ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন (Structure of Chloroplast)
১। আবরণীঃ প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্ট দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। বাইরের আবরণীকে বহিঃআবরণী এবং ভিতরের আবরণীকে অন্তঃআবরণী বলে। আবরণী দু’টির মাঝখানের দুরত্ব ৬-৮ nm । একে পেরিপ্লাস্টিডাল স্থান বলে। ইহা মসৃন এবং লিপোপ্রোটিন দ্বারা গঠিত। ক্লোরোপ্লাস্টের আবরণীতে ফসফোলিপিডের পরিবর্তে গ্লাইকোসিল গ্লিসারাইড থাকে। ইহা ক্লোরোপ্লাস্টকে নির্দিষ্ট আকৃতি দান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
২। প্রকোষ্ঠঃ প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে দু’ধরনের প্রকোষ্ঠ থাকে। বহিঃপ্রকোষ্ঠ ও অন্তঃপ্রকোষ্ঠ। বহি ও অন্তঃ আবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে বহিঃপ্রকোষ্ঠ এবং অন্তঃআবরণীর মাঝের প্রকোষ্ঠকে অন্তঃপ্রকোষ্ঠ বলে। ইহা বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা পূর্ণ থাকে।
৩। স্ট্রোমাঃ ক্লোরোপ্লাস্টের ভিতরে যে পানিগ্রাহী কলয়েডধর্মী তরল পদার্থ থাকে তাকে স্ট্রোমা (Stroma) বলে। এতে ৭০ S রাইবোজোম, DNA, RNA ও শর্করা তৈরীর এনজাইম থাকে। স্ট্রোমাতে C3 ও C4 চক্র ঘটে।
৪। থাইলাকয়েডঃ স্ট্রোমাতে থলে আকৃতির ত্রিমাত্রিক সজ্জার যে গঠন থাকে তাকে থাইলাকয়েড বলে। এর প্রস্থ ১০০-৩০০ Å । থাইলাকয়েডের প্রকোষ্ঠের ভিতরে ক্লোরোফিল-এ, ক্লোরোফিল-বি, ক্যারোটিনয়েড, জ্যান্থোফিল ও এনজাইম থাকে। এসব উপাদান গুলোকে একত্রে স্ফটিকাকার দানার মতো দেখায়। তখন এদেরকে কোয়ান্টোজোম বলে।
৫। গ্রানামঃ ১০-১০০ টি থাইলাকয়েড পর পর সজ্জিত হয়ে যে স্তুপ গঠন করে তাকে গ্রানাম বলে। গ্রানাম চক্রের ঝিল্লির ভিতরের গায়ে কিছু কোয়ান্টোজোম থাকে। প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে ৪০-৬০টি গ্রানা থাকে। প্রতিটি গ্রানামের আকৃতি ০.৩-১.৭০ মাইক্রোন।
৬। স্ট্রোমা ল্যামেলীঃ পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি থাইলাকয়েড যে নালিকা দ্বারা যুক্ত থাকে তাকে স্ট্রোমা ল্যামেলী বা ইন্টারগ্রানাল ফ্রেটস বলে। স্ট্রোমা ল্যামেলীতে ক্লোরোফিল থাকে।
৭। ATP সিন্থেসেসঃ থাইলাকয়েডের মেমব্রেনে যে গোলাকার বা ডিম্বাকার বস্তু থাকে তাকে ATP সিন্থেসেস বলে। এতে ATP তৈরীর জন্য এনজাইম থাকে। ইহা কোষের জন্য ATP তৈরী করে।
৮। ফটোসিনথেটিক ইউনিটঃ কয়েকটি ATP সিন্থেসেস মিলে এক একটি ইউনিট গঠন করে। একে ফটোসিনথেটিক ইউনিট বলে। প্রতিটি ইঊনিটে ক্লোরোফিল-এ, ক্লোরোফিল-বি, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল এর ৩০০-৪০০টি অণু থাকে। এতে বিভিন্ন ধরণের এনজাইম, ফসফোলিপিড, সালফোলিপিড, মেটাল আয়ন, কুইনোন ইত্যাদি থাকে। ফটোসিনথেটিক ইউনিট আলোক শক্তি শোষণ করে এবং ফটোফসফোরাইলেশন ঘটায়।
৯। DNAঃ ক্লোরোপ্লাস্টে ছোট ও চক্রাকার DNA থাকে। DNA গুলো স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে অধিকারী। একে ক্লোরোপ্লাস্টিক DNA (cpDNA) বলে। প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে ২০০টি cpDNA থাকে।
১০। রাইবোজোমঃ ক্লোরোপ্লাস্টে ৭০S রাইবোজোম থাকে।
১১। অজ্ঞাত গুটিকাঃ ক্লোরোপ্লাস্টে কিছু অজ্ঞাত গুটিকা থাকে। এদের প্রকৃতি ও কাজ সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায় নাই।
ক্লোরোপ্লাস্টের রাসায়নিক গঠন (Chemical Structure of Chloroplast)
১। প্রোটিনঃ ক্লোরোপ্লাস্টের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৩৫-৫৫% প্রোটিন থাকে। এর মধ্যে অদ্রবনীয় প্রোটিন ৮০% এবং দ্রবনীয় প্রোটিন ২০%।
২। লিপিডঃ ক্লোরোপ্লাস্টে ১০%-২০% লিপিড থাকে। এর মধ্যে ফসফোলিপিডই বেশি।
৩। রঞ্জক পদার্থঃ ইহাতে ৬-১২% রঞ্জক পদার্থ রয়েছে। এর মধ্যে ৭৫% ক্লোরোফিল-এ, ২৫% ক্লোরোফিল-বি, ক্যারোটিন, জ্যান্থোফিল প্রভৃতি।
৪। নিউক্লিক এসিডঃ ক্লোরোপ্লাস্টে ৫% নিউক্লিক এসিড থাকে। নিউক্লিক এসিড হলো DNA ও RNA
৫। খনিজ লবণঃ ইহাতে ৩% খনিজ লবণ থাকে। খনিজ লবণের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে। এছাড়া আয়ন ও কপার উল্লেখ যোগ্য।
৬। কার্বোহাইড্রেটঃ ক্লোরোপ্লাস্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে না। ইহা সর্বদা পরিবর্তনশীল। স্টার্চ হচ্ছে এর সাধারণ কার্বোহাইড্রেট।