১। মূলঃ Cycas-এর প্রধান মূল ক্ষণস্থায়ী। প্রধান মূল নষ্ট হওয়ার পর অস্থানিক মূল সৃষ্টি হয়। অস্থানিক মূল মাটির নিচে বৃদ্ধ পায়। অস্থানিক মূলের কতিপয় অংশ মাটির উপরে চলে আসে এবং দ্বিধাবিভক্ত হয়ে শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি করে। মাটির উপরে এসব মূল ব্যাকটেরিয়া, নস্টক (Nostoc), অ্যানাবিনা (Anabaena) প্রভৃতি দ্বারা আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত এসব মূলের স্বাভাবিক আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে বিকৃত আকার ধারণ করে। মূলের বিকৃত আকৃতি সমুদ্রের প্রবাল বা কোরালের মতো হওয়ায় এদেরকে কোরালয়েড মূল বা প্রবাল মূল বা রুট টিউবারকল বলে। কোরালয়েড মূলের কর্টেক্সের যে অংশে নস্টক ও অ্যানাবিনা অবস্থান করে সে অংশকে শৈবাল স্তর বলে।
২। কান্ডঃ Cycas এর কান্ড সোজা, দীর্ঘ, অশাখ, স্থুল ও বেলনাকার। ইহা ৮-১৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। কোন কোন প্রজাতি এর চেয়েও লম্বা হয়। কান্ডের শীর্ষমুকুল ভেঙ্গে গেলে কান্ড শাখাযুক্ত হয়। ইহা বর্মের ন্যায় অস্থায়ী পত্রমূল দ্বারা আবৃত থাকে। এতে স্থায়ী পত্রমূলের চিহ্ন বা Leaf scar থাকে।
৩। পাতাঃ Cycas এর কান্ডের শীর্ষে দুই ধরনের পাতা থাকে। পর্ণপত্র এবং শল্কপত্র।
(i) পর্ণপত্র বা যৌগপত্রঃ পর্ণপত্র গুলো সরল, সবুজ, মসৃণ, বৃহৎ এবং পক্ষল যৌগিক। ইহা কান্ডের অগ্রভাগে সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকে এবং মুকুটের ন্যায় গঠন সৃষ্টি করে। র্যাকিসে ৫০-১০০ জোড়া বা ১০০-২০০টি পত্রক থাকে। পত্রকগুলো স্থুল, মোটা এবং চর্মবৎ। এর দৈর্ঘ্য ১.০-২.৭ মি। পরিনত পত্রকে মধ্যশিরা থাকে, শিরা ও উপশিরা অস্পষ্ট। অপরিনত এবং কচি পাতা ফার্নের ন্যায় কুন্ডলিত থাকে। এই অবস্থাকে সারসিনেট ভারনেশন বলে।
(ii) শল্কপত্রঃ শল্কপত্র গুলো ছোট এবং বাদামী বর্ণের রোমশ যুক্ত। ইহা পর্ণপত্রের সাথে একান্তর ভাবে সজ্জিত থাকে। ইহা যৌগপত্রের মুকুলকে আবৃত করে রাখে।
পাম উদ্ভিদ এবং ফার্ন এর পাতার সাথে সাইকাসের পাতার কিছুটা মিল রয়েছে। তাই সাইকাসকে পামফার্ন বলা হয়।