মাইটোকন্ড্রিয়ার ভৌত ও রাসায়নিক গঠন

মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন (Structure of Mitochondria)
১। আবরণীঃ  প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়া দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। বাইরের আবরণীকে বহিঃআবরণী এবং ভিতরের আবরণীকে অন্তঃআবরণী বলে। বহিঃআবরণী মসৃণ এবং অন্তঃআবরণী অমসৃন। অন্তঃআবরণী ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে ক্রিস্টি গঠন করে। প্রতিটি আবরণী ৪০-৬০Å পুরু। আবরণী দু’টির মাঝখানে ব্যবধান ৬-৮ nm। ইহা লিপোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত। ইহা মাইটোকন্ড্রিয়াকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২। প্রকোষ্ঠঃ মাইটোকন্ড্রিয়ায় দুই ধরনের প্রকোষ্ঠ থাকে। বহিঃপ্রকোষ্ঠ ও অন্তঃপ্রকোষ্ঠ। বহি ও অন্তঃ আবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে বহিঃপ্রকোষ্ঠ এবং অন্তঃআবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে অন্তঃপ্রকোষ্ঠ (৭০Å প্রশস্ত) বলে। ইহা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা পুর্ণ থাকে।
৩। ম্যাটিক্সঃ  প্রকোষ্ঠের ভিতরে অবস্থিত জেলির ন্যায় পদার্থকে ম্যাটিক্স বলে।
৪। ক্রিস্টিলঃ মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণী ভিতরের দিকে ভাঁজ হয়ে আঙ্গুলের ন্যায় কতক গুলো প্রবর্ধক সৃষ্টি করে। একে ক্রিস্টি বলে। প্রতিটি ক্রিস্টির মাঝখানে যে ফাঁকা স্থান থাকে তাকে আন্তঃক্রিস্টি ফাঁকা স্থান বলে।
৫। অক্সিসোম বা F1 কণিকাঃ  মাইটোকন্ড্রিয়ার অন্তঃআবরণীর গায়ে গোলাকার বা ডিম্বাকার অসংখ্য সুক্ষ্ম দানা থাকে। এদেরকে অক্সিসোম বা F1 কণিকা বলে। ইহা মস্তক, বোটা ও ভিত্তি নিয়ে গঠিত।
৬। ETS ঃ Electron Transport System কে সংক্ষেপে ETS বলে। একে ETC (Electron Transport Chain) বলা হয়। ক্রিস্টির গায়ে ETS থাকে। ইহা এক স্থান হতে অন্য স্থানে ইলেকট্রন স্থানান্তরিত করে।
৭। ATP-Synthasesঃ  ক্রিস্টির গায়ে গোলাকার বস্তু থাকে। একে ATP-Synthases বলে। ইহা ATP উৎপন্ন করে।
৮। mDNAঃ  প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ায় বৃত্তাকার দ্বিসূত্রক DNA থাকে। এই DNA গুলো স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে অধিকারী। একে মাইটোকন্ড্রিয়াল DNA বলে।
৯। রাইবোজোমঃ মাইটোকন্ড্রিয়ায় ৭০ S রাইবোজোম থাকে। ইহা কোষের জন্য এনজাইম সংশ্লেষণ করে।

 

রাসায়নিক গঠন (Chemical Structure)
১। প্রোটিনঃ  মাইটোকন্ড্রিয়ার শুষ্ক ওজনের প্রায় ৬৫% হলো প্রোটিন। এর মধ্যে দ্রবনীয় ও অদ্রবনীয় উভয় ধরনের প্রোটিন রয়েছে।
২। লিপিডঃ  মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রায় ৩৫% লিপিড থাকে। এর মধ্যে ৯০% ফসফোলিপিড এবং ১০% ফ্যাটি এসিড ও ক্যারোটিনয়েড। ইহাতে গ্লিসারাইড ২৯%, লেসিথিন ও সেফালিন ৪% এবং কোলেস্টেরল ২%। এর অন্তঃঝিল্লিতে কার্ডিওলিপিন নামক ফসফোলিপিড থাকে।
৩। রঞ্জক পদার্থঃ  ইহাতে সামান্য পরিমানে ক্যারোটিনয়েড থাকে।
৪। নিউক্লিক এসিডঃ  ইহাতে নিউক্লিক এসিড হিসেবে DNA ও RNA থাকে। প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রায় ২০০টি DNA থাকে
৫। এনজাইমঃ  ইহাতে প্রায় ১০০ প্রকার এনজাইম ও কো-এনজাইম থাকে।

 

 

 

One thought on “মাইটোকন্ড্রিয়ার ভৌত ও রাসায়নিক গঠন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *