জীবের বংশগতি এবং নতুন বংশধর সৃষ্টিতে মায়োসিসের ভূমিকা অনস্বীকার্য। মায়োসিস প্রক্রিয়ায় পুংজনন মাতৃকোষ থেকে শুক্রাণু এবং স্ত্রীজনন মাতৃকোষ থেকে ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু হলো হ্যাপ্লয়েড জনন কোষ বা গ্যামিট। গ্যামিটের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট হলো ডিপ্লয়েড কোষ। জাইগোট বার বার বিভাজিত হয়ে বহুকোষী ভ্রæণ গঠন করে। বহুকোষী ভ্রুণ থেকে পূর্ণাঙ্গ জীব সৃষ্টি হয়। তাই নতুন বংশধর সৃষ্টিতে বা বংশগতিতে মিয়োসিসের ভূমিকা মুখ্য।
মায়োসিস প্রক্রিয়ায় হোমোলোগাস ক্রোমোসোম গুলো জোড়া বাঁধে। ক্রোমোসোমের জোড়া বাঁধার প্রক্রিয়াকে সিন্যাপসিস এবং প্রতি জোড়া ক্রোমোসোমকে বাইভেলেন্ট বলে। বাইভেলেন্টের প্রতিটি ক্রোমোসোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত লম্বালম্বি ভাবে বিভক্ত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে। ফলে প্রতিটি বাইভেলেন্টে চারটি করে ক্রোমাটিড সৃষ্টি হয় এবং এই অবস্থাকে টেট্রাড বলে। একই ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটিকে সিস্টার ক্রোমাটিড এবং ভিন্ন ভিন্ন ক্রোমোসোমের ক্রোমাটিড দুটিকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে। দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড পরস্পরের কাছাকাছি আসে এবং X আকৃতির কায়াজমা গঠন করে। কায়াজমা অংশে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিড ভেঙ্গে যায় এবং অংশের বিনিময় ঘটায়। একে ক্রসিংওভার বলে। ক্রসিংওভারের ফলে ক্রোমোসোমের গঠনগত পরিবর্তন ঘটে। জিনের নতুন বিন্যাস ঘটে। জীবদেহে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটে। নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে। ফলে নতুন বংশধর সৃষ্টি হয়। তাই বংশগতিতে মিয়োসিসের ভূমিকা অনস্বীকার্য।