বৃহদন্ত্রের গঠন ও কাজ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ইলিয়ামের শেষ প্রান্ত হতে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ১.৫ মিটার লম্বা ও মোটা অংশকে বৃহদন্ত্র বলে। এখানে খাদ্য ১.৫-২.০ দিন অবস্থান করে। বৃহদন্ত্রের তিনটি অংশ রয়েছে।
সিকাম, কোলন ও মলাশয়।
(i) সিকামঃ বৃহদন্ত্রের প্রথম অংশকে সিকাম বলে। ইহা থলী আকৃতির। এর দৈর্ঘ্য ৬ সেমি এবং প্রস্থ ৭.৫ সেমি। সিকামের নিচের দিকে নলের মতো একটি বহিঃবৃদ্ধি অংশ থাকে। একে ভার্মিফর্ম অ্যাপেন্ডিক্স বলে। ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে অ্যাপেন্ডিক্সের প্রদাহ সৃষ্টি হলে তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিস বলে। ইহা একটি নিস্ক্রিয় অঙ্গ।
(ii) কোলনঃ সিকামের পরের প্রশ্বস্ত নলাকার অংশকে কোলন বলে। এর দৈর্ঘ্য ১০১-১১৪ সেমি। কোলনের চারটি অংশ আছে। উর্ধ্বগামী কোলন, অনুপ্রস্থ কোলন, নিম্নগামী কোলন ও সিগময়েড কোলন।
(১) উর্ধ্বগামী কোলনঃ এ অংশ সিকাম থেকে উপরের দিকে উথিত হয়। এর দৈর্ঘ্য ১৩ সেমি।
(২) অনুপ্রস্থ কোলনঃ এ অংশ আড়াআড়ি ভাবে অবস্থান করে। এর দৈর্ঘ্য ৩৮ সেমি।
(৩) নিম্নগামী কোলনঃ কোলনের যে অংশ নিম্নমুখী থাকে তাকে নিম্নগামী কোলন বলে। এর দৈর্ঘ্য ২৫ সেমি।
(৪) সিগময়েড কোলনঃ মলাশয়ের সাথে যুক্ত কোলনের যে অংশ ফাঁসের মতো গঠন সৃষ্টি করে তাকে সিগময়েড কোলন বলে। এর দৈর্ঘ্য ২৫-৩৮ সেমি।
কাজঃ কোলন খাদ্য পরিপাক ও পরিশোষণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *