এইডস রোগের লক্ষণ

(i) জ্বর আসে, মাথা ব্যথা হয় এবং ক্লান্তিবোধ হয়।

(ii) শুকনা কফ হয়। নিউমোনিয়া দেখা দেয় এবং নিঃশ্বাসে সাঁ সাঁ শব্দ হয়।

(iii) লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায় এবং লিম্ফোমা ক্যান্সার হয়।

(iv) পেট ব্যথা হয় এবং খাবারে অরুচি হয়।

(v) অস্থিসন্ধি প্রচন্ড ব্যথা এবং জ্বালাপোড়া করে।

(vi) ত্বক ও মুখে কারপোসি সারকোমা ক্যান্সার (বাদামী দাগ) হয়।

(vii) মস্তিষ্কে ট্রক্সোপ্লাজমোসিস হয় এবং চিন্তা শক্তি হ্রাস পায়। স্মৃতিশক্তি ও দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পায়।

(viii) অঙ্গ বিকৃত হয়। শরীরের ওজন হ্রাস পায়। শরীর দুর্বল হয়ে যায়।

(ix) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে যায় এবং রোগী মারা যায়।

Human Immunodeficiency Virus (HIV)

মরণব্যাধি AIDS রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস হলো HIV। ইহা মানুষের শে^ত রক্তকণিকাকে করে ধ্বংস করে দেয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশে ক্রমেই এইডস্ রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।

 

HIV সংক্রমণের উপায়

নারী-পুরুষের যে কোন ধরনের (মুখ, যোনি, পায়ু) যৌন মিলন। সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু। সংক্রমিত মায়ের দুধ পান করলে। সংক্রমণকারীর রক্ত গ্রহণ করলে। সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করলে। একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবহার করলে। দন্ত চিকিৎসা অথবা শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে।

Covid-19 ভ্যাক্সিন বুস্টার

কোন নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে প্রাথমিক টিকার কার্যকারিতা উজ্জীবিত করতে যে বাড়তি ডোজ দেওয়া হয় তাকে বুস্টার ডোজ বলে। প্রাথমিক টিকা নেওয়ার ৫ মাস পর প্রথম বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। প্রাথমিক টিকা গ্রহণের ১২ বছর পর Covid-19 ভ্যাক্সিন বুস্টার নিতে হয়।

করোনা চিকিৎসা

করোনা চিকিৎসায় নিশ্চিত ফলপ্রসু ওষুধ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অ্যাভিগান (জাপানি), রেমডেসিভির (আমেরিকার), ইন্টারফেরন আলফা টু-বি (কিউবা), ফ্যাভিপিরাভির (রাশিয়া), করোনাভ্যাক (চীন), ফাইজা-বায়োএনটেক (আমেরিকা ও জার্মানী), মর্ডানা (মার্কিন), স্পুটনিক ভি (রাশিয়া), কোভিশিল্ড (যুক্তরাজ্য), জনসন অ্যান্ড জনসন (আমেরিকা, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস), সিনোফার্ম (চীন), কোভ্যাক্সিন (ভারত),  নোভাভ্যাক্স (আমেরিকা, নরওয়ে, ভারত), কর্বেভ্যাক্স (ভারত, আমেরিকা)  প্রভৃতি ওষুধ আশার আলো দেখাচ্ছে। মারাত্বক মুমূর্ষু রোগের ক্ষেত্রে ডেক্সামেথাসন আশাপ্রদ ফল দিচ্ছে।

নভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ

ভাইরাস অকোষীয় জীবাণু তাই কখনো মারা যায় না। প্রতিষেধকই একমাত্র উত্তম ব্যবস্থা।

(i) রোগী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা।

(ii) জনসমাগম এড়িয়ে চলা। সভা-সমাবেশ ও হাট বাজার থেকে দূরে থাকে।

(iii) অপরিষ্কার হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ না করা।

(iv) কারো সাথে হ্যান্ডশেক ও কোলাকুলি না করা।

(v) গণপরিবহন ও লিফট ব্যবহার না করা।

(vi) পশুপাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

(vii) রোগাক্রান্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি থেকে ৩ ফুট দূরে থাকা (অনেকের মতে, ক্ষদ্র ক্ষুদ্র water drop গুলো ৪০ ফুট পর্যন্ত যেতে পারে)।

(viii) নাখ ও মুখে উত্তম মাস্ক ব্যবহার করলে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম থাকে।

(ix) অপরিষ্কার হাত সাবান দিয়ে ভালভাবে ধৌত করা।

(x) রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

(xi) নাক ও মুখে পানি দিয়ে জোর গতিতে বাতাস বা শ্বাস ত্যাগ করা।

(xii) মাছ, মাংস ও ডিম খুব ভালভাবে রান্না করা এবং কম সিদ্ধ করা খাবার গ্রহণ না করা।

(xiii) ভিটামিন-C যুক্ত ফল খাওয়া। যেমন-কমলা, লেবু, মুসাম্বি, মালটা প্রভৃতি।

(xiv) করোনা রোগীকে আইসোলেশন বা হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে।

(xv) ডিহাইড্রেশন রোধে ডাবের পানি পান করা।

(xvi) নভেল করোনা টিকা বা ভ্যাক্সিন নেওয়া।

(xvii) অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দিয়ে রোগের অগ্রযাত্রা রোধ করা যায়। ইন্টারফেরন একটি অ্যান্টিভাইরাস ড্রাগ। অনেক উদ্ভিদে অ্যান্টিভাইরাল উপাদান আছে। ইন্টারফেরন ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারে।

কিভাবে করোনায় আক্রান্ত হয়

(i) রোগীর হাঁচি, কাশি, থুথু ও কথা বলার সময় নির্গত জলকণা বা water drop এর মাধ্যমে সুস্থ দেহে প্রবেশ করে।

(ii) বাতাসের ধুলি কণার মাধ্যমে ভাইরাস দেহে প্রবেশ করতে পারে।

(iii) কোন বস্তুর সাথে লেগে থাকা ড্রপলেটের মাধ্যমে অন্য দেহে প্রবেশ করতে পারে।

(iv) ভাইরাস যুক্ত স্থানে হাত লাগলে হাতের মাধ্যমে নাক, মুখ ও চোখে প্রবেশ করতে পারে।

(v) আক্রান্ত ব্যক্তির জামা-কাপড় ও ব্যবহৃত বস্তু থেকে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

রোগ প্রকাশের সময়কাল

করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার ২-১৪ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে সংক্রমিত দেহে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৫-৭ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির দেহে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এ ধরনের ব্যক্তিকে অলক্ষèত্মক (asymptomic) বলে। অলক্ষèত্মক ব্যক্তি বিভিন্ন উপায়ে অন্যদের সংক্রমিত করে।

নভেল করোনা ভাইরাসের লক্ষণ

১। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ

(i) জ্বরের মাধ্যমে এ রোগের লক্ষণ শুরু হয়।

(ii) শুকনো কাশি হয়।

(iii) শ্বাসকষ্ট হয়। শ্বাসকষ্ট এ রোগের প্রধান লক্ষণ।

(iv) সর্দি, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা প্রভৃতি হয়।

(v) মাংসপেশিতে ব্যথা হয়।

(vi) পাতলা পায়খানা এবং শরীর দুর্বল হয়।

(vii) ত্বকে ফুসকুড়ি এবং পায়ের পাতা বিবর্ণ হয়।

(viii) চোখ লাল হওয়া বা চোখ জ্বলা।

(ix) বুকে ব্যথা হয়।

(x) ফুসফুসের ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

২। গুরুতর পর্যায়ে লক্ষণ

(i) শ্বাসকষ্ট তীব্রতর হয়।

(ii) বুকে অব্যাহত ব্যথা এবং চাপ অনুভূত হয়।

(iii) রোগী উঠতে, চলতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে অক্ষম।

(iv) রোগীর দিশেহারা ভাব।

(v) ত্বক, নখ ও ঠোঁট ফ্যাকাশে, ধূসর বা নীল হয়ে যায়।

(vi) রোগীর নিউমোনিয়া হতে পারে।

(vii) রোগী মারা যেতে পারে।

করোনা রোগ সংক্রমণ পরীক্ষা

Reverse Transcription Polymerase Chain Reaction বা RT-PCR পরীক্ষা উত্তম। পরীক্ষায় পজিটিভ হলে অবশ্যই ভাইরাস আক্রান্ত। নেগেটিভ হলে ভাইরাস আক্রান্ত না। তবে ন্যাসোফ্যারিঞ্জিয়াল সোয়াব সেম্পল নেওয়া সঠিক না হলে পরীক্ষায় নেগেটিভ হতে পারে। বুকের এক্স-রে পরীক্ষায় নিউমোনিয়া নিশ্চিত হলে করোনা পজিটিভ।

নভেল করোনা ভাইরাস (Covid-19/ Corona virus) কী?

Co = Corona, Vi = Virus এবং D = Disease নিয়ে Covid শব্দটি গঠিত। ল্যাটিন শব্দ corona অর্থ crown like বা মুকুট। Coronaviridae গোত্রের দ্বিস্তরী লিপিড আবরণীযুক্ত মুকুটের মতো বৃহৎ ভাইরাস কণাকে করোনা ভাইরাস বা Covid-19 বলে। Covid-19 হলো পৃথিবীর সবচেয়ে মারাত্বক প্রাণঘাতী ভাইরাস। এটি বর্তমান পৃথিবীর এক নম্বর শক্র। নভেল করোনা হলো দ্বিতীয় RNA ভাইরাস। ইহা 27-32 Kb আকৃতির গোলাকার, অখন্ডিত এবং একসূত্রক RNA ভাইরাস। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে Covid-19 কে Pandemic অর্থাৎ বৈশি^ক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে।