খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে তাকে স্নায়ুজ নিয়ন্ত্রণ বা Nervous control বলে। মানুষের বৃহদন্ত্রের প্রাচীরে বিদ্যমান স্নায়ুজালক খাদ্যগ্রহণ ও পরিপাকে প্রধান ভূমিকা পালন করে। এ মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে ক্ষুধা কেন্দ্র রয়েছে। ইহা মানুষের ক্ষুধা ও খাদ্য গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। দুইটি স্নায়ু মানুষের খাদ্য পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
১। অন্তর্নিহিত স্নায়ুজালক বা Intrinsic plexuses
২। বহির্নিহিত স্নায়ুজালক বা Extrinsic plexuses
১। অন্তর্নিহিত স্নায়ুজালক বা ইনট্রিনসিক প্লেক্সাসঃ যে স্নায়ুতন্ত্র পৌষ্টিকনালীর ভিতর থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে তাকে অন্তর্নিহিত স্নায়ুজালক বলে। একে অন্ত্রীয় বা এন্টেরিক স্নায়ুতন্ত্র বলে। এন্টেরিক স্নায়ুতন্ত্রকে মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়। ইহা অন্ননালি, পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র ও কোলনের প্রাচীরে জালের মতো বিস্তৃত থাকে এবং সেখান থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে। দুই ধরনের অন্তর্নিহিত স্নায়ুজালক সংক্ষিপ্ত প্রতিবর্তী ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
(i) মায়েনটারিক স্নায়ুজালকঃ ইহা পরিপাকতন্ত্রের মসৃণ পেশির সঙ্কোচন বা পেরিস্ট্যালসিস ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
(ii) সাবমিউকোসাল স্নায়ুজালকঃ ইহা পরিপাকতন্ত্রের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
২। বহির্নিহিত স্নায়ুজালক বা এক্সট্রিনসিক প্লেক্সাসঃ যে স্নায়ুতন্ত্র পৌষ্টিকনালীর বাহির থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে পরিপাক নিয়ন্ত্রণ করে তাকে বহির্নিহিত স্নায়ুজালক বলে। ইহা সিমপ্যাথেটিক ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক হতে সৃষ্টি হয়। ইহা পরিপাকতন্ত্রের দীর্ঘ প্রতিবর্তী ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এরা অ্যাসিটালকোলিন এবং অ্যাডরেনালিন পদার্থ মুক্ত করে। অ্যাসিটালকোলিন পৌষ্টিকনালির ভিতর দিয়ে খাদ্য ও পানীয় প্রবাহে শক্তি প্রয়োগ করে। এছাড়া পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয় হতে অধিক পরিমাণ পাচক রস ক্ষরণে সাহায্য করে। অ্যাডরেনালিন পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশিকে শিথিল করে এবং রক্ত প্রবাহ হ্রাস করে।