শৈবালের অপকারীতা কী কী । Harmful of algae । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। ওয়াটার ব্লুমঃ পুকুর বা জলাশয়ের পানিতে প্রচুর পরিমাণে নীলাভ সবুজ শৈবাল (সায়ানোব্যাকটেরিয়া) জন্মে, একে ওয়াটার ব্লুম বা অ্যালগাল ব্লুম বলে। এতে জলাশয়ের পানি দুষিত হয়ে যায় এবং মাছ মারা যায়। যেমন- Nostoc, Anabaena, Mycrocystis, Rivularia, Ocillatoria প্রভৃতি।
২। উদ্ভিদের রোগঃ কোন কোন শৈবাল চা, কফি, ম্যাগনোলিয়া প্রভৃতি গাছে রোগ সৃষ্টি করে এবং ফলন কমিয়ে দেয়। যেমন- Cephaleuros virescens.
৩। মাছের রোগঃ মাছ ডাইনোফ্ল্যাজেলেট জাতীয় শৈবাল অধিক পরিমাণে ভক্ষণ করলে বিষাক্ত টক্সিন সৃষ্টি হয়। কোন কোন শৈবাল মাছের ফুলকা রোগ সৃষ্টি করে। যেমন- Oedogonium
৪। গবাদিপশুর মৃত্যুঃ কোন কোন শৈবাল ভক্ষণে গবাদি পশুর মৃত্যু হতে পারে। যেমন- Anabaena, Mycrocystis, Gloeotrichia প্রভৃতি।
৫। মশার বংশবৃদ্ধিঃ কিছু শৈবাল মশার লার্ভার পুষ্টি যোগায় এবং মশার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৬। সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহতঃ পরাশ্রয়ী শৈবাল আশ্রয়দাতা উদ্ভিদকে আচ্ছাদিত করে রাখে এবং সালোকসংশ্লেষণে ব্যাঘাত ঘটায়।
৭। চলাচলে সমস্যাঃ রাস্তা এবং পুকুর ঘাটে নীলাভ সবুজ শৈবাল জন্মে এসব স্থান পিচ্ছিল করে। এতে পথ চলতে অসুবিধা হয় এবং দুর্ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন নৌযানের তলদেশে আবদ্ধ থেকে শৈবাল নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।
৮। স্থাপনার ক্ষতিঃ দেয়াল এবং দালানে শৈবাল জন্মে ক্ষতি করে। ফলে স্থাপনার স্থায়িত্ব নষ্ট হয়।
৯। দুর্গন্ধ সৃষ্টিঃ অনেক শৈবালের কোষ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পদার্থ সৃষ্টি হয়। এসব পদার্থ পরিবেশ দুষণ করে।
১০। টক্সিন সৃষ্টিঃ Gymnodinium ও Microcystis শৈবাল ক্ষতিকর টক্সিন উৎপন্ন করে। এই টক্সিন মাছ ও গবাদি পশুর জন্য ক্ষতিকর। Gonyaulax শৈবাল থেকে উৎপন্ন ক্ষতিকর টক্সিন মাছের দেহে সঞ্চিত থাকে। এই মাছ খেয়ে মানুষের পক্ষাঘাত রোগ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *