(i) পরমাণুর স্থায়িত্বঃ বোরের মতবাদ অনুযায়ী ইলেক্ট্রন যখন কোনো স্থায়ী কক্ষপথে আবর্তন করে তখন এর থেকে কোনো শক্তি নির্গত হয় না। সুতরাং নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তনশীল-ইলেক্ট্রন কখনও নিউক্লিয়াসে গিয়ে পড়বে না। অর্থাৎ বোরের মডেল পরমাণুর স্থায়িত্ব সম্পর্কে যুক্তিপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়ে রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের প্রধান ক্রটি দূর করে।
(ii) H-পরমাণুর রেখা বর্ণালিঃ বোরের পরমাণু মডেলের (Bohr Atomic Model) সাহায্যে একটিমাত্র ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুর (যেমন- H পরমাণু, He+ আয়ন, Li2+ আয়ন ইত্যাদি) বর্ণালিতে একাধিক রেখার উৎপত্তি ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়েছে।
(iii) H-পরমাণুর প্রথম কক্ষপথের ব্যাসার্ধঃ বোর তত্ত্বের ভিত্তিতে গণনা করে হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রথম কক্ষপথের (n = 1) ব্যাসার্ধ 0.529×10−10m=0.529A˚ নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে।
(iv) প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যার ধারণাঃ বোরের পরমাণু মডেল থেকে সর্বপ্রথম প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যার ধারণা পাওয়া যায় ।
(v) কক্ষপথের শক্তিমাত্রাঃ বোরের মডেল থেকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে আবর্তনশীল ইলেক্ট্রনের শক্তির পরিমাণ গণনা করা সম্ভব হয়েছে এবং তা থেকে ইলেক্ট্রন একটি শক্তিস্তর থেকে অন্য শক্তিস্তরে স্থানান্তরিত হলে কত পরিমাণ শক্তি নির্গত বা শোষিত হবে, তারও গণনা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে অপেক্ষাকৃত নিম্ন ক্ষমতাসম্পন্ন বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে নির্ণীত পারমাণবিক বর্ণালির বিভিন্ন রেখার আপেক্ষিক অবস্থানের ব্যাখ্যা দেওয়াও সম্ভব হয়েছে।
(vi) রিডবার্গ ধ্রুবক ও তার মানঃ বোর তত্ত্বের সাহায্যে রিডবার্গ ধ্রুবকের নির্ণীত মান পরীক্ষালব্ধ মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়।
(vii) আয়নীকরণ শক্তিঃ বোর মডেলের সাহায্যে নির্ণীত রাশিমালার মাধ্যমে এক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণু বা আয়নের নির্ণীত আয়নীকরণ শক্তির মান পরীক্ষামূলমানের খুব কাছাকাছি।