শ্বসন ।। শ্বসনের বাহ্যিক প্রভাবক

১। আলোঃ আলো শ্বসন ক্রিয়ার উপর তেমন কোন প্রভাব ফেলে না। তবে দিনের বেলায় উদ্ভিদ দেহে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়।
২। অক্সিজেনঃ অক্সিজেন ছাড়া সবাত শ^সন অচল। অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে সবাত শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অবাত শ^সনে অক্সিজেন প্রয়োজন হয় না।
৩। পানিঃ শ্বসন ক্রিয়া পানি দ্বারা প্রভাবিত হয়। পানি সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে শ্বসন হার বেড়ে যায়।
৪। তাপমাত্রাঃ ০ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় শ্বসন হার খুবই কম। ২০-৩৫ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় শ্বসন হার সবচেয়ে ভাল এবং ৪৫ ডিগ্রী সে তাপমাত্রায় শ্বসন হার বেশ কম। অর্থাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সীমার পর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও শ্বসন হার বৃদ্ধি পায় না।
৫। কার্বন ডাই অক্সাইডঃ শ^সনে CO2 উপজাত পদার্থ। কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে শ্বসন হার হ্রাস পায়।
৬। রোগঃ রোগাক্রান্ত উদ্ভিদে ATP বেশি প্রয়োজন হয় এবং শ্বসন হার বৃদ্ধি পায়।
৭। আঘাতঃ আঘাত প্রাপ্ত টিস্যুতে কোষ বিভাজন দ্রুততর হয়। তাই আঘাত প্রাপ্ত স্থানে শ^সন হার বেড়ে যায়।
৮। অজৈব লবণঃ কিছু ক্ষেত্রে অজৈব লবণ শ^সন হার বৃদ্ধি করে। উদ্ভিদকে লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে শ^সন হার বেড়ে যায়।
৯। যান্ত্রিক প্রভাবঃ উদ্ভিদের পাতা বা শাখাকে ঘষলে বা শক্তি প্রয়োগ করলে শ^সন হার বৃদ্ধি পায়।
১০। রাসায়নিক পদার্থঃ ক্লোরোফর্ম, ইথার, অ্যালকোহল, অ্যাসিটন প্রভৃতি অল্প পরিমাণে প্রয়োগ করলে শ^সন হার বৃদ্ধি পায়। কিন্ত এসব পদার্থ বেশি মাত্রায় প্রয়োগ করলে শ^সন বন্ধ হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Dr. Abu Bakkar Siddiq