পোলার ও নন-পোলার অ্যামাইনো এসিড ।। Polar & non-polar amino acid

১। নন-পোলার অ্যামাইনো এসিড। ১০টি (অ্যালানিন, ভ্যালিন, গ্লাইসিন, প্রোলিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, মেথিওনিন,
ট্রিপট্রোফেন ও ফেনিল অ্যালানিন।
২। পোলার আন-চার্জ অ্যামাইনো এসিড । ৫টি (সেরিন, থ্রিওনিন)।
৩। পোলার পজিটিভ চার্জ অ্যামাইনো এসিড । ৩টি (লাইসিন, হিস্টিডিন)।
৪। পোলার নেগেটিভ চার্জ অ্যামাইনো এসিড । ২টি (গ্লুটামিক)

অ্যামাইনো এসিডের গুরুত্ব ।। Importance of amino acid

১। প্রোটিন সংশ্লেষণঃ অ্যামাইনো এসিড পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে প্রোটিন গঠন করে।
২। প্লাজমা প্রোটিন তৈরীঃ ইহা রক্তের প্লাজমাপ্রোটিন তৈরী করে।
৩। রাসায়নিক পদার্থ সংশ্লেষণঃ এনজাইম, ভিটামিন, অ্যান্টিবডি, ইউরিয়া প্রভৃতি
সংশ্লেষণে অ্যামাইনো এসিড সাহায্য করে।
৪। হরমোন উৎপাদনঃ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতে অ্যামাইনো এসিড সংশ্লেষিত হয়ে হরমোন উৎপন্ন
করে। উদ্ভিদ হরমোন ইন্ডোল অ্যাসিটিক এসিড গঠনে অংশ গ্রহণ করে।
৫। মেলানিন তৈরীঃ ইহা দেহে মেলানিন তৈরী করে।
৬। দুগ্ধপ্রোটিন উৎপন্নঃ ইহা দুগ্ধপ্রোটিন কেসিনোজেন উৎপন্ন করে।
৭। দেহ কাঠামো গঠনঃ অ্যামাইনো এসিড জীবের দেহ কাঠামো গঠন করে।
৮। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ অ্যামাইনো এসিড দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৯। pH নিয়ন্ত্রণঃ অ্যামাইনো এসিড দেহে ঢ়ঐ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
১০। এনজাইম সংশ্লেষণঃ অ্যামাইনো এসিড থেকে সব ধরনের এনজাইম সৃষ্টি হয়।
১১। ইউরিয়া সংশ্লেষঃ অ্যামাইনো এসিড ইউরিয়া সংশ্লেষে সাহায্য করে।
১২। গ্লুকোজ গঠনঃ অ্যামাইনো গ্রুপের অপসারণে বিভিন্ন অ্যামাইনো এসিডের কার্বন শৃঙ্খল গ্লুকোজ গঠন করে।

পেপটাইড বন্ধনী ।। Peptide bond

যে বন্ধনী দ্বারা অ্যামাইনো এসিড যুক্ত হয়ে প্রোটিন গঠন করে তাকে পেপটাইড বন্ধনী বলে।
১। ডাইপেপটাইড বন্ধনী (Dipeptide bond)ঃ যে পেপটাইড বন্ধনী দুইটি অ্যামাইনো এসিডকে যুক্ত করে তাকে ডাইপেপটাইড বন্ধনী বলে।
২। ট্রাইপেপটাইড বন্ধনী (Tripeptide bond)ঃ যে পেপটাইড বন্ধনী তিনটি অ্যামাইনো এসিডকে যুক্ত করে তাকে ট্রাইপেপটাইড বন্ধনী বলে।
৩। অলিগোপেপটাইড বন্ধনী (Oligopeptide bond) ঃ যে পেপটাইড বন্ধনী কয়েকটি (৪-১০) অ্যামাইনো এসিডকে যুক্ত করে তাকে অলিগোপেপটাইড বন্ধনী বলে।
৪। পলিপেপটাইড বন্ধনী (Polypeptide bond) ঃ যে পেপটাইড বন্ধনী অনেকগুলো (৫০) অ্যামাইনো এসিডকে যুক্ত করে তাকে পলিপেপটাইড বন্ধনী বলে।

প্রোটিনের সংজ্ঞা ।। Definition of Protein

গ্রীক শব্দ proteios থেকে protein শব্দটি নেয়া হয়েছে। Protein এর অর্থ হলো সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। অসংখ্য অ্যামাইনো এসিড পরস্পর পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে উচ্চ আণবিক ওজন বিশিষ্ট যে বৃহৎ অণু গঠন করে তাকে প্রোটিন বলে। প্রোটিনকে বলা হয় জীবনের কর্মঘোড়া বা workhorse। প্রোটিনে অম্লীয় এবং ক্ষারীয়গুণ থাকে বলে অ্যাম্ফিটারিক অণু বলে। ডাচ রসায়নবিদ জোহানেস মুলডার (G. Mulder, 1839) সর্বপ্রথম প্রোটিন শব্দটি ব্যবহার করেন। প্রোটোপ্লাজমের অন্যতম উপাদান হলো প্রোটিন। ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড দ্বারা প্রোটিন গঠিত। জীবদেহে ১২% প্রোটিন থাকে। কোষের শুষ্ক ওজনের ৫০% হলো প্রোটিন।

প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য ।। প্রোটিনের ধর্ম ।। Characteristics of protein

১। প্রোটিন কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত।
২। প্রোটিনে সালফার, ফসফোরাস, লোহা ও তামা থাকে।
৩। প্রোটিনের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের পরিবর্তন ঘটে।
৪। প্রোটিন স্বাদহীন বা বর্ণহীন জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
৫। কিছু প্রোটিন পানিতে এবং কিছু লবণে দ্রবণীয়।
৬। কিছু ক্ষার বা এসিড দ্রবণে এবং কিছু অ্যালকোহল দ্রবণে দ্রবীভূত হয়।
৭। প্রোটিন কলয়েড প্রকৃতির।
৮। প্রোটিন হলো বৃহদাকার এবং উচ্চ আণবিক জৈব যৌগ।
৯। এদের আণবিক ওজন ৫,০০০-৫০,০০,০০০ ডাল্টন। ইনসুলিনের আণবিক ওজন ৬,০০০ ডাল্টন।
১০। প্রোটিনকে প্রোটিওলাইটিক এনজাইম দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।
১১। প্রোটিনে ক্ষারীয় গ্রুপ ও অম্লীয় গ্রুপ থাকে বলে উভধর্মী হয়। এসিড এবং ক্ষার উভয় গুণ থাকার জন্য একে অ্যাম্ফোটেরিক (amphoteric) প্রোটিন বলা হয়।
১২। প্রোটিন দ্রবণে নিনহাইড্রিন যোগ করে তাপ প্রয়োগ করলে লাল বর্ণ ধারণ করে।
১৩। এসিড প্রয়োগ করলে প্রোটিন তঞ্চিত বা জমাট বাঁধে এবং আণবিক গঠনের পরিবর্তন হয়।
১৪। ইহা তড়িৎধর্মী বা বাফার দ্রবণ হিসেবে কাজ করে।
১৫। ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ও সোডিয়াম সালফেট দ্রবণে প্রোটিন অধঃক্ষিপ্ত হয়।
১৬। অক্সিজেনের উপস্থিতিতে প্রোটিন ভেঙ্গে NH3, CO2 ও H2O উৎপন্ন হয়।
১৭। প্রোটিনকে বিভিন্ন ভাবে অধঃক্ষিপ্ত করা যায়।

প্রোটিনের উৎস ।। Sorces of protein

উদ্ভিজ প্রোটিনের উৎস হলো- মসুর, খেসারী, মটর, ছোলা, অড়হড়, মুগ, মাসকলাই, বাদাম প্রভৃতি। প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস হলো- মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ছানা, ঘি, মাখন প্রভৃতি।

প্রোটিনের বিস্তার ।। Expansion of protein

জীবদেহের প্রায় সর্বত্র প্রোটিন বিরাজমান। জীবদেহের শুষ্ক ওজনের ৫০% হলো প্রোটিন। জীবদেহের সব অঙ্গে গাঠনিক বস্তু হিসেবে প্রোটিন থাকে। সব এনজাইম প্রোটিন কিন্তু সব প্রোটিন এনজাইম নয়। জৈব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী এনজাইম, হরমোন, অ্যান্টিবায়োটিক প্রভৃতি হলো বিশেষ ধরনের প্রোটিন। সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীতে প্রোটিন থাকে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, নীলাভ সবুজ শৈবাল, শৈবাল, ছত্রাক, লাইকেন প্রভৃতিতে প্রোটিন বিদ্যমান।

প্রোটিনের গঠন ।। Structure of Protein

অনেকগুলো অ্যামাইনো এসিড পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে প্রোটিন গঠন করে। ২০ প্রকার অ্যামাইনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশ গ্রহণ করে। অ্যামাইনো এসিড গুলো যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড শৃঙ্খল গঠন করে। পলিপেপটাইড হলো প্রোটিনের প্রাথমিক গঠন। এক বা একাধিক পলিপেপটাইড শৃঙ্খল মিলে প্রোটিন গঠন করে। পেপটাইড বন্ধনী থাকায় প্রোটিনকে পলিপেপটাইড যৌগ বলা হয়। একটি পলিপেপটাইড শিকলে কমপক্ষে ৫০টি অ্যামাইনো এসিড থাকে। ক্ষুদ্র প্রোটিন ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো এসিড দ্বারা এবং বৃহৎ প্রোটিন টিটিন ৪০,০০০টি অ্যামাইনো এসিড দ্বারা গঠিত। অ্যালবুমিন প্রোটিনে ৫৮২টি অ্যামাইনো এসিড থাকে।
এক পলিপেপটাইড দ্বারা গঠিত প্রোটিন হলো লাইসোজাইম।
দুই পলিপেপটাইড দ্বারা গঠিত প্রোটিন হলো ইনটোগ্রিন।
তিন পলিপেপটাইড দ্বারা গঠিত প্রোটিন হলো কোলাজেন।
চার পলিপেপটাইড দ্বারা গঠিত প্রোটিন হলো হিমোগ্লোবিন।
প্রোটিনের চার ধরনের গঠন দেখা যায়। এগুলো হলো-
১। প্রাথমিক গঠন (Primary structure)ঃ প্রোটিনের প্রাথমিক গঠন চেইন আকৃতির। ইনসুলিন প্রোটিন হলো প্রাথমিক গঠনের।
২। সেকেন্ডারী গঠন (Secondary structure)ঃ প্রোটিনের সেকেন্ডারী গঠন প্যাঁচানো (কয়েলিং) ও ভাঁজ যুক্ত। এতে α-হেলিক্স এবং β-প্লিটেড শিকল থাকে। সিল্ক ও কেরাটিন প্রোটিন হলো সেকেন্ডারী গঠনের।
৩। টারসিয়ারী গঠন (Tertiary structure)ঃ প্রোটিনের টারসিয়ারী গঠন ত্রিমাত্রিক। ফাইব্রিনোজেন প্রোটিন হলো টারসিয়ারী গঠনের।
৪। কোয়াটার্নারি গঠন (Quaternary structure)ঃ দুই বা ততোধিক পলিপেপটাইড শিকল ডাইসালফেট বা হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে যে প্রোটিন গঠন করে তাকে কোয়াটার্নারী গঠন বলে। ইহা হলো চতুর্মাত্রিক গঠন। হিমোগ্লোবিন হলো কোয়াটার্নারি প্রোটিন।

প্রোটিনের গঠনগত শ্রেণীবিভাগ

গঠনের উপর ভিত্তি করে প্রোটিন তিন প্রকার।
(i) ফাইব্রাস প্রোটিন (Fibrous protein) ঃ লম্বা ও সমান্তরাল পলিপেপটাইড শিকল বিশিষ্ট প্রোটিনকে ফাইব্রাস প্রোটিন
বলে। যেমন- কোলাজেন, ইলাস্টিন, কেরাটিন, ফাইব্রাইন প্রভৃতি।
(ii) গ্লোবিউলার প্রোটিন (Globular protein এষড়নঁষধৎ ঢ়ৎড়ঃবরহ) ঃ গোলাকৃতির প্রোটিনকে গ্লোবিউলার প্রোটিন বলে। যেমন- সেরাম, গ্লোবিউলিন, ইনসুলিন, মায়োগ্লোবিন, হিমোগ্লোবিন, অ্যালকালাইন ফসফাটেজ, সাইটোক্রোম-সি প্রভৃতি।
(iii) ইন্টারমেডিয়েট প্রোটিন (Intermediate protein) ঃ ফাইবার বা তন্তু আকৃতির প্রোটিনকে ইন্টারমেডিয়েট প্রোটিন বলে। যেমন- ফাইব্রিনোজেন।

প্রোটিনের কাজ ভিত্তিক শ্রেণীবিভাগ

কাজের উপর ভিত্তি করে প্রোটিন দুই প্রকার।
(i) গাঠনিক প্রোটিন (Structural protein)ঃ যে সব প্রোটিন জীবের দেহ গঠন করে তাকে গাঠনিক প্রোটিন বলে। যেমন- কেরাটিন (ত্বক, চুল, শিং, নখ, ক্ষুর, পালক), কোলাজেন (অস্থি, টেনডন, যোজক কলা), স্কে¬রোটিন (পতঙ্গ), সেইন (অস্থি), ফাইব্রিন (সিল্ক, মাকড়সার জাল), কনড্রিন (তরুণাস্থি), স্কে¬রোপ্রোটিন (পতঙ্গের বহিঃকঙ্কাল) প্রভৃতি।
(ii) কার্যকরী প্রোটিন (Functional protein)ঃ যে সব প্রোটিন জীবদেহের বিপাক ক্রিয়া ঘটায় তাকে কার্যকরী প্রোটিন বলে। এদেরকে নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরী প্রোটিন বলা হয়। যেমন- এনজাইম, হরমোন, ভিটামিন, শ্বাসরঞ্জক প্রভৃতি।