কার্বোহাইড্রেটের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ।। Chemical Characters

১। কার্বোহাইড্রেট কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত।

২। ইহা অধিক পরিমাণে হাইড্রোক্সিল গ্রুপ (-OH) ধারণ করে।

৩। এরা এসিডের সাথে মিশে এস্টার গঠন করে।

৪। একে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে অ্যালডিহাইড ও কিটোন পাওয়া যায়।

৫। কার্বোহাইড্রেটে অবশ্যই হাইড্রোক্সিল ও কার্বোনিল গ্রæপ থাকে।

৬। কার্বোহাইড্রেট লিপিডের সাথে যুক্ত হয়ে গøাইকোলিপিড এবং প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়ে গ্লাইকোপ্রোটিন গঠন করে।

৭। ইহা স্বল্প মেয়াদী শক্তি সঞ্চয় করে।

৮। উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের সেলুলোজ এবং ছত্রাকের কোষ প্রাচীরের কাইটিন হলো গাঠনিক উপাদান।

কার্বোহাইড্রেটের ভৌত বৈশিষ্ট্য ।। Physical characters

১। কার্বোহাইড্রেট দানাদার, তন্তুময় ও পাউডার জাতীয় কঠিন পদার্থ।

২। ইহা স্বাদে মিষ্টি বা স্বাদহীন। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৩। ইহা পানিতে অদ্রবণীয়, তবে মনোস্যাকারাইড পানিতে দ্রবণীয়।

৪। এর আণবিক ওজন ১০,০০০ থেকে কয়েক লক্ষ ডাল্টন।

৫। এরা বেশি তাপে কার্বন বা অঙ্গারে পরিনত হয়।

৬। ইহা আলোক সক্রিয় এবং আলোক সমাণু।

কার্বোহাইড্রেটের উৎস ।। Source of carbohydrates

কার্বোহাইড্রেটের প্রধান উৎস হলো উদ্ভিদ। অধিকাংশ উদ্ভিদ দেহে শুষ্ক ওজনের ৫০-৮০% কার্বোহাইড্রেট থাকে। কার্বোহাইড্রেট উৎপন্নকারী প্রধান উদ্ভিদ হলো- ধান, গম, আখ, ভূট্রা, বার্লি, কাউন, চিনি, বিট, গাজর, খেজুর, আঙ্গুর, আপেল, আম, কলা প্রভৃতি। উদ্ভিদের মূল, কান্ড, পাতা, ফল ও বীজে কার্বোহাইড্রেট থাকে। পেঁয়ারা, আপেল, পেঁয়াজ, আম, আনারস, লাইকেন, মস প্রভৃতিতে কার্বোহাইড্রেট পাওয়ায় যায়। প্রাণীর যকৃত, পেশি ও দুধে কার্বোহাইড্রেট থাকে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

কার্বোহাইড্রেটের নামকরণ

ফরাসি শব্দ Hydrate de carbon থেকে কার্বোহাইড্রেট শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। এর অর্থ কার্বনের হাইড্রেট বা কার্বনের জলায়ন। কার্বোহাইড্রেটকে কার্বস বা স্যাকারাইডস বা staff of life বলা হয়।

কার্বোহাইড্রেট ।। শর্করা ।। Carbohydrates ।। শ্বেতসার

কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত যে সব জৈব যৌগে কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের অনুপাত ১:২:১ হয় তাদেরকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা বলে। আবার অনেক যৌগ আছে যেখানে ১:২:১ অনুপাত নাই সেটাও কার্বোহাইড্রেট। আধুনিক সংজ্ঞানুযায়ী, যে সব অ্যালডিহাইড ও কিটোন যৌগে হাইড্রোক্সিল গ্রæপ থাকে তাদেরকে কার্বোহাইড্রেট বলে। অথবা, পলিহাইড্রোক্সি অ্যালডিহাইডস্, পলিহাইড্রোক্সিকিটোনস্ এবং এদের ডেরিভেটিভস্কে একত্রে কার্বোহাইড্রেট বলে।

অ্যামাইনো এসিডের সংজ্ঞা

প্রোটিনের গাঠনিক একক হলো অ্যামাইনো এসিড। অ্যামাইনো গ্রæপ ((-NH2-) ও কার্বোক্সিল গ্রæপ ((-COOH) যুক্ত জৈব যৌগকে অ্যামাইনো এসিড বলে। ১৯০২ সালে ইমেল ফিসার এবং ফ্রাঞ্চ হোফমেস্টার (Emil Fischer, Franz Hofmeister) ইহা আবিষ্কার করেন। মানবদেহে প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের সংখ্যা ২০টি। লিউসিন, আইসোলিউসিন, লাইসিন, মেথিওনিন, সেরিন, ভ্যালিন, প্রোলিন, অ্যালানিন, থ্রিওনিন, টাইরোসিন, হিস্টিডিন, সিস্টিন, অ্যাসপারজিন, গ্লাইসিন, আরজিনিন, ট্রিপটোফ্যান,গ্লুটামিক এসিড, গ্লুটামিন, অ্যাসপারটিক এসিড ও ফিনাইল অ্যালানিন।

অ্যামাইনো এসিডের বৈশিষ্ট্য ।। Characteristics of amino acid

১। ইহা পানিতে দ্রবণীয়, কিন্তু অ্যালকোহলে অদ্রবণীয়।
২। ইহা স্বাদহীন, মিষ্টি বা তিক্ত পদার্থ।
৩। ইহা মৃদু এসিড বা ক্ষারে লবণ গঠন করে।
৪। এরা উচ্চ গলনাঙ্ক বিশিষ্ট।
৫। ইহা উভধর্মী।
৬। এর মূলককে জুইটার আয়ন (Zuitter Ions) বলে।
৭। ইহা পেপটাইড বন্ধনী দ্বারা যুক্ত হয়ে প্রোটিন গঠন করে।
৮। মানবদেহে আলফা অ্যামাইনো এসিড থাকে।
৯। এতে কমপক্ষে একটি অ্যামাইনো গ্রæপ ও একটি কার্বোক্সিল গ্রæপ থাকে।
১০। বিশুদ্ধ প্রোটিনকে হাইড্রোলাইসিস করলে অ্যামাইনো এসিড পাওয়া যায়।

অ্যামাইনো এসিডের শ্রেণীবিভাগ ।। Clasification of amino acid

উদ্ভিদ ও প্রাণী দেহে ২৮টি অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। এগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। অ্যালিফ্যাটিক অ্যামাইনো এসিডঃ অ্যামাইনো এসিডের পার্শ্বশিকল গ্রুপটি (R) অ্যালিফ্যাটিক যৌগ হলে তাকে অ্যালিফ্যাটিক অ্যামাইনো এসিড বলে। অ্যালিফ্যাটিক অ্যামাইনো এসিডকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(i) মনোঅ্যামিনো মনোকার্বক্সিলিক এসিডঃ যে অ্যামাইনো এসিডে একটি অ্যামিনো গ্রুপ এবং একটি কার্বক্সিল গ্রুপ থাকে তাকে মনোঅ্যামিনো মনোকার্বক্সিলিক এসিড বলে। যেমন- অ্যালানিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, গ্লাইসিন, ভ্যালিন প্রভৃতি
(ii) মনোঅ্যামিনো ডাইকার্বক্সিলিক এসিডঃ যে অ্যামাইনো এসিডে একটি অ্যামিনো গ্রুপ এবং দুইটি কার্বক্সিল গ্রুপ থাকে তাকে মনোঅ্যামিনো ডাইকার্বক্সিলিক এসিড বলে। যেমন- গ্লুটামিক এসিড, অ্যাসপারটিক এসিড প্রভৃতি।
(iii) ডাইঅ্যামিনো মনোকার্বক্সিলিক এসিডঃ যে অ্যামাইনো এসিডে দুইটি অ্যামিনো গ্রুপ এবং একটি কার্বক্সিল গ্রুপ থাকে তাকে ডাইঅ্যামিনো মনোকার্বক্সিলিক এসিড বলে। যেমন- লাইসিন, আরজিনিন প্রভৃতি।
(iv) মনোঅ্যামিনো মনোহাইড্রক্সিলিক এসিডঃ যে অ্যামাইনো এসিডে একটি অ্যামিনো গ্রুপ এবং একটি হাইড্রক্সিল গ্রুপ থাকে তাকে মনোঅ্যামিনো মনোহাইড্রক্সিলিক এসিড বলে। যেমন- সেরিন, থ্রিওনিন প্রভৃতি।
(v) সালফারযুক্ত অ্যামাইনো এসিডঃ যে অ্যামাইনো এসিডে অ্যামিনো গ্রুপ, হাইড্রোক্সিল গ্রুপ ও সালফার থাকে তাকে সালফারযুক্ত অ্যামাইনো এসিড বলে। যেমন- মিথিওনিন, সিস্টিন প্রভৃতি।
২। অ্যারোমেটিক অ্যামাইনো এসিডঃ অ্যামাইনো এসিডের পার্শ্বশিকল গ্রুপটি (R) অ্যারোমেটিক যৌগ হলে তাকে অ্যারোমেটিক অ্যামাইনো এসিড বলে। যেমন-ফিনাইল অ্যালানিন, টাইরোসিন ইত্যাদি।
৩। হেটারোসাইক্লিক অ্যামাইনো এসিডঃ অ্যামাইনো এসিডে অ্যালিফ্যাটিক ও অ্যারোমেটিক এর বিপরীত ধর্ম পরিলক্ষিত হলে তাকে হেটারোসাইক্লিক অ্যামাইনো এসিড বলে। যেমন- ট্রিপটোফ্যান, হিস্টিডিন, প্রোলিন প্রভৃতি।

প্রোটিন গঠনের ভিত্তিতে অ্যামাইনো এসিড

প্রোটিন গঠনের উপর ভিত্তি করে অ্যামাইনো এসিডকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। প্রোটিন অ্যামাইনো এসিড (Protein amino acid) যে সব অ্যামাইনো এসিড প্রোটিন গঠন করে তাকে প্রোটিন অ্যামাইনো এসিড বলে। প্রোটিন অ্যামাইনো এসিড ২০টি। গ্লাইসিন, লাইসিন, ভ্যালিন, অ্যালানিন, টাইরোসিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, অ্যাসপারটিক এসিড, গ্লুটামিক এসিড, অ্যাসপারজিন, গ্লুটামিন, আরজিনিন, সিস্টিন, সেরিন, মিথিওনিন, থ্রিওনিন, ফিনাইল অ্যালানিন, হিস্টিডিন, ট্রিপ্টোফেন ও প্রোলিন।
২। নন-প্রোটিন অ্যামাইনো এসিড (Non-protein amino acid)ঃ যে সব অ্যামাইনো এসিড প্রোটিন গঠনে অংশ গ্রহণ করে না তাকে নন-প্রোটিন অ্যামাইনো এসিড বলে। নন-প্রোটিন অ্যামাইনো এসিড ৭০০ এর বেশি। এর মধ্যে ৩০০টি উদ্ভিদে পাওয়া যায়। যেমন- অরনিথিন, হোমোসেরিন, হোমোসিস্টাইন, সাইট্রুলিন ইত্যাদি।

প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে অ্যামাইনো এসিড

প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে অ্যামাইনো এসিড দুই ধরনের।
১। অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড (Essentioal amino acid)ঃ যে সব অ্যামাইনো এসিড দেহে সংশ্লেষিত হয় না তাকে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড বলে। যেমন- লিউসিন, আইসোলিউসিন, লাইসিন, ট্রিপটোফেন, ফিনাইল অ্যালানিন, থ্রিওনিন, ভ্যালিন, মেথিওনিন ইত্যাদি। শিশুদের অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ১০টি।
২। অনাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড (Non-essentioal amino acid) ঃ যে সব অ্যামাইনো এসিড দেহে সংশ্লেষিত হয় তাকে অনাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড বলে। অনাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ১২টি।