ফল । ফলের প্রকারভেদ আলোচনা । Friut

১। প্রকৃত ফলঃ ফুলের গর্ভাশয় থেকে যে ফল সৃষ্টি হয় তাকে প্রকৃত ফল বলে। যেমন- আম, জাম, লিচু, পেয়ারা।
২। অপ্রকৃত ফলঃ ফুলের গর্ভাশয় ব্যতীত অন্যান্য অংশ থেকে যে ফল সৃষ্টি হয় তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। যেমন- আপেল, চালতা, ডুমুর, কাঁঠাল, আনারস প্রভৃতি।
৩। একক ফলঃ একটি পুষ্প হতে একটি ফল সৃষ্টি হলে তাকে একক ফল বলে। যেমন- আম, জাম, লিচু, ধান।
৪। গুচ্ছ ফলঃ ফুলের প্রতিটি গর্ভাশয় ফলে পরিনত হলে তাকে গুচ্ছ ফল বলে। যেমন- আতা, স্ট্রবেরী প্রভৃতি।
৫। যৌগিক ফলঃ একটি সম্পূর্ণ পুষ্পবিন্যাস থেকে একটি ফল সৃষ্টি হলে তাকে যৌগিক ফল বলে। যেমন- আনারস, কাঁঠাল, ডুমুর প্রভৃতি।
৬। বিদারী ফলঃ যে ফলের ত্বক শুষ্ক এবং ফলত্বক বিদারিত হয়ে বীজ বের হয়ে যায় তাকে বিদারী ফল বলে। যেমন- মটর, শিম প্রভৃতি।
৭। অবিদারী ফলঃ যে সব ফল রসালো এবং ফলত্বক বিদারিত হয় না তাকে অবিদারী ফল বলে। যেমন- আম, জাম, ধান, লিচু প্রভৃতি।
৮। ক্যাপসুলঃ ক্যাপসুল একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে উপর থেকে নিচের দিকে কয়েকটি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে ক্যাপসিউল বলে। যেমন- ঢেঁড়স, ধুতুরা, পাট, কার্পাস প্রভৃতি।
৯। সিলিকুয়াঃ সিলিকুয়া একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে নিচ থেকে উপরের দিকে দু’টি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে সিলিকুয়া বলে। যেমন- সরিষা, মুলা প্রভৃতি।
১০। লিগিউমঃ লিগিউম একটি শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে উপর থেকে নিচের দিকে দু’টি কপাটে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে লিগিউম বলে। যেমন- মটর, শিম প্রভৃতি।
১১। লোমেন্টামঃ লোমেন্টাম হলো শুষ্ক বিদারী ফল। যে ফল পরিপক্ক হলে অনুপ্রস্থে কয়েকটি অংশে ফেটে যায় এবং বীজ বিদারিত হয় তাকে লোমেন্টাম বলে। যেমন- বাবলা, লজ্জাবতী ইত্যাদি।
১২। ক্যারিওপসিসঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফলের ফলত্বক ও বীজত্বক এক সাথে যুক্ত থাকলে তাকে ক্যারিওপসিস বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্রা প্রভৃতি।
১৩। নাটঃ নাট হলো নিরস বিদারী ফল। এর ফলত্বক স্থুল ও কাষ্ঠল। যেমন- গর্জন, কাজু বাদাম, সুপারী প্রভৃতি।
১৪। ড্রুপঃ ড্রুপ হলো সরস অবিদারী ফল। ফলত্বক খোসা গঠন করে এবং একটি মাত্র বীজ থাকে। এর বহিঃত্বক পাতলা, মধ্যঃত্বক রসালো ও পুরু এবং অন্তঃত্বক কাষ্ঠল। যেমন- নারিকেল, আম, আমড়া, কুল প্রভৃতি।
১৫। সাইজোকার্পঃ সাইজোকার্প হলো একটি শুষ্ক অবিদারী ফল। যেমন- ধনে, গাজর, লজ্জাবতী প্রভৃতি।
১৬। বেরীঃ বেরী হলো সরস অবিদারী ফল। ফলত্বক রসালো হয় এবং ফলে অসংখ্য বীজ থাকে। যেমন- টমেটো, বেগুন, কলা, পেয়ারা প্রভৃতি।
১৭। হেসপেরিডিয়ামঃ হেসপেরিডিয়াম একটি সরস অবিদারী বহুপ্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফল। ফলত্বক রসালো হয় এবং অন্তঃত্বক কতকগুলো কোয়া গঠন করে। যেমন- কমলা, বাতাবীলেবু প্রভৃতি।
১৮। পেপোঃ পেপো হলো সরস অবিদারী ফল। বহিঃত্বক রসালো ও স্থুল হয় এবং বীজ অমরার সাথে যুক্ত থাকে। যেমন- শশা, লাউ, কুমড়া প্রভৃতি।
১৯। সরোসিসঃ সরোসিস হলো রসালো যৌগিক ফল। পুষ্পবিন্যাসের সকল ফুল মিলে একটি মাত্র ফল গঠন করে। যেমন- আনারস, কাঁঠাল প্রভৃতি।
২০। গুচ্ছিত ফলঃ একটি মাত্র পুষ্পের মুক্ত গর্ভাশয় থেকে একগুচ্ছ ফল উৎপন্ন হলে তাকে গুচ্ছিত ফল বলে। যেমন- আতাফল।
২১। সিপসেলাঃ এক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফলে একটি মাত্র বীজ থাকে। এর ফলত্বক ও বীজত্বক পৃথক থাকে। যেমন- গাঁদা, সূর্যমুখী প্রভৃতি।
২২। পোমঃ ফলটি রসালো এবং একাধিক প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। ফলের বহিঃত্বক, মধ্যত্বক এবং পুষ্পাক্ষ খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। যেমন- আপেল, নাসপতি প্রভৃতি।
২৩। পার্থেনোকার্পিক ফলঃ নিষেক ছাড়াই সৃষ্ট বীজবিহীন ফলকে পার্থেনোকার্পিক ফল বলে। যেমন- কলা, আঙ্গুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq