মনোস্যাকারাইড ।। মনোস্যাকারাইডের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণীবিভাগ ।। Monosaccharide

মনোস্যাকারাইড (Monosaccharides)

গ্রিক শব্দ mono অর্থ এক এবং saccharin অর্থ চিনি নিয়ে Monosaccharide শব্দটি গঠিত। Monosaccharide এর অর্থ হলো একক চিনি বা শর্করা। যে সব কার্বোহাইড্রেটকে ভাঙ্গলে বা বিশ্লেষণ করলে অন্য কোন সরল কার্বোহাইড্রট একক পাওয়া যায় না তাকে মনোস্যাকারাইড বলে। এদের সাধারণ সংকেত CnH2nOn। মনোস্যাকারাইডে কার্বনের সংখ্যা ৩-১০। মনোস্যাকারাইডের ১নং কার্বনে মুক্ত অ্যালডিহাইড গ্রুপ (-CHO) অথবা ২নং কার্বনে মুক্ত কিটোন গ্রুপ (>C=O) থাকে বলে এদেরকে রিডিউসিং শ্যুগার বা বিজারক চিনি বলে। অ্যালডিহাইড গ্রুপ যুক্ত মনোস্যাকারাইডকে অ্যালডোজ এবং কিটোন গ্রুপ যুক্ত মনোস্যাকারাইডকে কিটোজ বলে। অ্যালডিহাইড ও কিটোন গ্রুপ রিডিউসিং গ্রুপ এবং রিডিউসিং গ্রুপযুক্ত শর্করাকে রিডিউসিং শ্যুগার বলে।

 

মনোস্যাকারাইডের বৈশিষ্ট্য

(i) এটি একটি সরল শর্করা।

(ii) ইহা আলোক সক্রিয়।

(iii) এটি একটি ক্ষুদ্র অণু।

(iv) এর আণবিক ওজন ১০,০০০ ডাল্টনের কম।

(v) এটি মিষ্টি স্বাদ যুক্ত।

(vi) ইহা দানাদার এবং পানিতে দ্রবণীয়।

(vii) এতে অ্যালডিহাইড ও কিটোন মূলক থাকে।

(viii) একে অ্যালডোজ বা কিটোজ সুগার বলা হয়।

(ix)  ইহা একটি বিজারক সুগার।

 

 

অ্যালডিহাইড বা কিটোন গ্রুপের উপর ভিত্তি করে মনোস্যাকারাইডকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

১। অ্যালডোজঃ যে সব মনোস্যাকারাইড অ্যালডিহাইড গ্রুপযুক্ত তাকে অ্যালডোজ বলে। যেমন-গ্লুকোজ, এরিথ্রোজ, রাইবোজ, ম্যানোজ ইত্যাদি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

২। কিটোজঃ যে সব মনোস্যাকারাইড কিটোন গ্রুপযুক্ত তাকে কিটোজ বলে। যেমন-ফ্রুক্টোজ, এরিথ্রোলোজ, রাইবুলোজ, ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ইত্যাদি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

কার্বনের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের মনোস্যাকারাইড হলো-

১। ট্রায়োজ (Triose) ঃ তিন কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে ট্রায়োজ বলে। ট্রায়োজ অ্যালডিহাইড গ্রুপযুক্ত হলে তাকে অ্যালডোট্রায়োজ এবং কিটোন গ্রুপযুক্ত হলে তাকে কিটোট্রায়োজ বলে। এর আণবিক সংকেত C3H6O3। যেমন-গিøসারালডিহাইড, ডাইহাইড্রোক্সি অ্যাসিটোন প্রভৃতি।

২। টেট্রোজ (Tetrose)ঃ চার বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে টেট্রোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C4H8O4। টেট্রোজ চার কার্বনবিশিষ্ট অ্যালডিহাইড গ্রুপযুক্ত হলে তাকে অ্যালডোটেট্রোজ এবং কিটোন গ্রুপযুক্ত হলে তাকে কিটোটেট্রোজ বলে। যেমন-এরিথ্রোজ, থ্রিয়োজ, এরিথ্রোলোজ প্রভৃতি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৩। পেন্টোজ (Pentose)ঃ পাঁচ কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে পেন্টোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C5H10O5। রাইবোজ ও ডিঅক্সিরাইবোজ হলো পেন্টোজ শ্যুগার এবং এরা নিউক্লিওটাইড ও নিউক্লিক এসিড গঠন করে। উদাহরণ- রাইবুলোজ, জাইলুলোজ, অ্যারাবিনোজ, লিক্সোজ, রাইবোজ, ডিঅক্সিরাইবোজ প্রভৃতি। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 

৪। হেক্সোজ (Hexose)ঃ ছয় কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে হেক্সোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C6H12O6। অ্যালডিহাইড গ্রুপের হেক্সোজকে অ্যালডোহেক্সোজ এবং কিটোন গ্রুপের হেক্সোজকে কিটোহেক্সোজ বলে। এরা রক্ত শর্করা (Blood sugar) নামে পরিচিত। ১৬ রকমের হেক্সোজ রয়েছে। প্রাচুর্যময় হেক্সোজ হলো গ্লুকোজ যা জীবকোষে শক্তি দান করে। উদাহরণ-গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ, ম্যানোজ ইত্যাদি।

৫। হেপটোজ (Heptose)ঃ সাত কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে হেপ্টোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C7H14O7। এর সংখ্যা খুব কম। ইহা সালোকসংশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেডোহেপ্টুলোজ, মনোহ্যাপ্টুলোজ প্রভৃতি।

৬। অক্টোজ (Octose) ঃ আট কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে অক্টোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C8H26O8। যেমন- গ্লুকোঅক্টোজ। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৭। নেনোজ (Nenose)ঃ নয় কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে নেনোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C9H18O9। যেমন-গ্লুকোনেনোজ।

৮। ডেকোজ (Decose)ঃ দশ কার্বন বিশিষ্ট মনোস্যাকারাইডকে ডেকোজ বলে। এর আণবিক সংকেত C10H30O10। যেমন- গ্লুকোডেকোজ। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq