মুখের পরবর্তী অংশ হলো মুখ গহ্বর। ইহাতে দাঁত, জিহ্বা, উপজিহ্বা বা আলজিভ ও লালা গ্রন্থি অবস্থান করে। মিউকাস আবরণী ওরাল মিউকোসা দ্বারা আবৃত থাকায় মুখবিবর সর্বদা ভেজা থাকে। মুখবিবরের মেঝ মাইলোহাইঅয়েড পেশি দ্বারা গঠিত। মুখ গহŸরের পিছনে কোমল তালু থাকে যা খাদ্যকে নাসারন্ধ্রে প্রবেশে বাঁধা দেয়। এখানে খাদ্য ৫-৩০ সেকেন্ড অবস্থান করে।
জিহ্বায় ২০০০-৮০০০টি স্বাদ কুঁড়ি থাকে। স্বাদ কুঁড়িগুলো পাঁচ ধরনের। মিষ্টতা, লবণাক্ততা, টক বা অম্লতা, সুস্বাদুতা বা উমামি এবং তিক্ততা। স্বাদ কুঁড়িগুলো ৫-১০ দিন পরপর নতুন গঠন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। প্রতিটি স্বাদ কুঁড়িতে ৫০-১০০টি স্বাদ গ্রাহক বা গাস্টাটরি কোষ থাকে। স্বাদ গ্রাহক কোষগুলো প্যাপিলি আকারে অবস্থান করে।
মুখ গহ্বরের কাজ
(i) জিহ্বা খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ ও গিলতে সাহায্য করে।
(ii) দাঁত খাদ্যকে কাঁটা, ছেঁড়া ও পেষনে অংশ নেয়।
(iii) লালা গ্রন্থি লালারস নিঃসৃত করে।
(iv) লাইসোজাইম ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
Category: Biology Second Paper
খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। খাদ্যে দেহের প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, লিপিড, পানি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে।
২। দেহের বৃদ্ধি, বিকাশ ও কর্মক্ষমতার জন্য খাদ্য প্রয়োজন। ইহা দেহকে সুস্থ ও সবল রাখে।
৩। খাদ্য দেহের হাড়, পেশি ও টিস্যু গঠন করে।
৪। দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনঃনির্মাণ, মৃতকোষ প্রতিস্থাপন এবং নতুন কোষ সৃষ্টিতে খাদ্য প্রয়োজন।
৫। খাদ্য দেহে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে।
পরিপাক কী । digestion । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জীব কোষস্থ জটিল খাদ্য বস্তু বিভিন্ন ধরনের এজাইমের কার্যকারীতায় জারিত হয়ে সরল, দ্রবণীয় ও শোষণ যোগ্য উপাদানে পরিনত হয় তাকে পরিপাক (digestion) বলে। খাদ্যে ৬টি উপাদান থাকে। প্রোটিন, শর্করা, লিপিড, পানি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ। এদের মধ্যে পানি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ পরিপাকের প্রয়োজন হয় না। প্রোটিন, লিপিড ও শর্করা পরিপাক হয়।
মাছ চাষের গুরুত্ব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। প্রোটিনের চাহিদা পুরণঃ আমাদের প্রোটিনের চাহিদার সিংহ ভাগই পুরণ করে মাছ। রুই মাছ এক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২। প্রজাতি সংরক্ষণঃ রুই প্রজাতি সংরক্ষণের জন্য এই মাছ চাষ করা দরকার।
৩। কর্মসংস্থানঃ রুই মাছ চাষ করে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
৪। বৈদেশিক মুর্দ্রা অর্জনঃ দেশে রুই মাছের চাহিদা পুরণ করে অতিরিক্ত অংশ বিদেশে বিক্রি করে বৈদেশিক মুর্দ্রা অর্জন করা যায়।
৫। জলাশয় ব্যবহারঃ অব্যবহার যোগ্য জলাশয় গুলো সংস্ককার করে রুই মাছ চাষে ব্যবহার করা যায়।
৬। মাছে ভাতে বাঙ্গালীঃ মাছে ভাতে বাঙ্গালী এই অতীত ঐতিহ্য ধারণ করার জন্য মাছ চাষ করা দরকার।
রুই মাছ সংরক্ষনের উপায় । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। মৎস্য অভয়াশ্রম তৈরীঃ রুই জাতীয় মাছ সংরক্ষনের জন্য সরকারী ভাবে বিভিন্ন নদী-নালা, খাল-বিল ও হাওড়- বাওড় বা তার অংশ বিশেষকে মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা দরকার।
২। দুষণরোধঃ বিভিন্ন ধরনের ময়লা আবর্জনা, রাসায়নিক সার, ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক যেন পানিকে দুষিত করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
৩। লবণাক্ততা কমানোঃ রুই হলো স্বাদু পানির মাছ। তাই পানির লবনাক্ততা যত দুর সম্ভব কমাতে হবে।
৪। মা মাছ আহরণ বন্ধঃ মা মাছ শিকার বন্ধ করতে হবে। রুই মাছের প্রজনন ঋতুতে মাছ ধরা নিষেধ করতে হবে।
৫। মৎস্যজীবীদের উদ্বুদ্ধকরণঃ মাছ চাষ ও মাছের গুরুত্ব সম্পর্কে মৎস্যজীবীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৬। নদী দখল বন্ধ করাঃ নদী দখল সম্পুর্ণ বন্ধ করতে হবে। মাছের প্রজনন ক্ষেত্র গুলো সব সময় নিরাপদ রাখতে হবে।
৭। নদী কমিশন গঠনঃ নদী কমিশন গঠন করতে হবে। নদী সংস্কার ও রক্ষাকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
৮। নদীর গতিপথ পরিবর্তন রোধঃ নদীর গতিপথ পরিবর্তন হলে মাছের আবাসস্থল ও প্রজনন ক্ষেত্র পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই নদীর গতিপথ পরিবর্তন রোধ করতে হবে।
৯। পোনা মজুদঃ সরকারী, বেসরকারী ও ব্যক্তিগত ভাবে রুই মাছের পোনা মজুদ রাখতে হবে।
১০। জাল যার জলা তারঃ যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক জলাশয় শাসন না করে মৎস্যজীবী দ্বারা জলাশয় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
১১। হালদা নদী সংরক্ষণঃ হালদা নদী হলো বাংলাদেশের একমাত্র রুই প্রজনন ভুমি। হালদা নদীকে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর মৎস্য খনী বলা হয়। প্রাকৃতিক এই প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ করতে হবে।
১২। বিষ প্রয়োগ বন্ধ করাঃ বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করতে হবে।
১৩। জনসচেতনতাঃ বিভিন্ন উপায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
১৪। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনঃ মাছ ও মাছের ডিম ধরা ও সংরক্ষণ বৈজ্ঞানিক ভাবে করতে হবে।
হালদা নদীকে প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক, মৎস্য খনি বা মেটারনিটি ক্লিনিক বলা হয় । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হলো হালদা নদী। এ নদী খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থানার বদনাতলী পাহাড় থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। নদীটি ফটিকছড়ির রাউজান ও হাটহাজারীর কালুরঘাট অতিক্রম করে কর্ণফুলী নদীতে মিশে গিয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ৯৫ কিলোমিটার এবং গভীরতা ২৫–৫০ ফুট।
হালদা নদী থেকে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশ প্রভৃতি কার্প জাতীয় মাছের ডিম সরাসরি সংগ্রহ করা হয়। হালদা নদীতে মাছের ডিম সংগ্রহের প্রধান মৌসুম হলো বৈশাখ–জৈষ্ঠ্য মাস। আমাবশ্যা ও পূর্ণিমার তিথিতে প্রবল বর্ষণ ও মেঘের গর্জনের সময় মা মাছ ডিম ছাড়ে। গত পঞ্চাশের দশকে দেশের মোট মৎস্য চাহিদার ৭০% পূরণ করতো হালদা নদীর পোনা। ১৯৪৬ সালে হালদা নদী থেকে ৪০০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০০৭ সালে ৩৫০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। একারণে হালদা নদীকে প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক এবং মৎস্য খনি নামে অভিহিত করা হয়। এই নদীকে মা মাছের মেটারনিটি ক্লিনিক বলা হয়।
বর্তমানে হালদা নদীর ৪টি বাঁক কেটে ফেলা হয়েছে। অপরিকল্পিত ভাবে সুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। মাছের প্রজননক্ষেত্র নষ্ট করা হয়েছে। মা মাছ নিধন করা হচ্ছে।
১৯৮৭ সালে চট্রগ্রামের হাটহাজারীর বাড়িঘোনা অংশকে প্রথমবারের মতো সরকারীভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালে হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন সম্পর্কে ৭০টি সুপারিশমালা তৈরী করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি নামে একটি আধুনিক গবেষণাগার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। ২০২১ সালে হালদা নদীর ২৩,৪২২ একর এলাকাকে হালদা মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে। হালদা মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণার সাথে সাথে ১০টি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
১। হালদা নদীতে কেউ মাছ ধরতে পারবে না।
২। মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রজনন মৌসুমে কেবলমাত্র ডিম সংগ্রহ করতে পারবে।
৩। কেউ হালদা নদীর জীববৈচিত্র্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
৪। হালদা নদীকে দূষিত করা যাবে না।
৫। এই নদীতে কেউ ময়লা–আবর্জনা ফেলতে পারবে না।
৬। হালদা নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
৭। এই নদীতে কোন বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না।
৮। হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহের কোন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।
৯। মাছের প্রজননকালে নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল করতে পারবে না।
১০। হালদা নদী কেবল গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
হালদা মৎস্য হেরিটেজ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
হালদা মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণার সাথে ১০টি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
১। হালদা নদীতে কেউ মাছ ধরতে পারবে না।
২। মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রজনন মৌসুমে কেবলমাত্র ডিম সংগ্রহ করতে পারবে।
৩। কেউ হালদা নদীর জীববৈচিত্র্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
৪। হালদা নদীকে দূষিত করা যাবে না।
৫। এই নদীতে কেউ ময়লা–আবর্জনা ফেলতে পারবে না।
৬। হালদা নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ কেউ পরিবর্তন করতে পারবে না।
৭। এই নদীতে কোন বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না।
৮। হালদা নদী থেকে পানি সংগ্রহের কোন প্রকল্প গ্রহণ করা যাবে না।
৯। মাছের প্রজননকালে নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌযান চলাচল করতে পারবে না।
১০। হালদা নদী কেবল গবেষণার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
রুই মাছের প্রজননক্ষেত্র । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) চট্রগ্রামের হালদা নদী (পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র)
(ii) যমুনা নদীর আরিচা, সিরাজগঞ্জ, ফুলছড়ি ঘাট, বাহাদুরাবাদ
(iii) কুষ্টিয়ার গড়াই নদী
(iv) পদ্মা নদীর রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ
(v) ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র
(vi) মধুমতি নদী
(vii) আড়িয়াল খা নদী
(viii) চলন বিল, হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওড়।
রুই মাছ বদ্ধ জলাশয়ে ডিম পাড়ে না কেন । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
রুই মাছের উত্তম প্রজননের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন, উপযুক্ত তাপমাত্রা, পর্যাপ্ত খাদ্য, স্রোত ও ঘোলা পানি এবং শত্রুমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়া রুই মাছ ডিম পাড়ে না। উপযুক্ত পরিবেশের অভাব হলে পরিপক্ক ডিম দেহ দ্বারা শোষিত হয়। এ ঘটনাকে অ্যাটরেশিয়া বলে। বদ্ধ জলাশয়ে বছরের পর বছর অ্যাটরেশিয়া ঘটে। তাই বদ্ধ জলাশয়ে রুই মাছের বংশবৃদ্ধি ঘটে না। শুধু দৈহিক বৃদ্ধ ঘটে। বদ্ধ জলাশয়ে জৈব বর্জ্য বেশি থাকে। এরুপ পানিতে BOD (Biological Oxygen Demand) মান বেশি এবং এর O2 পরিমাণ কম থাকে। বদ্ধ পানিতে নবায়ন ঘটে না। O2 কম থাকলে যৌন পরিপক্ক মাছ যৌন গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে যৌন প্রজননে আকৃষ্ট করতে পরে না। বদ্ধ জলাশয়ের পরিষ্কার পানিতে ডিম এবং লার্ভা সহজে শত্রুর শিকারে পরিনত নয়। বদ্ধ জলাশয়ের পানি ওলট-পালটনা হওয়ায় বহিঃনষেক অনিশ্চিত। তাই রুই মাছ বদ্ধ জলাশয়ে ডিম ছাড়তে আগ্রহী হয় না।
রুই মাছের স্পনিং এর শর্তাবলী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
(i) স্রোতযুক্ত স্বাদু পানির জলাশয়
(ii) ফেনিল বা ফেনাযুক্ত ঘোলা পানি
(iii) পানিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেনের উপস্থিতি
(iv) বজ্রপাতসহ প্রবল বর্ষণ
(v) উজানের পাহাড়ী ঢল
(vi) পানির তাপমাত্র ২৪-২৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড
(vii) নদীর বাঁক
(viii) পানির ওলট-পালট ঘটনা
(ix) বর্ষাকাল এবং অমাবস্যাবা পূর্ণিমা তিথি।