১। শ্রেণীবদ্ধগত বৈশিষ্ট্য (Taxonomic character)ঃ যে সব বৈশিষ্ট্য দ্বারা একটি ট্যাক্সনকে অন্য ট্যাক্সন হতে আলাদা করা হয় তাকে ট্যাক্সোনমিক বৈশিষ্ট্য বলে। শ্রেণীবিন্যাস তৈরীর জন্য প্রতিটি উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য সঠিক ভাবে পর্যবেক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করা হয়। উদ্ভিদের ট্যাক্সোনমিক বৈশিষ্ট্য হলো- জননগত বৈশিষ্ট্য, জিনগত বৈশিষ্ট্য, রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য, অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য, শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য, আচরণগত বৈশিষ্ট্য, বাস্তুসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য প্রভৃতি। শ্রেণীবিন্যাসের সময় এসব বৈশিষ্ট্য গুলো যথাযথ ভাবে উল্লেখ করা হয়।
২। সনাক্তকরণ (Identification)ঃ শ্রেণীবিন্যাসের উদ্দেশ্যে প্রতিটি উদ্ভিদকে নির্ভুল ভাবে শনাক্ত করা হয়। শ্রেণীবদ্ধগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এদের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করা হয়। শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে এটি হতে পারে- জিনগত ভারসাম্যহীন নমুনা, প্রতিকূল অবস্থায় বৃদ্ধি প্রাপ্ত সদস্য, সংকর জাত, স¤প্রতি প্রকাশিত কোন নিবন্ধ, নতুন প্রজাতি প্রভৃতি। এরপর সংগ্রহীত নমুনা গুলোকে অন্যান্য উদ্ভিদের বর্ণনার সাথে তুলনা করা হয়। সঠিকভাবে শনাক্তকরণের জন্য উপপ্রজাতি, প্রজাতি, সিনোপসিস, রিভিউ, ক্যাটালগ, রিভিশন, মনোগ্রাফ, শ্রেণীকরণ, জাতিজনি, ফিল্ড গাইড ও চেকলিস্ট সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা থাকতে হবে।
৩। ক্যাটাগরিকরণ (Categorization)ঃ বিবর্তনের ধারা অনুযায়ী একই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদকে একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে স্থাপন করা হয়। শ্রেণীবিন্যাসের মোট ৭টি ক্যাটাগরি বা র্যাঙ্ক আছে। এগুলো হলো- Kingdom, Phylum, Class, Order, Family, Genus ও Species। এদের মধ্যে Kingdom হলো সবচেয়ে বড় এবং Species হলো সবচেয়ে ছোট।
৪। নামকরণ (Nomenclature)ঃ কোন উদ্ভিদ বা প্রাণীর বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরী, ব্যাখ্যা ও প্রয়োগকে নামকরণ বলে।
(i) দ্বিপদ নামকরণঃ ICBN বা ICZN-এর নীতিমালা অনুযায়ী গণ নামের শেষে প্রজাতিক নাম যুক্ত করে দুইটি পদ বা শব্দ দ্বারা একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম প্রদান করাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। ১৭৫৩ সালে সুইডিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস জীবের দ্বিপদ নামকরণের প্রক্রিয়া প্রবর্তন করেন।
(ii) ত্রিপদ নামকরণঃ জীবের নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী গণ, প্রজাতি ও উপপ্রজাতি তিনটি পদ বা শব্দ দ্বারা জীবের যে নাম প্রদান করা হয় তাকে ত্রিপদ নামকরণ বলে। জার্মান বিজ্ঞানী Hermann Schlegel (১৮৮৪) ত্রিপদ নামকরণ প্রবর্তন করেন। যেমন- Naja naja naja.
৫। সংরক্ষণ (Conservation)ঃ বিভিন্ন উপায়ে সংগৃহীত উদ্ভিদের নমুনা গুলো যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। নমুনা হিসেবে উদ্ভিদের পাতা, ফুল, ফল, বীজ, কান্ড, মূল প্রভৃতি সংগ্রহ করা হয়। এ সব নমুনা শুকনো অথবা তরল মাধ্যমে সংরক্ষণ করা যায়। ফরমালিন ও অ্যালকোহল হলো সংরক্ষণের সবচেয়ে ভাল তরল মাধ্যম। দেশের বিভিন্ন জাদুঘর, সংরক্ষণশালা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারী ও বেসরকারী ভাবে উদ্ভিদের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়।