জিনোম সিকোয়েন্সিং ।। বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সম্ভাবনা

১। পিতৃত্ব নির্ণয়ে প্রয়োগঃ ভুমিষ্ঠ সন্তানের পিতা বা মাতা শনাক্তকরণে জিনোম সিকোয়েন্সিং সফল ভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সন্তান তার পিতা ও মাতার নিকট থেকে অর্ধেক করে ক্রোমোজোম লাভ করে। তাই সন্তানের DNA শনাক্ত করে পিতৃত্ব নির্ণয় করা হচ্ছে। এটি জিনোম সিকোয়েন্সিং এর অন্যতম সফলতা।

২। অপরাধী সনাক্তকরণে প্রয়োগঃ  জিনোম সিকোয়েন্সিং প্রয়োগের মাধ্যমে খুন বা ধর্ষণের সাথে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে  রক্তের ফোটা, চুল, দাঁত, নখ, সিমেন বা বীর্যরস, শরীরের খসে পড়া অংশ প্রভৃতি সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত নমুনার পরিমাণ খুব কম হলে PCR প্রক্রিয়ায় পরিমাণে বাড়িয়ে নেয়া হয়। এসব নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সাথে সন্দেহভাজন ব্যক্তির জিনোম সিকোয়েন্সিং মিলিয়ে দেখা হয়। এভাবে অপরাধী শনাক্ত করা হচ্ছে।

৩। জিন থেরাপি এবং RNAiঃ জিন থেরাপি প্রয়োগ করে জিনগত ক্রুটি নিরাময় করা হচ্ছে। ক্রটিপূর্ণ জিন কোষ থেকে সরিয়ে সুস্থ জিন প্রবেশ করিয়ে রোগীকে রোগ মুক্ত করে তোলা হচ্ছে। এসব জিনের বাহক হিসেবে ভাইরাস, RNAi, অ্যান্টিসেন্স বা জিঙ্ক ফিঙ্গার প্রোটিন ব্যবহার করা হয়। ফলে হিমোফিলিয়া, বর্ণান্ধতা, রাতকানা, ক্যান্সার প্রভৃতি রোগের চিকিৎসা সহজ হয়েছে।

৪। স্টেম সেলঃ যে সব কোষ আজীবন বিভাজনক্ষম হতে পারে তাকে স্টেম সেল বলে। B-লিম্ফোসাইট ও T-লিম্ফোসাইট হলো স্টেম সেল। এ সব কোষ সৃষ্টি করে হারানো অঙ্গ প্রতিস্থাপন, অঙ্গের কোষ তৈরী এবং নতুন ওষুধ পরীক্ষা করা হয়।

৫। মাইক্রো RNAঃ ক্যান্সার, ভাইরাস সংক্রমণ, বিপাক সমস্যা, প্রদাহ প্রভৃতি রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসায় মাইক্রো RNA ব্যবহার হতে পারে। ইহা রোগ সৃষ্টিকারী জিনের কাজকে প্রতিরোধ করে।

৬। জিনোম স্ক্যানিং ঃ জিনোম স্ক্যানিং প্রযুক্তিতে অল্প খরচে এবং অতিদ্রæত যে কোন জীবের সম্পূর্ণ জিনোম জানা যায়। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের ক্রোমোসোমের নিষ্ক্রিয় ৯৮% জিনের তথ্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

৭। ন্যানোটেকনোলজিঃ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা ও খাদ্য নিরাপত্তার বিধান ন্যানোটেকনোলজির মাধ্যমে জৈব বস্তুর উৎপাদন সম্ভব হবে।

৮। জিন ক্লোনিং ঃ জিন ক্লোনিং প্রযুক্তি প্রয়োগ করে মানব কল্যাণে ব্যবহৃত অনেক উপাদান তৈরী করা হয়। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতি প্রয়োজনীয় বস্তু উৎপাদন সম্ভব হবে।

৯। GM অণুজীবঃ পৃথিবীর উন্নত দেশে GM অণুজীব ব্যবহার করে পরিবেশের দূষণ মাত্রা রোধের চেষ্টা করছে। প্রাকৃতিক পরিবেশকে নির্মল রাখার জন্য GM অণুজীব ব্যবহার করা হবে।

১০। গবেষণা প্রতিষ্ঠানঃ বাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান, সরকারী ও বেসরকারী ক্লিনিকে জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষা করা হয়। সরকারী, বেসরকারী এবং ব্যক্তিগত চেষ্টায় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সম্ভাবনা বেড়ে যাচ্ছে।

১১। গবেষণার উপকরণঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং পরীক্ষণের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানী করা হয়। তাই ব্যয় বহুল হয়ে পড়ে। বর্তমানে বেশ কিছু যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ দেশে উৎপাদন হচ্ছে।

১২। দক্ষ গবেষকঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং জেনেটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য বাংলাদেশে দক্ষ গবেষক রয়েছে। প্রতি নিয়তই গবেষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

১৩। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং জেনেটিক্স এর গবেষণা কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের দেশে এবং বিদেশে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্সিং এর সম্ভাবনা এগিয়ে চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *