সস্য ।। সস্যের উৎপত্তি ।। Development of endosperm

ভ্রুণথলীতে ভ্রুণ উৎপন্ন হওয়ায় সাথে সাথে সস্য নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বার বার বিভাজিত হয়ে অনেকগুলো নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। নিউক্লিয়াসগুলো সাইটোপ্লাজমের সমন্বয়ে কোষে পরিনত হয়। কোষগুলো মিলিত হয়ে সস্য বা এন্ডোস্পার্ম সৃষ্টি করে। সস্য ভ্রুণের খাদ্য হিসেবে জমা থাকে। পরিস্ফুটনরত ভ্রুণ বীজের সম্পূর্ণ সস্য শোষণ করলে বীজ সস্যবিহীন হয়। সস্যবিহীন বীজকে অসস্যল বীজ বলে। আম, মটরশুটি, ছোলা প্রভৃতি অসস্যল বীজ।

পরিস্ফুটনরত ভ্রুণ বীজের সম্পূর্ণ সস্য শোষণ না করলে বীজে কিছু অংশ সস্য বর্তমান থাকে। এরুপ বীজকে সস্যল বীজ বলে। ধান, গম, ভূট্রা, রেড়ি, তুলা প্রভৃতি সস্যল বীজ।

ত্রিমিলন কী ।। Triple fusion কী

ভ্রুণথলীর হ্যাপ্লয়েড শুক্রাণুর সাথে ডিপ্লয়েড সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসের মিলনকে ত্রিমিলন বলে। অর্থাৎ ত্রিমিলনে দুইটি মেরু নিউক্লিয়াস এবং একটি পুংগ্যামিটসহ তিনটি নিউক্লিয়াসের মিলন ঘটে। তাই একে ত্রিমিলন বলে।

সিনগ্যামী কী ।। Syngamy কী

দুইটি শুক্রাণুর মধ্যে একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে একীভ‚ত হয়ে যায়, এই ঘটনাকে সিনগ্যামী বলে। ১৮৮৪ সালে স্ট্রাসবুর্গার (Strasburger) সর্বপ্রথম সিনগ্যামী পর্যবেক্ষণ করেন।

নিষেক ।। দ্বি-নিষেকের গুরুত্ব ।। Importance of double fertilization

১। অষ্টক নিউক্লিয়াস দশায় স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের বৃদ্ধি থেমে যায়। দ্বি-নিষেকের পর বৃদ্ধি আবার শুরু হয়।

২। বৃদ্ধি প্রাপ্ত ভ্রুণের পরিপোষকের যোগান দেয় সস্য। জীবনক্ষম বীজ গঠনের জন্য দ্বি-নিষেক অপরিহার্য।

৩। নিষেকের পূর্বে সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াস কোষ বিভাজন বন্ধ করে দেয়। ট্রিপল ফিউশন সুপ্ত নিউক্লিয়াসকে বিভাজন ক্ষমতা অর্জনে সাহায্য করে।

৪। দ্বি-নিষেক পুং-উদ্ভিদ ও পোষক কলার বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে সাহায্য করে।

নিষেক ।। দ্বি-নিষেক কী ।। Double fertilization

একই সময়ে দুইটি শুক্রাণুর মধ্যে একটি ডিম্বাণুর সাথে এবং অপরটি সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্বি-নিষেক বলে। দ্বি-নিষেক আবৃতবীজী উদ্ভিদে ঘটে। ১৯৯০ সালে বিজ্ঞানী উইলিয়াম ফ্রেন্ডম্যান (Williams Friendman) নগ্নবীজী উদ্ভিদ Ephedra-তে দ্বি-নিষেক আবিষ্কার করেন। ১৮৯৮ সালে বিজ্ঞানী নওয়াসিন Lilium martagon ও Fritellaria tenella উদ্ভিদে দ্বি-নিষেক পর্যবেক্ষণ করেন। ধান, গম, ভুট্রা, রেড়ি প্রভৃতিতে দ্বি-নিষেক ঘটে।

নিষেকের পর গর্ভাশয় ও ডিম্বকের পরিবর্তন

১। গর্ভাশয়→ফল

২। গর্ভাশয় প্রাচীর→ফলত্বক

৩। ডিম্বক→বীজ

৪। ডিম্বাণু→ভ্রুণ

৫। ডিম্বকরন্ধ্র বা মাইক্রোপাইল→বীজরন্ধ্র

৬। ডিম্বকনাভী বা হাইলাম→বীজনাভী

৭। ডিম্বকনাড়ী বা ফিউনিকুলাস→বীজবৃন্ত

৮। এক্সাইন→টেস্টা/বীজ বহিঃত্বক

৯। ইন্টাইন→টেগমেন বা বীজ অন্তঃত্বক

১০। ডিম্বকত্বক→বীজত্বক

১১। নিউসেলাস (ভ্রুণ পোষক কলা)→নষ্ট হয়/পেরিস্পার্ম

১২। সেকেন্ডারী বা সস্য নিউক্লিয়াস→সস্য বা এন্ডোস্পার্ম

১৩। সাহায্যকারী কোষ বা সিনারজিড→নষ্ট হয়ে যায়

১৪। প্রতিপাদ কোষ বা অ্যান্টিপোডাল→নষ্ট হয়ে যায়

১৫। ডিম্বকমূল বা ক্যালাজা→বীজমূল বা নষ্ট হয়ে যায়

নিষেক ।। নতুন জাত সৃষ্টিতে নিষেকের ভূমিকা ।। Roles of new varieties

১। নিষেক প্রক্রিয়ায় পুংকেশরের শুক্রাণু স্ত্রীকেশরের ডিম্বাণুর সাথে মিলন ঘটায়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হওয়ায় একটি নতুন জাত সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। নতুন জাতটি মাতৃ উদ্ভিদ হতে ভিন্ন প্রকৃতির হয়।

২। ফিলিপাইনে ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান (Peta) এবং তাইওয়ানের ডিজি উজেন (Dee-gee-woo-gen) ধানের মধ্যে নিষেক ঘটিয়ে ইরি-৮ ধান উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ ধানের ফলন একর প্রতি ৯০-১০০ মণ।

৩। ইন্দোনেশিয়ার পেটা ধান, ভারতের টিকেএম-৬ ধান এবং তাইওয়ানের টাইচু-১ ধানের মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে ইরিশাইল ধান উদ্ভাবন করা হয়। এ ধানের ফলন একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ। ইরি-৫ ধানের ফলন একর প্রতি ৭০-৭৫ মণ। উচ্চ ফলনশীল ইরি ধান হলো ইরি-২০, ইরি-২৮, ইরি-২৯ ইত্যাদি।

৪। বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র BR-২০ এবং BR-৩ এর মধ্যে নিষেক ঘটিয়ে বিরিশাইল ধান উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক উদ্ভাবিত চারটি উফশি জাতের ধান হলো চান্দিনা (BR-১), মালা (BR-২), শাহী বালাম (BR-১৫) এবং শ্রাবনী (BR-২৬)।

৫। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) সংকরায়নের মাধ্যমে ১৭টি উফশি জাতের গম উদ্ভাবন করেছে। উচ্চ ফলনশীল গমের জাত হলো বলাকা, আকবর, কাঞ্চন, বরকত ও সওগাত। এছাড়া BR-27 ও BR-28 গম আরও উন্নত।

৬। বুনো রোগ প্রতিরোধী ফসলের সাথে আবাদি রোগ কাতর ফসলের প্রজনন ঘটিয়ে রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা হয়। মুক্তা (BR-11), গাজী (BR-14), মোহিনী (BR-15) প্রভৃতি ধানের রোগ প্রতিরোধী জাত।

৭। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উদ্ভিদের এমন জাত সৃষ্টি করা হয়েছে যা প্রতিকূল পরিবেশে জন্মাতে পারে। এ সব জাত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের হওয়ায় খরা, বন্যা, লবণাক্ততা প্রভৃতি সহ্য করতে পারে।

৯। কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে ফসলের আবাদকাল ২০-৩০ দিন পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। নতুন এই জাত প্রতিকূল পরিবেশ শুরুর আগেই ফলন দেয়।