এনজাইমের গঠনগত শ্রেণীবিভাগ

গঠনের উপর ভিত্তি করে এনজাইমকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ গুলো হলো-
(i) সরল এনজাইমঃ যে এনজাইম শুধু মাত্র প্রোটিন দ্বারা গঠিত তাকে সরল এনজাইম বলে। যেমন- প্রোটিয়েজ, অ্যামাইলেজ প্রভৃতি।
(ii) যৌগিক এনজাইমঃ যে এনজাইম প্রোটিন এবং অন্যান্য পদার্থ দ্বারা গঠিত তাকে যৌগিক এনজাইম বা কনজুগেটেড এনজাইম বলে। কনজুগেটেড এনজাইমের দু’টি অংশ থাকে। প্রোটিন অংশ ও অপ্রোটিন অংশ। প্রোটিন অংশকে অ্যাপো এনজাইম এবং অপ্রোটিন অংশকে প্রোসথেটিক গ্রুপ বলে

এনজাইমের ক্রিয়ার স্থান ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ

ক্রিয়াস্থলের ভিত্তিতে এনজাইম দুই প্রকার।
(i) এন্ডোএনজাইমঃ যে সব এনজাইম কোষের ভিতরে ক্রিয়া করে তাকে এন্ডোএনজাইম বলে। যেমন- ক্যালভিন চক্রের এনজাইম, হ্যাচ-স্ল্যাক চক্রের এনজাইম, ক্রেব্স চক্রের এনজাইম ও গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ার এনজাইম।
(ii) এক্সোএনজাইমঃ যে সব এনজাইম কোষের বাইরে ক্রিয়া করে তাকে এক্সোএনজাইম বলে। যেমন- লাইসোজাইম, পরিপাক এনজাইম প্রভৃতি।

সাবষ্ট্রেট ও বিক্রিয়ার নামানুসারে এনজাইমের নামকরণ

কোন কোন এনজাইমের নাম দু’টি অংশ নিয়ে গঠিত। একটি অংশ সাবষ্ট্রেটের নাম অনুসারে এবং অপর অংশ বিক্রিয়ার নাম অনুসারে।
(i) হেক্সোজ + কাইনেজ = হেক্সোকাইনেজ
Hexose + Kinase = Hexokinase
(ii) ফ্রুক্টোজ ৬ ফসফেট + কাইনেজ = ফসফোফ্রুক্টোকাইনেজ
Fructose 6 phosphate + Kiase = Phosphofructokinase
(iii) ফসফোগ্লিসারিক এসিড + মিউটেজ = ফসফোগিøসারোমিউটেজ
Phosphoglyceric acid + Mutase = Phosphoglyceromutase
(iv) গ্লুকোজ ৬ ফসফেট + আইসোমারেজ = ফসফোগ্লুকো আইসোমারেজ
Glucose 6 phosphate + Isomerism = Phosphogluco-isomerase
(v) পাইরুভিক এসিড + কাইনেজ = পাইরুভিক এসিড কাইনেজ
Pyruvic acid + Kinase = Pyruvic acid kinase
(vi) পাইরুভিক এসিড + কার্বোক্সিলেশন = পাইরুভিক কার্বোক্সিলেজ
Pyruvic acid + Carboxilation = Pyruvic carboxilase
(vii) ম্যালিক এসিড + ডিহাইড্রোজিনেজ = ম্যালিক ডিহাইড্রোজিনেজ
Malic acid + Dehydrogenase = Malic dehydrogenase

বিক্রিয়ার নামানুসারে এনজাইমের নামকরণ

এনজাইম যে বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে সে বিক্রিয়ার নাম অনুসারে এনজাইমের নামকরণ করা হয়। বিক্রিয়ার নামের শেষে এজ যোগ করে এনজাইমের নামকরণ করা হয়।
(i) হাইড্রোলাইসিস + এজ = হাইড্রোলেজ
Hydrolysis + ase = Hydrolase
(ii) অক্সিডেশন + এজ = অক্সিডেজ
Oxidation + ase = Oxidase
(iii) এপিমারিজম + এজ = এপিমারেজ
Epimarism + ase = Epimarase
(iv) ট্রান্সফারেশন + এজ = ট্রান্সফারেজ
Transferation + ase = Transferase
(v) রিডাকশন + এজ = রিডাকটেজ
Reduction + ase = Reductase
(vi) আইসোমারিজম + এজ = আইসোমারেজ
Isomerism + ase = Isomerase
(vii) ফসফোরাইলেশন + এজ = ফসফোরাইলেজ
Phosphorylation + ase = Phophorylase
(viii) পলিমারিজম + এজ = পলিমারেজ
Polymerism + ase = Polymerase
(ix) কার্বোক্সিলেশন + এজ = কার্বোক্সিলেজ
Carboxylation + ase = Carboxylase
(x) অ্যালকোহল ডিহাইড্রেশন + এজ = অ্যালকোহল ডিহাইড্রোজেনেজ
Alcohol dehydration + ase = Alchohol dehydrogenase
(xi) সাইটোক্রোম অক্সিডেশন + এজ = সাইটোক্রোম অক্সিডেজ
Cytochrome oxidetion + ase = Cytochrome oxidase
(xii) নাইট্রেট রিডাকশন + এজ = নাইট্রেট রিডাকটেজ
Nitrate reduction + ase = Nitratereductase

সাবষ্ট্রেটের নাম অনুসারে এনজাইমের নামকরণ

সাবষ্ট্রেটের নামের শেষে এজ বা ধংব যোগ করে এনজাইমের নামকরণ করা হয়।
(i) সুক্রোজ + এজ = সুক্রেজ, Sucrose + ase = Sucrase
(ii) ইউরিয়া + এজ = ইউরিয়েজ, Urea + ase = Urease
(iii) টাইরোসিন+এজ=টাইরোসিনেজ, Tyrosine + ase = Tyrosinase
(iv) প্রোটিন + এজ = প্রোটিয়েজ, Protein + ase = Protease
(v) পেকটিন + এজ = পেকটিনেজ, Pectin + ase = Pectinase
(vi) লিপিড + এজ = লাইপেজ, Lipid + ase = Lipase
(vii) অ্যামাইলোজ + এজ = অ্যামাইলেজ, Amylose + ase = Amylase
(viii) আরজিনিন + এজ = আরজিনেজ, Arginine + ase = Arginase

কো-এনজাইম (Co-Enzyme)

কনজুগেটেড এনজাইমের প্রোসথেটিক গ্রুপটি কোন জৈব রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা গঠিত হলে তাকে কো-এনজাইম বলে। কয়েকটি কো-এনজাইম হলো-
১। FAD : Flavin Adenine Dinucleotide-কে সংক্ষেপে FAD বলে। ইহা ডিহাইড্রোজিনেজ এনজাইমের সাথে কাজ করে এবং যৌগ থেকে হাইড্রোজেন মুক্ত বা গ্রহণ করে FADH2 তে পরিনত হয়।
২। FADH2 : Reduced Flavin Adenine Dinucleotide -কে সংক্ষেপে FADH2 বলে।
৩। FMN t Flavin Mono Nucleotide-কে সংক্ষেপে FMN বলে।
৪। NAD : Nicoti namide Adenine Dinucleotide-কে সংক্ষেপে NAD বলে। ইহা ডিহাইড্রোজিনেজ এনজাইমের সাথে কাজ করে এবং যৌগ থেকে হাইড্রোজেন মুক্ত বা গ্রহণ করে NADH2 তে পরিনত হয়।
৫। NADP : Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate -কে সংক্ষেপে NADP বলে। ইহা ডিহাইড্রোজিনেজ এনজাইমের সাথে কাজ করে এবং যৌগ থেকে হাইড্রোজেন মুক্ত বা গ্রহণ করে NADPH2 তে পরিনত হয়।
৬। NADPH2 : Reduced Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate-কে সংক্ষেপে NADPH2 বলে।
৭। CO-A : Co-enzyme A-কে সংক্ষেপে CO-A বলে। ভিটামিন- B, পাইরোফসফেট ও অ্যাডিনাইলিক এসিড নিয়ে CO-A গঠিত। ইহা ফ্যাটি এসিড বিপাক, সাইট্রিক এসিড চক্র, স্টেরল ও অ্যাসিটিল কোলিন সংশ্লেষণ করে।
৮। ATP : Adenosine Triphos phate-কে সংক্ষেপে ATP বলে। ইহা বিভিন্ন বিপাক ক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে।
৯। ADP : Adenosine Diphosphate-কে সংক্ষেপে ADP বলে। ADP ও Pi মিলে ATP তৈরী করে।
১০। সাইটোক্রোম : সাইটোক্রোম এক ধরনের কো-এ। ইহা ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমে অংশ গ্রহণ করে। ইহা শর্করা বিপাকে অংশ নেয়

এনজাইমের রাসায়নিক গঠন (Chemical structure of Enzyme)

এনজাইম গ্লোবিউলার ধরণের প্রোটিন দ্বারা গঠিত। প্রোটিনের মুল গাঠনিক উপাদান হলো অ্যামাইনো এসিড। এনজাইমে ৬২-২,৫০০ ধরণের অ্যামাইনো এসিড থাকতে পারে। যে সব এনজাইম শুধু প্রোটিন দ্বারা গঠিত তাদেরকে সরল এনজাইম বলে। অনেক এনজাইমে প্রোটিন ছাড়াও অন্যান্য উপাদান থাকে। যে সব এনজাইম প্রোটিন ও অপ্রোটিন অংশ দ্বারা গঠিত তাকে কনজুগেটেড এনজাইম বলে। কনজুগেটেড এনজাইমের প্রোটিন অংশকে অ্যাপো-এনজাইম এবং অপ্রোটিন অংশকে প্রোসথেটিক গ্রুপ বলে। অ্যাপো-এনজাইম ও প্রোসথেটিক গ্রুপকে একত্রে হলোএনজাইম বলে। প্রোসথেটিক গ্রুপটি কোন ধাতু দ্বারা গঠিত হলে কো-ফ্যাক্টর এবং কোন জৈব রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা গঠিত হলে কো-এনজাইম বলে।

এনজাইমের সক্রিয়তা

যে সব এনজাইম সক্রিয় অবস্থায় নিঃসৃত হয় তাকে জাইমেজ বলে। টায়ালিন হলো জাইমেজ এনজাইম। যে সব এনজাইম নিস্ক্রিয় অবস্থায় নিঃসৃত হয় তাকে জাইমোজেন বলে। কতকগুলো ধাতব আয়নের উপস্থিতিতে নিস্ক্রিয় এনজাইম সক্রিয় এনজাইমে পরিনত হয়। যে সব ধাতব আয়নের উপস্থিতিতে এনজাইমের সক্রিয়তা বেড়ে যায় তাকে ধাতব সক্রিয়ক বলে। ধাতব সক্রিয়ক হলো- Mn++, K+, Mg++, Ca++, Zn++ প্রভৃতি। পেপসিনোজেন ও ট্রিপসিনোজেন হলো জাইমোজেন প্রকৃতির এনজাইম।

এনজাইমের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য । Enzyme । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। এনজাইম কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও সালফার দ্বারা গঠিত।
২। সব এনজাইমই প্রোটিন জাতীয়।
৩। প্রোটিন গঠনকারী অ্যামাইনো এসিডই এনজাইমের মূল গাঠনিক উপাদান। একটি সুনির্দিষ্ট এনজাইমের অ্যামাইনো এসিড সংখ্যা ও অনুক্রম সুনির্দিষ্ট।
৪। ইহা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় স্বল্প মাত্রায় বিদ্যমান থাকে।
৫। উচ্চ তাপমাত্রা (৫০-১০০০ সে.) এবং অতি বেগুনী রশ্মির প্রভাবে এনজাইমের কার্যকারীতা নষ্ট হয়ে যায়।
৬। ইহা এসিড ও ক্ষার উভয় পরিবেশে ক্রিয়াশীল।
৭। এনজাইম পানি, গিøসারল ও লঘু অ্যালকোহলে দ্রবণীয়।
৮। অ্যামোনিয়াম সালফেট, সোডিয়াম ক্লোরাইড, পিকরিক এসিড প্রভৃতি দ্বারা এনজাইম অধঃক্ষেপিত হয়
৯। এনজাইমের বিক্রিয়া একমুখী এবং উভমুখী হতে পারে।
১০। কো-এনজাইম ও কো-ফ্যাক্টরের উপস্থিতিতে এনজাইমের ক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
১১। সাবস্ট্রেটের আকার এনজাইমের আকারের চেয়ে ছোট হয়।
১২। এনজাইমে ফসফোরাস, তামা, দস্তা, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি থাকে