কোন কোন উদ্ভিদ বুলবিল বা কক্ষমুকুল দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে। যেমন- চুপড়ি আলু, কন্দপুষ্প, এগেভ প্রভৃতি।
Category: Biology Second Paper Lecture Sheet
পাতা দ্বারা বংশবৃদ্ধি ।। By leaf
পাথরকুচি উদ্ভিদের পাতা থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। নাইট কুইন পাতার মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
কান্ড দ্বারা বংশবৃদ্ধি ।। By stem
পিঁয়াজ ও রসুন বাল্ব দ্বারা, আদা, হলুদ, সটি, বচ, ওলকচু প্রভৃতি রাইজোম দ্বারা এবং আলু টিউবার দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে। ওলকচু, সটি প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। আবার পুদিনা, বাঁশ, কলা, চন্দ্রমল্লিকা, আনারস প্রভৃতি উদ্ভিদ সাকার নামক বিশেষ ধরনের কান্ড দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে।
টারপিনস্ কী ।। Terpins ।। টারপিনের কাজ
মূল দ্বারা বংশবৃদ্ধি ।। By roots
পটল, ডালিয়া, কাঁকরোল, শতমূলী, মিষ্টি আলু, রাঙ্গা আলু প্রভৃতি উদ্ভিদ মূল দ্বারা বংশবৃদ্ধি করে।
স্পোর দ্বারা অযৌন প্রজনন ।। By spore
নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ স্পোর উৎপন্ন করে। স্পোর অনুক‚ল পরিবেশে অংকুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে। শৈবাল, ছত্রাক, ব্রায়োফাইটা ও টেরিডোফাইটা স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। পেনিসিলিয়াম কনিডিয়া, মিউকর গনিডিয়া এবং অ্যাগারিকাস ব্যাসিডিওস্পোর উৎপন্ন করে। শৈবাল জুস্পোর, অ্যাপ্লানোস্পোর, রেস্টিং স্পোর, অ্যাকাইনিটি প্রভৃতি দ্বারা সংখ্যা বৃদ্ধি করে। ফার্ন ও লাইকোপোডিয়া হোমোস্পোরাস এবং সেলাজিনেলা ও শুশনী শাক হেটারোস্পোরাস উৎপন্ন করে।
অযৌন জননের বৈশিষ্ট্য ।। Significants of asexual reproduction
১। অযৌনপ্রজননের মাধ্যমে শুধুমাত্র জীবই বংশবিস্তার করতে পারে।
২। জীবদেহের যে কোন অংশ অথবা স্পোর দ্বারা অযৌন জনন সম্পন্ন হয়।
৩। অযৌন প্রজনন প্রক্রিয়ায় মাইটোসিস কোষ বিভাজন ঘটে। কিন্তু মায়োসিস ঘটে না।
৪। এই প্রক্রিয়ায় গ্যামিট বা নিষেক অনুপস্থিত।
৫। অযৌন জননে হ্যাপ্লয়েড ও ডিপ্লয়েড দশার পর্যায়ক্রমিক আবর্তন ঘটে না।
৬। অপত্য জীব মাতৃজীবের সমবৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হয়। একে ক্লোন বলে।
৭। মায়োসিস এবং ক্রসিংওভার ঘটে না বলে নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় না।
৮। অল্প সময়ে দ্রুত হারে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
৯। উদ্ভিদে শুধুমাত্র অনুকূল পরিবেশে অযৌন জনন ঘটে।
১০। অযৌন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জীব পরিবেশে খাপ খাওয়াতে অক্ষম। অর্থাৎ অভিযোজনে অক্ষম।
অযৌন জনন কী ।। Asexual reproduction
শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ছাড়াই উদ্ভিদের যে প্রজনন ঘটে তাকে অযৌন প্রজনন বলে। নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ স্পোর দ্বারা এবং আবৃতবীজী উদ্ভিদ দেহ অংশ দ্বারা অযৌন প্রজনন ঘটিয়ে থাকে। উদ্ভিদের মূল, কান্ড ও পাতা দ্বারা অযৌন জনন ঘটে।
বীজ ।। বীজের উৎপত্তি ।। Development of seed
নিষেকের পর ডিম্বক উদ্দীপ্ত হয়। ডিম্বকের পরিবর্তন ঘটে। ডিম্বক পরিবর্তিত হয়ে বীজে পরিনত হয়। ডিম্বকের জলীয় অংশ কমে যায় এবং নরম অংশ শুকিয়ে কঠিন বীজে পরিনত হয়। ডিম্বকত্বক বীজত্বকে, ডিম্বকনাড়ী বীজবৃন্তে, ডিম্বকনাভী বীজনাভীতে এবং ডিম্বকরন্ধ্র বীজরন্ধ্রে পরিনত হয়।
ফল ।। ফলের উৎপত্তি ।। Development of fruit
নিষেকের পর ফুলের গর্ভাশয় উদ্দীপিত হয়। গর্ভাশয়টি বৃদ্ধি পায় এবং এর বিভিন্ন অংশের পরিবর্তন ঘটে। গর্ভাশয় বৃদ্ধি পেয়ে ফলে পরিনত হয়। গর্ভাশয়ের প্রাচীর ফলত্বক গঠন করে। পুষ্পমঞ্জরীর প্রতিটি ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিনত হলে তাকে সরল ফল বা একক ফল বলে। আম, জাম, লিচু, বরই প্রভৃতি একক ফল। সম্পূর্ণ পুষ্পমঞ্জরী থেকে একটিমাত্র ফল সৃষ্টি হলে তাকে যৌগিক ফল বলে। কাঁঠাল, আনারস প্রভৃতি যৌগিক ফল।