোপ্লাজম হলো জীবনের ভৌত ভিত্তি।
২। ইহা কোষের মূল উপাদান। কোষের সকল অঙ্গাণু ধারণ করে।
৩। ইহা কোষের জন্য পানি ধারণ করে।
৪। ইহা বংশবিস্তার ঘটায়।
৫। ইহা দৈহিক বৃদ্ধি ঘটায়।
৬। কোষে আয়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে।

One thought on “প্রোটোপ্লাস্ট কী । প্রোটোপ্লাজমের বৈশিষ্ট্য । প্রাটোপ্লাজমের রাসায়নিক উপাদান ও গঠন । চলন, কাজ বা গুরুত্ব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq