পরিপাকে হরমোনের ভূমিকা । Hormonal digestion । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। গ্যাস্ট্রিনঃ ইহা পাকস্থলীর জিকোষ হতে উৎপন্ন হয় এবং গ্যাস্ট্রিক রস নিঃসরণে সাহায্য করে। গ্যাস্ট্রিন হরমোন ঐঈষ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

২। সোমাটোস্টাটিনঃ এই হরমোন জিকোষ এবং হাইপোথ্যালামাস হতে নিঃসৃত হয় এবং গ্যাস্ট্রিন ক্ষরণ নিবারণ করে। ইহা পাকস্থলীর ক্ষরণ এবং অগ্ন্যাশয় রসের ক্ষরণও হ্রাস করে।

৩। ক্যালিক্রাইনঃ ইহা লালা গ্রন্থি হতে নিঃসৃত হয় এবং লালা গ্রন্থির রক্ত নালিকাকে প্রসারিত করে। এতে রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। ফলে লালারস ক্ষরণের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়।

৪। সিক্রেটিনঃ সিক্রেটিন হরমোন অগ্ন্যাশয় যকৃত কোষে বাইকার্বোনেট আয়ন তৈরীতে সাহায্য করে। বাইকার্বোনেট আয়নের কারণে অগ্ন্যাশয় রস পিত্তরস বেশি ক্ষরীয় হয়। ফলে পরিপাকে ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

৫। কোলেসিস্টোকাইনিনঃ ইহা ডিওডেনামে পিত্তরস নিঃসরণে সাহায্য করে। ১৯২৮ সালে বিজ্ঞানী আইভি ওল্ডবার্জ কোলেসিস্টোকাইনিন হরমোন আবিষ্কার করেন।

৬। ভিলিকাইনিনঃ ভিলিকাইনিন হরমোন ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইকে সবল করে শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়।

৭। টেস্টোস্টেরণ ইস্ট্রোজেনঃ  টেস্টোস্টেরণ ইস্ট্রোজেন প্রোটিন বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। 

৮। প্যানক্রিওজাইনিনঃ এই হরমোন অগ্ন্যাশয় রস নিঃসরণে সাহায্য করে। ১৯৪৩ সালে হারপার রেপার প্যানক্রিওজাইনিন হরমোনটি আবিষ্কার করেন।

৯। এন্টারোক্রাইনিনঃ হরমোন আন্ত্রিক রস ক্ষরণে সহায়তা করে। আন্ত্রিক রস পরিপাকে অংশ গ্রহণ করে।

১০। ডিওক্রাইনিনঃ ইহা ডিওডেনামের প্রাচীর থেকে উৎপন্ন হয় এবং আন্ত্রিক রস ক্ষরণে সহায়তা করে।

১১। পেপটাইড YY ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে পেপটাইড YY  ক্ষরিত হয়। ইহা খাদ্যকে ধীর গতিতে প্রবাহিত করে। এতে খাদ্য পরিপাক শোষণ সম্পন্ন হয়।

১২। গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পেপটাইডঃ ডিওডেনামের প্রাচীর থেকে গ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পেপটাইড ক্ষরিত হয়। ইহা পাকস্থলী থেকে অন্ত্রে খাদ্য প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে। ইহা ইনসুলিন ক্ষরণের সূচনা করে।

১৩। ভেসোয়াকটিভ ইনটেস্টাইনাল পেপটাইডঃ ক্ষুদ্রান্ত্রের এপিথেলিয়াল প্রাচীর থেকে এই হরমোন ক্ষরিত হয়। ইহা অন্ত্রের প্রাচীরের রক্ত জালিকাগুলোকে প্রসারিত করে। গ্যাস্ট্রিক এসিড নিঃসরণ বন্ধ করে।

১৪। ক্ষুধা তৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনঃ মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে ক্ষুধা কেন্দ্র রয়েছে। ইহা মানুষের ক্ষুধা খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। পেপটাইড YYগ্যাস্ট্রিক ইনহিবিটরি পেপটাইড (GIP), ভেসোয়াকটিভ ইনটেস্টাইনাল পেপটাইড (VIP), øুকাগন লাইক পেপটাইড (GLP-1), প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড (PP) এবং গ্রিলিন মস্তিষ্কে নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে। এদের মধ্যে পেপটাইড YY, প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড এবং গ্রিলিন খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে গ্রিলিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্ষুধার উদ্রেগ হয়। খাদ্য গ্রহণের সময় রক্তে প্যানক্রিয়েটিক পলিপেপটাইড   পেপটাইড YY হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে খাবারে তৃপ্তি আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *