Category: Biology Second Paper Lecture Sheet
যৌগিক বা কনজুগেটেড প্রোটিন ।। Conjugated Protein
উপজাত বা উদ্ভুত প্রোটিন ।। Derivates Protin
প্রোটিওম ।। Proteomes
আদর্শ প্রোটিন ।। Ideal protein
সুপার ম্যালেরিয়া ।। Super malaria
সুপার ম্যালেরিয়া হলো উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রতিরোধী ম্যালেরিয়ার একটি প্রকরণ। এটি খুব দ্রæত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। ম্যালেরিয়ার এই জীবাণুটি কোন ওষুধ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ২০০৮ সালে সর্বপ্রথম কম্বোডিয়ায় জীবাণুটি শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে জীবাণুটি মশার মাধ্যমে ভিয়েতনাম, লাওস ও থাইল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া জীবাণু ক্লোরোকুইন প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। Plasmodium falciparum জীবাণুটি আরটিমিসিনিন প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।
ব্যাংককের অক্সফোর্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন রিসার্চ ইউনিট এর গবেষণা দল লিখিত ভাবে এবং Lancet Infectious Diseases জার্নালে প্রকাশিত হয় যে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সুপার ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল করা বর্তমান বিশে^র মানুষের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ম্যালেরিয়ার এই সুপারবাগ প্রকরণ সকল ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইহা বিশ^ব্যাপি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকী। বর্তমান বিশে^ ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু দ্বারা প্রায় ৭,০০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছে। উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ২০৫০ সালের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।
ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর রক্তশুন্যতার কারণ কী ।। Anemia of Malaria patient
১। সাইজোগনি শেষে মেরোজয়েটগুলো লোহিত রক্তকণিকার প্রাচীর ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসে। এতে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয় এবং রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
২। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর যকৃত ও প্লীহা স্ফীত হয় বা ফুলে যায়। এ অবস্থায় রোগীর দেহে লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন বাধপ্রাপ্ত হয়। এ কারণে রোগীর রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
৩। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর প্লীহা থেকে লাইসোলেসিথিন (Lysolecithin) নামক বিশ্লেষী পদার্থ নিঃসৃত হয়। এ সব পদার্থ লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে। এতে রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।
৪। ম্যালেরিয়া পরজীবী হেমোলাইসিন (Heamolysin) নামক এক ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে। এই অ্যান্টিবডি সুস্থ RBC-কে ধ্বংস করে দেয়। এতে রোগী রক্তশুন্য হয়ে পড়ে।
৫। রোগীর খাবার গ্রহণে বিস্বাদ ও অরুচি দেখা দেয়। এতে পুষ্টির অভাব হয় এবং রক্তকণিকা সৃষ্টি হয় না।
মানুষের দেহে ম্যালেরিয়া পরজীবীর ক্ষতিকর প্রভাব ।। Harmful Effect of Malaria Parasite
১। ম্যালেরিয়া জ্বরঃ মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি চক্রে হিমোজয়েন নামক বিষাক্ত পদার্থ নিঃসৃত হয়। হিমোজয়েন-এর কারণে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং কাঁপুনীসহ জ্বর আসে। একে ম্যালেরিয়া জ্বর বলে। ইহা একটি মারাত্বক রোগ। এতে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
২। যকৃত কোষ ধ্বংস সাধনঃ ম্যালেরিয়া পরজীবীর স্পোরোজয়েট মশকীর লালার মাধ্যমে মানুষের যকৃত কোষে প্রবেশ করে। যকৃত কোষে প্রবেশের পর স্পোরোজয়েট গুলো খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং ক্রিপ্টোজয়েটে পরিনত হয়। ক্রিপ্টোজয়েটের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। একে সাইজন্ট বলে। সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে ক্রিপ্টোমেরোজয়েটে পরিনত হয়। ক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো যকৃত কোষের প্রাচীর ভেঙ্গে যকৃত কোষকে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে।
সৃষ্ট প্রতিটি ক্রিপ্টোমেরোজয়েট আবার নতুন যকৃত কোষকে আক্রমণ করে এবং খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয়। উহার নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। একে সাইজন্ট বলে। সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ¬াজম জমা হয়ে মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েটে পরিনত হয়। মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট গুলো পরিনত হলে যকৃত কোষের প্রাচীর ভেঙ্গে যকৃত কোষকে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে। এভাবে একের পর এক যকৃত ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
৩। লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস সাধনঃ ম্যালেরিয়া পরজীবীর মেরোজয়েট রক্তরসের মাধ্যমে মানুষের লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে। লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশের পর মেরোজয়েট গুলো খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং ট্রফোজয়েটে পরিনত হয়। ট্রফোজয়েট থেকে সিগনেট রিং সৃষ্টি হয়। সিগনেট রিং এর আকৃতি পরিবর্তন হয় এবং অ্যামিবার ন্যায় অনির্দিষ্ট আকৃতি ধারণ করে। একে অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট বলে। এরপর অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট আকৃতি পরিবর্তন করে গোলাকার ধারণ করে। উহার নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে অসংখ্য নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। এ অবস্থাকে সাইজন্ট বলে। সাইজন্টের প্রতিটি নিউক্লিয়াসের চারিদিকে সাইটোপ্লাজম জমা হয়ে মেরোজয়েটে পরিনত হয়। মেরোজয়েট গুলো লোহিত রক্তকণিকার প্রাচীর ভেঙ্গে লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস সাধনের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে আসে। সৃষ্ট প্রতিটি মেরোজয়েট পুনরায় লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে। এভাবে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হতে থাকে।
ম্যালেরিয়া পরজীবী দ্বারা যকৃত কোষ ও লোহিত রক্তকণিকা একের পর এক ধ্বংস হতে থাকলে পোষকের রক্ত শুন্যতা দেখা দেয় এবং সবশেষে পোষক মারা যেতে পারে।
ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ ।। Symptoms of malaria fever ।। প্রতিকার ।। Protect
ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণ (Symptoms of malaria fever)
১। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ
(i) বমি বমি ভাব হয়। অনেক সময় বমি হয়।
(ii) মাথা ব্যথা এবং অনিদ্রা হয়।
(iii) ক্ষুধামন্দা এবং খাবারে অনিহা বা অরুচি।
(iv) পেশির ব্যথা এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়।
(v) দেহে শীত শীত ভাব হয়।
(vi) প্রচন্ড পিপাসা লাগে।
(vii) রোগী কম পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করে এবং দুর্বল হয়ে পড়ে।
(viii) নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হয়।
(ix) রোগীর কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
২। রোগের মাধ্যমিক লক্ষণ
(i) কাঁপুনিসহ জ্বর আসে এবং ৪৮ ঘন্টা পর পর জ¦র আসে।
(ii) নির্দিষ্ট সময় পর পর জ্বর আসে এবং ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে।
(iii) ২-৩ দিন পরপর জ¦র আসে।
(iv) জ¦রের প্রকোপ সাধারণত পূর্বহ্নে ও অপরাহ্নে হয়।
(v) ম্যালোরিয়া জ¦রের তিনটি অবস্থা লক্ষণীয়। শীত অবস্থা, উত্তাপ অবস্থা এবং ঘাম অবস্থা।
(vi) জ্বর ছেড়ে গেলে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয়। এটি শীত অবস্থা। শীত অবস্থা ২০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা স্থায়ী হয়।
(vii) উত্তাপ অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে এবং তাপমাত্রা ১০৪-১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। এই অবস্থা ২-৪ ঘন্টা স্থায়ী হয়।
(viii) ঘাম দিয়ে জ¦র ছেড়ে যায়। ঘাম অবস্থা ২-৩ ঘন্টা স্থায়ী হয়।
৩। রোগের চুড়ান্ত লক্ষণ
(i) লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস হয়ে যায়। রক্ত শুন্যতা দেখা দেয়। এ অবস্থায় হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (Anaemia) দেখা দেয়।
(ii) রোগীর প্লীহা ও যকৃত ফুলে যায় এবং দিন দিন বড় হতে থাকে। প্লীহা থেকে লাইসোলেসিথিন (Lysolecithin) পদার্থ নিঃসৃত হয়।
(iii) পরজীবী হিমোলাইসিন (Haemolysin) নামক অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস করে।
(iv) রোগীর খাদ্য পরিপাকে ব্যাঘাত ঘটে।
(v) মস্তিষ্ক আক্রান্ত হয়ে রোগী মারা যেতে পারে।
ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধ
১। মশা ধ্বংস সাধন
(i) মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা। মশকী ডিম পাড়ে এবং লার্ভা বৃদ্ধি লাভ করে এরুপ ক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে।
(ii) অগভীর ও বদ্ধ জলাশয় মশকীর জন্য উত্তম প্রজননক্ষেত্র। তাই বদ্ধ জলাশয় ভরাট বা সংস্কার করতে হবে।
(iii) পতঙ্গ বারক স্প্রে করে মশা ধ্বংস করতে হবে। মশকীর সংখ্যা কমে গেলে রোগ বিস্তার কমে যাবে।
(iv) জলাশয়ে কেরোসিন বা পেট্রোলিয়াম বা প্যারাফিন তেল স্প্রে করে পানির উপরে আস্তরণ তৈরী করতে হবে। এতে মশকীর লার্ভা ও পিউপা অক্সিজেনের অভাবে মারা যাবে।
(v) ঝোপ-ঝাড় ও কচুরীপানায় মশকী ডিম পারে, তাই এসব স্থান পরিষ্কার করতে হবে।
(vi) জলাশয়ে মশার লার্ভা খেকো টাকি মাছ, শিং মাছ, গাপ্পি মাছ, মাগুর, তেলাপিয়া, খলিসা, পুটি, কই ইত্যাদি মাছ চাষ করতে হবে। এ সব মাছ মশকীর লার্ভা খেয়ে সাবাড় করে দেয়।
(vii) স্বহস্তে এবং ট্র্যাপ সৃষ্টি করে মশা মারতে হবে।
(viii) পানিতে জুভেনাইন হরমোন মিশিয়ে লার্ভাকে আজীবন লার্ভা করে রাখা।
(ix) জিন প্রকৌশল প্রক্রিয়ায় Bacillus thuringiensis H-14 ও Bacillus sphaericus ব্যাকটেরিয়া থেকে মারণ জিন নিয়ে বায়োপেস্টিসাইড তৈরী করা হয়। এই বায়োপেস্টিসাইড জলাশয়ে প্রয়োগ করে মশার লার্ভা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা যায়।
(x) গামা বিকিরণ, রাসায়নিক পদার্থ এবং হাইব্রিডাইজেশনের মাধ্যমে বন্ধ্যা মশা সৃষ্টি করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করলে মশার পপুলেশন হ্রাস পায়।
(xi) শহর এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
২। মশার দংশন থেকে রক্ষা
(i) উচু স্থানে বসতবাড়ী নির্মাণ করা।
(ii) ঘুমানোর সময় মশারী ব্যবহার করতে হবে।
(iii) ঘরের দরজা, জানালা ও ভেন্টিলেটে মশা রোধক জাল ব্যবহার করতে হবে।
(iv) শরীরের অনাবৃত অংশে রেপিলেন্ট বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
(v) সন্ধ্যায় ঘরে ধোঁয়া দিয়ে মশকী তাড়াতে হবে।
(vi) ম্যালেরিয়া রোগীকে মশারীর মধ্যে রাখতে হবে।
(vii) মশার কয়েল, এরোসেল ও ধুপ ব্যবহার করতে হবে।
(viii) মশারী ও বিছানায় পাইরিথ্রয়েড জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করতে হবে।
৩। চিকিৎসাঃ বিগত ৩০০ বছর ধরে সিনকোনা (Cinchona officinalis) গাছের বাকল থেকে সৃষ্ট কুইনাইন জাতীয় ওষুধ ম্যালেরিয়া রোগের একমাত্র ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ম্যালেরিয়া রোগে কার্যকরী সিনথেটিক এলোপ্যাথিক ওষুধ হলো- নিভাকুইন, ক্লোরোকুইন, কেমোকুইন, প্যালাড্রিন, অ্যাভেলোক্লোর, সেফলোকুইন, হ্যালোফ্যানট্রিন, প্রিইমাকুইন, ফ্যানমিডার, ম্যাপাক্রিন, প্রোগানিল, ম্যাফ্লোকুইন, ডাক্সসাইক্লিন, ম্যালারোন প্রভৃতি।
৪। ম্যালেরিয়ার টিকাঃ বিশে^র প্রথম ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক টিকা মসকুইরিক্স (Mosquirix) আবিষ্কৃত হয়েছে। ইহা RTSS নামে পরিচিত। চার ডোজের এই টিকা Plasmodium falciparum জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকরী অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সক্ষম। ৩০ বছর গবেষণার পর ২০১৯ সালে ভ্যাক্সিনটির স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আগামী তিন বছরের জন্য ভ্যাক্সিনটি আফ্রিকার তিনটি দেশে পাইলটিং করা হচ্ছে। Bill and Melinda Gates Foundation-এর সহায়তায় Malaria Vaccine Initiative -এর সাথে যৌথভাবে GlaxoSmithKline কোম্পানি এই ভ্যাক্সিনটি তৈরী করেছে।
৫। ম্যালেরিয়ার ভেষজ ওষুধঃ ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভেষজ ওষুধ হিসেবে আর্টিমিসিয়া (Artemisia) উদ্ভিদের ব্যবহার সফলতা আনে বলে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন।
৬। ম্যালেরিয়ার হোমিওপ্যাথিক ওষুধঃ ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় সফল হোমিওপ্যাথিক ওষুধ হলো- আর্সেনিক অ্যালবাম (Arsenic Album), চিন সালফ্ (Chin-sulph), রাসট্রক্স (Rhustox), চায়না (China), হিপার সালফ্ (Heper sulph), সালফার (Sulpher), ব্রায়োনিয়া (Bryonia) প্রভৃতি।
৭। জুভেনাইন হরমোনঃ যে হরমোন পতঙ্গের লার্ভাকে রুপান্তরের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিনত করে তাকে জুভেনাইন হরমোন বলে। ইহা পতঙ্গের মস্তিষ্কের কর্পোরা অ্যালাট্রা থেকে উৎপন্ন হয়। এই হরমোনের অভাব হলে লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গ সৃষ্টি হয় না।
৮। জনসচেতনতা সৃষ্টিঃ ম্যালেরিয়া রোগের ক্ষতিকর দিক, এর বাহক ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। রেডিও, টেলিভিশন, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, সংবাদপত্র প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে হবে। সরকারী ও বেসরকারী ভাবে লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার প্রভৃতি বিলি করতে হবে।
ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধ ।। Protect of malaria fever
১। মশা ধ্বংস সাধন
(i) মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা। মশকী ডিম পাড়ে এবং লার্ভা বৃদ্ধি লাভ করে এরুপ ক্ষেত্র ধ্বংস করতে হবে।
(ii) অগভীর ও বদ্ধ জলাশয় মশকীর জন্য উত্তম প্রজননক্ষেত্র। তাই বদ্ধ জলাশয় ভরাট বা সংস্কার করতে হবে।
(iii) পতঙ্গ বারক স্প্রে করে মশা ধ্বংস করতে হবে। মশকীর সংখ্যা কমে গেলে রোগ বিস্তার কমে যাবে।
(iv) জলাশয়ে কেরোসিন বা পেট্রোলিয়াম বা প্যারাফিন তেল স্প্রে করে পানির উপরে আস্তরণ তৈরী করতে হবে। এতে মশকীর লার্ভা ও পিউপা অক্সিজেনের অভাবে মারা যাবে।
(v) ঝোপ-ঝাড় ও কচুরীপানায় মশকী ডিম পারে, তাই এসব স্থান পরিষ্কার করতে হবে।
(vi) জলাশয়ে মশার লার্ভা খেকো টাকি মাছ, শিং মাছ, গাপ্পি মাছ, মাগুর, তেলাপিয়া, খলিসা, পুটি, কই ইত্যাদি মাছ চাষ করতে হবে। এ সব মাছ মশকীর লার্ভা খেয়ে সাবাড় করে দেয়।
(vii) স্বহস্তে এবং ট্র্যাপ সৃষ্টি করে মশা মারতে হবে।
(viii) পানিতে জুভেনাইন হরমোন মিশিয়ে লার্ভাকে আজীবন লার্ভা করে রাখা।
(ix) জিন প্রকৌশল প্রক্রিয়ায় Bacillus thuringiensis H-14 ও Bacillus sphaericus ব্যাকটেরিয়া থেকে মারণ জিন নিয়ে বায়োপেস্টিসাইড তৈরী করা হয়। এই বায়োপেস্টিসাইড জলাশয়ে প্রয়োগ করে মশার লার্ভা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা যায়।
(x) গামা বিকিরণ, রাসায়নিক পদার্থ এবং হাইব্রিডাইজেশনের মাধ্যমে বন্ধ্যা মশা সৃষ্টি করে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করলে মশার পপুলেশন হ্রাস পায়।
(xi) শহর এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
২। মশার দংশন থেকে রক্ষা
(i) উচু স্থানে বসতবাড়ী নির্মাণ করা।
(ii) ঘুমানোর সময় মশারী ব্যবহার করতে হবে।
(iii) ঘরের দরজা, জানালা ও ভেন্টিলেটে মশা রোধক জাল ব্যবহার করতে হবে।
(iv) শরীরের অনাবৃত অংশে রেপিলেন্ট বা ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।
(v) সন্ধ্যায় ঘরে ধোঁয়া দিয়ে মশকী তাড়াতে হবে।
(vi) ম্যালেরিয়া রোগীকে মশারীর মধ্যে রাখতে হবে।
(vii) মশার কয়েল, এরোসেল ও ধুপ ব্যবহার করতে হবে।
(viii) মশারী ও বিছানায় পাইরিথ্রয়েড জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করতে হবে।
৩। চিকিৎসাঃ বিগত ৩০০ বছর ধরে সিনকোনা (Cinchona officinalis) গাছের বাকল থেকে সৃষ্ট কুইনাইন জাতীয় ওষুধ ম্যালেরিয়া রোগের একমাত্র ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ম্যালেরিয়া রোগে কার্যকরী সিনথেটিক এলোপ্যাথিক ওষুধ হলো- নিভাকুইন, ক্লোরোকুইন, কেমোকুইন, প্যালাড্রিন, অ্যাভেলোক্লোর, সেফলোকুইন, হ্যালোফ্যানট্রিন, প্রিইমাকুইন, ফ্যানমিডার, ম্যাপাক্রিন, প্রোগানিল, ম্যাফ্লোকুইন, ডাক্সসাইক্লিন, ম্যালারোন প্রভৃতি।
৪। ম্যালেরিয়ার টিকাঃ বিশে^র প্রথম ম্যালেরিয়া প্রতিষেধক টিকা মসকুইরিক্স (Mosquirix) আবিষ্কৃত হয়েছে। ইহা RTSS নামে পরিচিত। চার ডোজের এই টিকা Plasmodium falciparum জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকরী অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সক্ষম। ৩০ বছর গবেষণার পর ২০১৯ সালে ভ্যাক্সিনটির স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আগামী তিন বছরের জন্য ভ্যাক্সিনটি আফ্রিকার তিনটি দেশে পাইলটিং করা হচ্ছে। Bill and Melinda Gates Foundation-এর সহায়তায় Malaria Vaccine Initiative -এর সাথে যৌথভাবে GlaxoSmithKline কোম্পানি এই ভ্যাক্সিনটি তৈরী করেছে।
৫। ম্যালেরিয়ার ভেষজ ওষুধঃ ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভেষজ ওষুধ হিসেবে আর্টিমিসিয়া (Artemisia) উদ্ভিদের ব্যবহার সফলতা আনে বলে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন।
৬। ম্যালেরিয়ার হোমিওপ্যাথিক ওষুধঃ ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় সফল হোমিওপ্যাথিক ওষুধ হলো- আর্সেনিক অ্যালবাম (Arsenic Album), চিন সালফ্ (Chin-sulph), রাসট্রক্স (Rhustox), চায়না (China), হিপার সালফ্ (Heper sulph), সালফার (Sulpher), ব্রায়োনিয়া (Bryonia) প্রভৃতি।
৭। জুভেনাইন হরমোনঃ যে হরমোন পতঙ্গের লার্ভাকে রুপান্তরের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে পরিনত করে তাকে জুভেনাইন হরমোন বলে। ইহা পতঙ্গের মস্তিষ্কের কর্পোরা অ্যালাট্রা থেকে উৎপন্ন হয়। এই হরমোনের অভাব হলে লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গ সৃষ্টি হয় না।
৮। জনসচেতনতা সৃষ্টিঃ ম্যালেরিয়া রোগের ক্ষতিকর দিক, এর বাহক ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। রেডিও, টেলিভিশন, ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটার, সংবাদপত্র প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করতে হবে। সরকারী ও বেসরকারী ভাবে লিফলেট, পোস্টার, ব্যানার প্রভৃতি বিলি করতে হবে।