প্রাণীদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ।। Animal Bacteria

১। মানুষের যক্ষা-  Mycobacterium tuberculosis

২। গরু-মহিষের যক্ষা-  Mycobacterium bovis

৩। কলেরা-  Vibrio cholerae

৪। হাস-মুরগীর কলেরা- Bacillus avisepticus

৫। নিউমোনিয়া- Diplococcus pneumoniae

৬। টাইফয়েড- Salmonella typhosa

৭। ডিপথেরিয়া- Corynebacterium diptheriae

৮। অ্যানথ্রাক্স- Bacillus anthracis

৯। আমাশয়- Bacillus dysenteri

১০। ধনুষ্টাংকার/টিটেনাস- Clostridium tetani

১১। হুপিং কাশি- Bordetalla pertusis

১২। গলাফোলা- Pasturella mutocida

১৩। বটুলিজম- Clostridium botulinum

কলেরা রোগ বিস্তারে পরিবেশীয় গুরুত্ব ।। Ecological importance of Cholera disease

১। বাসি, পচা ও খোলা খাবার কলেরা রোগ বিস্তারের উপযুক্ত মাধ্যম। যে পরিবেশের মানুষ বাসি, পচা ও খোলা খাবারে অভ্যস্ত সেখানে কলেরা বেশি বিস্তার লাভ করে।

২। দূষিত পানি কলেরা রোগের বাহক। যে পরিবেশের মানুষ দূষিত পানি পান করে সেখানে কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি।

৩। ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেললে কলেরা রোগ বিস্তার লাভ করে।

৪। যারা রোগীর কাপড়-চোপড় ও বিছানাপত্র ব্যবহার করে তাদের কলেরা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৫। খাবার আগে ও পায়খানার পরে সাবান বা ছাই দিয়ে হাত না ধুলে রোগ সংক্রমণ হতে পারে।

৬। রোগীর চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি দ্বারা রোগ বিস্তার লাভ করে।

কলেরা রোগ প্রতিরোধ || Resistance of Cholera

১। সর্বদা বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে নিতে হবে।

২। বাসি, পচা ও খোলা খাবার বর্জন করতে হবে। অপরিশোধিত কাঁচা শাকসবজি খাওয়া পরিহার করতে হবে।

৩। রোগীর ভেদ-বমি থেকে মাছির মাধ্যমে গৌণ সংক্রমণ ঘটে। তাই খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে।

৪। খাবার আগে এবং পায়খানার পরে সাবান বা ছাই দিয়ে হাত ভাল ভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

৫। ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে হবে। পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

৬। রোগীর কাপড় ও বিছানাপত্র সিদ্ধ করে রোদে শুকাতে হবে।

৭। রোগীকে পৃথক রাখতে হবে। রোগীর মল-মূত্র শোধন করতে হবে।

৮। রোগীকে সেবাদানকারী এবং রোগের জীবাণু বাহককে চিহ্নিত করে তাদের চিকিৎসা দিতে হবে।

৯। কলেরার ভ্যাক্সিন দিতে হবে। বর্তমানে কলেরার ডাকওরাল ভ্যাক্সিন পাওয়া যায়।

১০। সকলকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।

কলেরা রোগ প্রতিকার || Protect of Cholera

১। রোগীকে ঘন ঘন খাবার সেলাইন খাওয়াতে হবে। এতে পানি ঘাটতি দুর হবে। একে Rehydration বলে।

২। কলেরার রোগীকে প্রচুর পরিমাণে ডাবের পানি এবং তরল খাবার (ভাতের মার) খাওয়াতে হবে। এতে ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি দ্রæত পূরণ হবে।

৩। সেলাইন খাওয়ানো সম্ভব না হলে রোগীর শিরায় ইন্ট্রিভেনাস ফ্লুইড (IV Fluids) প্রয়োগ করতে হবে।

৪। আরামদায়ক বিছানায় রোগীর দেহকে উঞ্চ রাখতে হবে।

৫। রোগীকে টেট্রাসাইক্লিন, কটিমক্সাজল, এরিথ্রোমাইসিন, সাল্ফামেথোক্সাজল, সিপ্রোফ্লোক্সাসিন প্রভৃতি খাওয়ানো যেতে পারে।

৬। রোগী যাতে দুর্বল না হয়ে পড়ে অথবা রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭। রোগীর দেহে যেন পানিশুন্যতা দেখা না দেয় সে ব্যবস্থা করতে হবে।

কলেরা রোগের লক্ষণ ।। Symptoms of Cholera

কলেরা রোগের জীবাণু মানুষের অন্ত্রে প্রবেশের পর ১-৫ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশিত হয়। এ রোগের লক্ষণ গুলো হলো-

১। এই রোগে রোগীর ডায়রিয়া হয় এবং পাতলা পায়খানা মাছের ন্যায় গন্ধ বিশিষ্ট হয়।

২। পায়খানা চালে ধোয়া পানির মতো হয়। মলের সাথে রক্ত দেখা যায়।

৩। শরীর হতে  ১০-১৫ লিটার পানি বেরিয়ে যায় এবং পানি শুন্যতা দেখা দেয়। একে Dehydration  বলে ।

৪। ক্রমাগত বমি হয় এবং শরীরে সোডিয়াম আয়নের অভাব দেখা দেয়।

৫। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, অস্থিরতা প্রকাশ পায় এবং দেহ ঠান্ডা হয়ে তাপমাত্রা ৯৫-৯৬ ডিগ্রী ফারেনহাইটে নেমে আসে।

৬। প্রসাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। মূত্রশুন্যতা সৃষ্টি হতে পারে।

৭। ঘন ঘন প্রচন্ড পানি পিপাসা, কিন্তু পানি ধরে রাখতে পারে না।

৮। পেটের মাংসপেশিতে খিল ধরে আসে, হাতে পায়ে টান ধরে এবং খিচুনী হয়।

৯। রক্ত ঘন হয় এবং রক্ত চাপ কমে ৭০-৯০ মিলিমিটারে দাঁড়ায়।

১০। চোখ বসে যায়, চোখ কোঠরে ঢুকে যায় এবং চোখের চার পাশে ধুসর দাগ পড়ে।

১১। রোগীর চামড়া শুষ্ক ও ঢিলা হয়ে যায়, মুখমন্ডল মলিন হয়ে যায়, দেহ বিবর্ণ হয়ে যায়।

১২। ব্যাকটেরিয়া কোষ থেকে নিঃসৃত এন্টেরোটক্সিন বা কলেরাজেন অন্ত্রের প্রাচীরে ক্ষত সৃষ্টি করে।

১৩। নাড়ীর গতি খুব ক্ষীণ হয়। হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ব্যাহত হয়।

১৪। হাত ও পায়ের মাংসপেশি গুলোর সঙ্কোচন বা cramp ঘটে এবং কুকড়ে আসতে থাকে।

১৫। রক্ত প্রবাহ কমে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয়। রোগী অচেতন হয়ে পড়ে এবং মারা যেতে পারে।

১৬। পায়ুতে তাপ বেশী থাকে। পায়ু ব্যথা হয়ে যায়।

১৭। আঙ্গুলের মাথা নীলাভ হয়ে যায়।

কলেরা রোগের সংক্রমণ বা বিস্তার ।। Infection of Cholera

১। দুষিত পানির মাধ্যমে কলেরা রোগের জীবাণু সংক্রমিত হয়।

২। যে সব অঞ্চলে পয়ঃনিষ্কাশন ও বিশুদ্ধ খাবার পানির যথাযথ ব্যবস্থা নাই সে অঞ্চলে কলেরা দ্রæত বিস্তার লাভ করে।

৩। রোগীর মলমূত্রের মাধ্যমে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।

৪। সমুদ্রের উপকূলীয় অঞ্চল এবং লোনা পানিতে কলেরা জীবাণু বেঁচে থাকতে পারে।

৫। মাছ, কাঁকড়া, ঝিনুক, শামুক, চিংড়ি, কঠিন অস্থি মাছ প্রভৃতির মধ্যে কলেরার জীবাণু বেঁচে থাকে।

৬। রোগীর ব্যবহৃত থালা-বাসনের মাধ্যমে জীবাণু বিস্তার লাভ করে।

৭। রোগীর ক্ষুদ্রান্ত্রের মিউকোসাতে এই জীবাণু এন্টেরোটক্সিন বা কলেরাজেন নামক বিষাক্ত টক্সিন নিঃসরণ করে। এই টক্সিন পায়খানার সাথে বের হয় এবং পরিবেশে জীবাণু ছড়ায়।

কলেরা রোগের কারণ ।। Causes of Cholera

কলেরা একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ। একে ওলাউঠা রোগ বলা হয়। ওলাউঠা এর অর্থ হলো ঘন ঘন পায়খানা ও বমি করা। ভারতীয় উপমহাদেশে এ রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকায় এ রোগ মহামারি আকারে দেখা দিত। বিশ্বে প্রতি বছর ৩-৫ মিলিয়ন মানুষ কলেরা রোগ আক্রান্ত হতো এবং প্রায় ০.১ মিলিয়ন লোক মারা যেত।

কলেরা রোগের কারণঃ  Vibrio cholerae নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে কলেরা রোগ হয়। বিজ্ঞানী রবার্ট কচ্ (Robert Koch) সর্বপ্রথম জীবাণুটি আবিষ্কার করেন। ১৮৪৯ সালে ফেলিক্স আর্কিমেডি পোচেট সর্বপ্রথম এই ব্যাকটেরিয়ার বর্ণনা দেন।

ধানের লিফ ব্লাইট মহামারী হলে কী কী বিপর্যয় হবে ।। Epidemic Disaster of leaf blight

১। খাদ্য অভাবঃ ধানের লিফ ব্লাইট রোগ মহামারী আকারে দেখা দিলে ধানের ফলন কমে যাবে। ধান চাষ অনেক কমে যাবে। ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা পূরণ হবে না। দেশে চরম খাদ্য অভাব দেখা দিবে।

২। অর্থনৈতিক ধ্বসঃ দেশে ধানের রোগ মহামারী রুপ নিলে অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা দেখা দিবে। পারিবারিক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ফলে অর্থনীতি ধ্বসে যাবে।

৩। কৃষি বিপর্যয়ঃ ধানের লিফ ব্লাইট রোগ মহামারী আকার ধারণ করলে ধান এবং অন্যান্য ফসল চাষে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। নির্দিষ্ট এলাকায় ১-৩ বছর ধানের চাষ বন্ধ রাখা হবে। ফলে কৃষি বিপর্যয় দেখা দিবে।

৪। কৃষি পরিবারের অসন্তোষঃ ধানের রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে ধানের ফলন কমে যাবে। ধানের উৎপাদন কমে যাবে। ধান চাষ বন্ধ রাখা হবে। এতে কৃষি পরিবার গুলো আর্থিক সংকটে পড়বে। ফলে জনবহুল কৃষি পরিবার গুলোতে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিবে।

৫। বনায়ন বিপর্যয়ঃ ধানের রোগের সাথে অন্যান্য উদ্ভিদের রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিভিন্ন উদ্ভিদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রোগ সংক্রমণের কারণে বৃক্ষ রোপন অভিযান বাঁধাগ্রস্ত হবে। বৃক্ষ রোপন কর্মসূচী বন্ধ হতে পারে। ফলে বনায়ন বিপর্যয় ঘটবে।

৬। বিদেশে থেকে খাদ্য আমদানীঃ মহামারীর কারণে ধানের উৎপাদন কমে যাবে। ধান চাষ বন্ধ হয়ে যাবে। দেশে খাদ্য অভাব দেখা দিবে। খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানী করতে হবে।

৭। পণ্য রপ্তানী বন্ধঃ মহামারীর কারণে দেশে এবং পাশর্^বর্তী দেশে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। বিভিন্ন পণ্যের সাথে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিদেশে পণ্য রপ্তানী বন্ধ হয়ে যাবে।

৮। শিল্প উৎপাদন বন্ধঃ শিল্পের কাঁচামাল হলো কৃষি পণ্য। ধানের মহামারীর কারণে শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাপক ভাবে বাঁধাগ্রস্ত হবে। ফলে কাঁচামালের অভাবে শিল্প উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

৯। বেকারত্ব বৃদ্ধিঃ মহামারীর কারণে ধান উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। অন্যান্য কৃষি উৎপাদন কমে যাবে। দেশী এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে মন্দা দেখা দিবে। শিল্প উৎপাদন কমে যাবে। ফলে বেকারত্ব বেড়ে যাবে।

১০। আগাছার প্রাদুর্ভাবঃ মহামারীর কারণে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আগাছাগুলো স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আগাছা প্রচুর পরিমাণ বীজ উৎপন্ন করবে। এতে আগাছার প্রাদুর্ভাব ব্যাপক ভাবে বেড়ে যাবে।

 

 ধানের লিফ ব্লাইট রোগের প্রতিকার ।। Protect of Rice leaf blight

১। সুস্থ, সবল, রোগমুক্ত ও রোগ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে। লিফ ব্লাইট প্রতিরোধী উচ্চ ফলনশীল জাত হলো Xa4, Xa5, Xa13, Xa21, Xa33, Xa38 প্রভৃতি।

২। বীজ বপনের পূর্বে ছত্রাকনাশক দ্বারা শোধন করে নিতে হবে। বিøচিং পাউডার (100 mg/ml) এবং জিঙ্ক সালফেট (২%) দিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে।

৩। রোগাক্রান্ত পাতায় স্ট্রেপটোসাইক্লিন স্প্রে করলে সুফল পাওয়া যায়।

৪। জমির আগাছা এবং আবর্জনা ধ্বংস বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ধানের খড় এবং গজানো অন্য চারা সরিয়ে ফেলতে হবে।

৫। বীজ বপনের পূর্বে জমি ভালভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।

৬। রোগাক্রান্ত জমিতে ফিনাইল সালফিউরিক এসিটেট এবং এম. ক্লোরামফেনিকল ১০-২০ লিটার পরিমাণ প্রয়োগ করতে হবে।

৭। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৮। উচু জমিতে বীজতলা তৈরী করতে হবে। চারা থেকে চারার দূরত্ব এবং লাইন থেকে লাইনের দুরত্ব বিজ্ঞানসম্মত হতে হবে।

৯। জমিতে কপার অক্সিক্লোরাইড ছড়ায়ে জীবাণু মুক্ত করতে হবে।

১০। সেচের পানির সাথে ক্লোরিন বা বিø¬চিং পাউডার প্রয়োগ করতে হবে।

১১। নাইট্রোজেন সার সময় মতো সঠিক পরিমাণে প্রয়োগ করতে হবে। বেশি মাত্রায় ব্যবহার করা যাবে না।

১২। রোগাক্রান্ত ধান গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।

১৩। বীজ বপনের আগে ০.১% সিরিসান (Sirisan) দ্রবণে ৮ ঘন্টা ভিজিয়ে বীজবাহিত সংক্রমণ রোধ করা হয়।

১৪। কোয়ারেন্টাইন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে।

ধানের লিফ ব্লাইট রোগের লক্ষণ ।। ‍Symptoms of Rice leaf blight

ধানের লিফ ব্লাইট রোগের লক্ষণ রোগাক্রমণের ৫-৬ সপ্তাহ পর প্রকাশিত হয়। লক্ষণ গুলো হলো-

১। ধানের পাতায় রোগের লক্ষণ

(i) প্রাথমিক অবস্থায় পাতায় ভেজা, অর্ধস্বচ্ছ ও লম্বা লম্বা দাগ সৃষ্টি হয়।

(ii) পাতার বোটায়, প্রধান শিরায় ও কিনারায় ৫-১০ মিমি লম্বা ভেজা দাগ দেখা যায়।

(iii) দাগ গুলো যুক্ত হয়ে সাদা অথবা হলদে ডোরা দাগ সৃষ্টি করে।

(iv) দাগ গুলো ক্রমান্বয়ে হলুদ ও ধুসর হয় এবং বৃহৎ আকার ধারণ করে। একে ক্রেসেক বলে।

(v) রোগাক্রান্ত পাতা ধীরে ধীরে শুকিয়ে মুড়িয়ে যায়।

(vi) আক্রান্ত অংশ ঢেউ খেলানোর মতো দেখায়।

(vii) পাতার উপরে সাদা বর্ণের আঠালো রস জমতে থাকে।

(viii) ভোরের দিকে পাতায় দুধ বর্ণের আঠালো ফোঁটা জমে এবং পরে উহা শুকিয়ে কমলা বর্ণের ছোট ছোট পুতির দানার মতো আকার ধারণ করে।

(ix) রোগাক্রান্ত পাতা দ্রæত শুকিয়ে যায় এবং গাছ মারা যায়।

 

২। ধানের বীজে রোগের লক্ষণ

(i) ধানের শীষ বের হওয়ার সময় এই রোগের আক্রমণ ঘটে।

(ii) ধানের গ্লুমে পানি জমে ঝলসে যায় এবং শুকিয়ে খড়ের মতো রং ধারণ করে।

(iii) আক্রান্ত ধানের ছড়াতে পানি ভেজা ক্ষুদ্র ও গোলাকার ক্ষত দেখা যায়।

(iv) রোগাক্রান্ত ধানের ছড়া বন্ধ্যা হয়, ধান চিটা হয় এবং ফলন ৬০% কমে যায়।

(v) রোগাক্রান্ত ধানের শীষে কোন ফল হয় না।