নেমাটোসিস্টের সূত্রক নিক্ষেপের কৌশল ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নেমাটোসিস্টের সূত্রক নিক্ষেপ একটি রাসায়নিক যান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কোন শিকার হাইড্রার কর্ষিকার নিকটবর্তী হলে সূত্রক নিক্ষিপ্তকরণ শুরু হয়। শিকারের দেহের রাসায়নিক পদার্থের কারণে হাইড্রার নেমাটোসিস্টের প্রাচীরের পানি ভেদ্যতা বেড়ে যায়। ক্যাপসুলের অভিস্রবণিক চাপ বা হাইড্রোস্ট্যাটিক চাপ বেড়ে যায়। থলীর ভিতর দ্রুত পানি প্রবেশ করে। থলীর ভিতর পলিগ্লুটামেট নামক রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরিত হয়। শিকার নিডোসিল স্পর্শ করা মাত্রই অপারকুলাম খুলে যায়। সূত্রক ক্ষিপ্র গতিতে বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়। এই সম্পূর্ণ ঘটনাটি মাত্র মিলি সেকেন্ডে ঘটে।

নেমাটোসিস্টের সূত্রক একবার নিক্ষিপ্ত হলে সেটি আর নিডোসাইটে ফিরিয়ে আনা যায় না। অর্থাৎ একবার নিক্ষিপ্ত হলে আর ব্যবহার করা যায় না। একই নিডোসাইটে আর কোন নেমাটোসিস্ট সৃষ্টি হয় না। ধরনের নিডোসাইট ধীরে ধীরে গ্যাস্ট্রোভাস্কুলারে প্রবেশ করে এবং খাদ্যবস্তুর সাথে মিশে হজম হয়ে যায়। ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নতুন নিডোসাইট সৃষ্টি হয় এবং ব্যবহার হয়।

হাইড্রার বিভিন্ন ধরনের নেমাটোসিস্টের গঠন ও কাজ ।। Nematocyst ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নিডোসাইট কোষে অবস্থিত প্যাচানো সূত্রকসহ ক্ষুদ্র থলীকে নেমাটোসিস্ট বলে। স্বাভাবিক অবস্থায় সূত্রকটি বাট ও কাঁটাসহ থলী বা ক্যাপসুলের ভিতর ঢুকানো থাকে। একটি নেমাটোসিস্ট একবার নিক্ষিপ্ত হলে আর কখনো ভিতরে প্রবেশ করে না। ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞানী ভার্নার (Werner) নিডেরিয়া জাতীয় প্রাণীদের দেহে ২৩ ধরনের নেমাটোসিস্ট শনাক্ত করেছেন। তবে হাইড্রাতে চার প্রকার নেমাটোসিস্ট দেখা যায়।

১। স্টেনোটিল বা পেনিট্র্যান্টঃ হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্টের মধ্যে স্টিনোটিল সবচেয়ে বড়। এর ক্যাপসুল বিষাক্ত হিপনোটক্সিন নামক তরল দ্বারা পুর্ণ থাকে। এর বাট মোটা। বাটে তিনটি বড় কাঁটা থাকে। একে বার্ব বলে। বাটে তিন সারি বার্বিউল থাকে।

স্টিনোটিল বা পেনিট্র্যান্টের কাজ

(i) ইহা হিপনোটক্সিন দ্বারা শিকারকে অবশ করে।

(ii) এর সূত্রক শিকারকে আঁকড়ে ধরে।

২। স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট বা হলোট্রাইকাস আইসোরাইজাঃ স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট মাঝারী ধরনের নেমাটোসিস্ট। এর ক্যাপসুল ছোট এবং বাট সুগঠিত নয়। এতে বার্ব নাই, তবে বার্বিউল থাকে। এর সূত্রক লম্বা, কাঁটাযুক্ত এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা শিকারকে প্যাচিয়ে ধরে।

(ii) চলনে সাহায্য করে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

৩। স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট বা অ্যাট্রাইকাস আইসোরাইজাঃ স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট হলো ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট। এদের বাট সুগঠিত নয়। বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রক ছোট, কাঁটাবিহীন এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা চলনে সাহায্য করে।

(ii) হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

(iv) শিকারকে আটকে ধরে।

৪। ভলভেন্ট বা ডেসমোনিমঃ ভলভেন্ট হলো অপেক্ষাকৃত ছোট নেমাটোসিস্ট। এদের বাট, বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রকটি মোটা, খাটো, স্থিতিস্থাপক, কাঁটাবিহীন ও শীর্ষদেশ বন্ধ। এর ক্যাপসুলের ভিতরে সূত্রকের একটি মাত্র প্যাচ থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়া অবস্থায়ও সূত্রকটি প্যাচানো থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে কর্ক-স্ক্রুর মতো অনেকগুলো প্যাঁচের সৃষ্টি করে।

ভলভেন্টের কাজ

(i) ইহা শিকারকে জড়িয়ে ধরে।

(ii) ইহা চলনে সাহায্য করে।

ভলভেন্ট এর কাজ ।। ডেসমোনিম এর কাজ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ভলভেন্ট হলো অপেক্ষাকৃত ছোট নেমাটোসিস্ট। এদের বাট, বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রকটি মোটা, খাটো, স্থিতিস্থাপক, কাঁটাবিহীন ও শীর্ষদেশ বন্ধ। এর ক্যাপসুলের ভিতরে সূত্রকের একটি মাত্র প্যাচ থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়া অবস্থায়ও সূত্রকটি প্যাচানো থাকে। নিক্ষিপ্ত হওয়ার সাথে সাথে কর্ক-স্ক্রুর মতো অনেকগুলো প্যাঁচের সৃষ্টি করে।
ভলভেন্টের কাজ
(i) ইহা শিকারকে জড়িয়ে ধরে।
(ii) ইহা চলনে সাহায্য করে।

স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্ট এর কাজ ।। অ্যাট্রাইকাস আইসোরাইজার কাজ ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

রিওলিন গ্লুটিন্যান্ট হলো ক্ষুদ্রতম নেমাটোসিস্ট। এদের বাট সুগঠিত নয়। বার্ব ও বার্বিউল থাকে না। এর সূত্রক ছোট, কাঁটাবিহীন এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্টেরিওলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা চলনে সাহায্য করে।

(ii) হাইড্রাকে কোন বস্তুর সাথে আটকে রাখে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

(iv) শিকারকে আটকে ধরে।

স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট এর কাজ ।। হলোট্রাইকাস আইসোরাইজার কাজ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্ট মাঝারী ধরনের নেমাটোসিস্ট। এর ক্যাপসুল ছোট এবং বাট সুগঠিত নয়। এতে বার্ব নাই, তবে বার্বিউল থাকে। এর সূত্রক লম্বা, কাঁটাযুক্ত এবং শীর্ষদেশ উন্মুক্ত।

স্ট্রেপটোলিন গ্লুটিন্যান্টের কাজ

(i) ইহা শিকারকে প্যাচিয়ে ধরে।

(ii) চলনে সাহায্য করে।

(iii) আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে।

স্টেনোটিল এর কাজ । পেনিট্র্যান্ট । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

হাইড্রার চার ধরনের নেমাটোসিস্টের মধ্যে স্টিনোটিল সবচেয়ে বড়। এর ক্যাপসুল বিষাক্ত হিপনোটক্সিন নামক তরল দ্বারা পুর্ণ থাকে। এর বাট মোটা। বাটে তিনটি বড় কাঁটা থাকে। একে বার্ব বলে। বাটে তিন সারি বার্বিউল থাকে।

স্টিনোটিল বা পেনিট্র্যান্টের কাজ

(i) ইহা হিপনোটক্সিন দ্বারা শিকারকে অবশ করে।

(ii) এর সূত্রক শিকারকে আঁকড়ে ধরে।

নিডোব্লাস্ট কোষের গঠন ও কাজ । নিডোসাইট কোষ  । Cnidoblast । Cnidocyte । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ knide অর্থ nettle এবং blastos অর্থ germ নিয়ে Cnidoblast শব্দটি গঠিত। হাইড্রার বহিঃত্বকে কলসি বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির যে কোষ থাকে তাকে নিডোব্লাস্ট কোষ বলে। ইহা গোলাকার, ডিম্বাকার, নাশপাতি, পেয়ালা বা লাটিম আকৃতির হতে পারে। পদতল ছাড়া দেহের সর্বত্র নিডোব্লাস্ট কোষ থাকে। তবে কর্ষিকায় এর সংখ্যা অধিক। কখনো কখনো কোষগুলো গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। এদের গুচ্ছকে ব্যাটারী বলে।

১। আবরণীঃ প্রতিটি নিডোব্লাস্ট কোষ দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। ইহা প্রোটিন ও লিপিড দ্বারা গঠিত। আবরণী দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজম, একটি নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, লাইসোজোম, রাইবোজোম প্রভৃতি থাকে।

২। নেমাটোসিস্টঃ  নিডোব্লাস্ট কোষে বিদ্যমান প্যাচানো সুত্রকসহ ক্ষুদ্র থলিকে নেমাটোসিস্ট বলে। নেমাটোসিস্টের থলীকে ক্যাপসুল বলে। ক্যাপসুলে বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন থাকে। হিপনোটক্সিন প্রোটিন ও ফেনল দ্বারা গঠিত। হিপনোটক্সিন বিষ নিউরোটক্সিক প্রকৃতির। অর্থাৎ শিকারের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে। এই বিষের মাত্রা ৭৫% গোখরা বা কোবরা সাপের বিষের মতো। নেমাটোসিস্টের অগ্রপ্রান্তে লম্বা ও ফাঁপা সূত্রক থাকে। সূত্রকের গোড়ার প্রশস্ত অংশকে বাট বা শ্যাফট বলে। বাটের উপর বার্ব নামক তিনটি বড় কাঁটা থাকে। বাটে সর্পিলাকারে সজ্জিত ছোট ছোট বার্বিউল কাঁটা থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্ট বাট ও কাঁটাসহ থলির ভিতরে ঢুকানো থাকে। একটি নেমাটোসিস্ট একবার নিক্ষিপ্ত হলে আর কখনো ভিতরে প্রবেশ করে না।

৩। অপারকুলামঃ  নেমাটোসিস্টের মুখে ঢাকনার মতো একটি অংশ থাকে। একে অপারকুলাম বলে। উন্মুক্ত অবস্থায় ইহা পাশে সরে যায়।

৪। নিডোসিলঃ নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তে শক্ত, দৃঢ়, ক্ষুদ্র ও অতিসংবেদনশীল একটি ফাঁপা কাঁটা থাকে। একে নিডোসিল বলে। ইহা একটি রুপান্তরিত সিলিয়াম। ইহা ট্রিগারের মতো কাজ করে। ফলে প্যাচানো সূত্রক বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়।

৫। পেশিসূত্র ও ল্যাসো (গঁংপষব ভরনৎব ্ খধংংড়) ঃ  নেমাটোসিস্টের নি¤œ প্রান্ত হতে কতক গুলো পেশী সূত্র নির্গত হয়। এছাড়া নি¤œ প্রান্তে ল্যাসো নামক একটি প্যাচানো সুতা থাকে।

নিডোব্লাস্টের কাজ

১। আত্মরক্ষাঃ  নেমাটোসিস্টের ভিতরে হিপনোটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ থাকে। হাইড্রা এই বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা আত্মরক্ষা করে।

২। শিকার ধরাঃ  নেমাটোসিস্টের সূত্রক দ্বারা হাইড্রা খাদ্যকে আকড়ে ধরে। এরপর শিকারকে অবশ করে।

৩। চলনঃ নিমাটোসিস্ট কোষ হাইড্রাকে চলনে সাহায্য করে। হাইড্রায় বিভিন্ন ধরনের চলন ঘটে।

৪। দেহকে আটকে রাখাঃ  নেমাটোসিস্ট আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে । ইহা দ্বারা হাইড্রা কোন বস্তুর সাথে আটকে থাকে।

নিডোব্লাস্টের কাজ । Cnidoblast । Cnidocyte । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। আত্মরক্ষাঃ  নেমাটোসিস্টের ভিতরে হিপনোটক্সিন নামক বিষাক্ত পদার্থ থাকে। হাইড্রা এই বিষাক্ত পদার্থ দ্বারা আত্মরক্ষা করে।

২। শিকার ধরাঃ  নেমাটোসিস্টের সূত্রক দ্বারা হাইড্রা খাদ্যকে আকড়ে ধরে। এরপর শিকারকে অবশ করে।

৩। চলনঃ নিমাটোসিস্ট কোষ হাইড্রাকে চলনে সাহায্য করে। হাইড্রায় বিভিন্ন ধরনের চলন ঘটে।

৪। দেহকে আটকে রাখাঃ  নেমাটোসিস্ট আঠালো পদার্থ ক্ষরণ করে । ইহা দ্বারা হাইড্রা কোন বস্তুর সাথে আটকে থাকে।

নিডোব্লাস্ট কোষের গঠন । নিডোসাইট কোষের গঠন । Cnidoblast/Cnidocyte । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রীক শব্দ knide অর্থ nettle এবং blastos অর্থ germ নিয়ে Cnidoblast শব্দটি গঠিত। হাইড্রার বহিঃত্বকে কলসি বা ফ্ল্যাক্স আকৃতির যে কোষ থাকে তাকে নিডোব্লাস্ট কোষ বলে। ইহা গোলাকার, ডিম্বাকার, নাশপাতি, পেয়ালা বা লাটিম আকৃতির হতে পারে। পদতল ছাড়া দেহের সর্বত্র নিডোব্লাস্ট কোষ থাকে। তবে কর্ষিকায় এর সংখ্যা অধিক। কখনো কখনো কোষগুলো গুচ্ছাকারে অবস্থান করে। এদের গুচ্ছকে ব্যাটারী বলে।
১। আবরণীঃ প্রতিটি নিডোব্লাস্ট কোষ দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। ইহা প্রোটিন ও লিপিড দ্বারা গঠিত। আবরণী দুটির মাঝখানে দানাদার সাইটোপ্লাজম, একটি নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, লাইসোজোম, রাইবোজোম প্রভৃতি থাকে।
২। নেমাটোসিস্টঃ নিডোব্লাস্ট কোষে বিদ্যমান প্যাচানো সুত্রকসহ ক্ষুদ্র থলিকে নেমাটোসিস্ট বলে। নেমাটোসিস্টের থলীকে ক্যাপসুল বলে। ক্যাপসুলে বিষাক্ত তরল হিপনোটক্সিন থাকে। হিপনোটক্সিন প্রোটিন ও ফেনল দ্বারা গঠিত। হিপনোটক্সিন বিষ নিউরোটক্সিক প্রকৃতির। অর্থাৎ শিকারের স্নায়ুতন্ত্রের উপর কাজ করে। এই বিষের মাত্রা ৭৫% গোখরা বা কোবরা সাপের বিষের মতো। নেমাটোসিস্টের অগ্রপ্রান্তে লম্বা ও ফাঁপা সূত্রক থাকে। সূত্রকের গোড়ার প্রশস্ত অংশকে বাট বা শ্যাফট বলে। বাটের উপর বার্ব নামক তিনটি বড় কাঁটা থাকে। বাটে সর্পিলাকারে সজ্জিত ছোট ছোট বার্বিউল কাঁটা থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় নেমাটোসিস্ট বাট ও কাঁটাসহ থলির ভিতরে ঢুকানো থাকে। একটি নেমাটোসিস্ট একবার নিক্ষিপ্ত হলে আর কখনো ভিতরে প্রবেশ করে না।
৩। অপারকুলামঃ নেমাটোসিস্টের মুখে ঢাকনার মতো একটি অংশ থাকে। একে অপারকুলাম বলে। উন্মুক্ত অবস্থায় ইহা পাশে সরে যায়।
৪। নিডোসিলঃ নিডোসাইট কোষের মুক্ত প্রান্তে শক্ত, দৃঢ়, ক্ষুদ্র ও অতিসংবেদনশীল একটি ফাঁপা কাঁটা থাকে। একে নিডোসিল বলে। ইহা একটি রুপান্তরিত সিলিয়াম। ইহা ট্রিগারের মতো কাজ করে। ফলে প্যাচানো সূত্রক বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়।
৫। পেশিসূত্র ও ল্যাসোঃ নেমাটোসিস্টের নিম্ন প্রান্ত হতে কতক গুলো পেশী সূত্র নির্গত হয়। এছাড়া নিম্ন প্রান্তে ল্যাসো নামক একটি প্যাচানো সুতা থাকে।

মেসোগ্লিয়ার কাজ ।। Mesogloea ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

নিডারিয়া জাতীয় প্রাণীদের এপিডার্মিস ও গ্যাস্ট্রোডার্মিসের মাঝখানে যে জেলীর মতো আঠালো অকোষীয় স্তর থাকে তাকে মেসোগিøয়া বলে। ইহা পাতলা, বর্ণহীন ও স্থিতিস্থাপক। এর ব্যাস ০.১ মাইক্রন।
মেসোগ্লিয়ার কাজ
১। মেসোগ্লিয়া বহিঃত্বক ও অন্তঃত্বকের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
২। ইহা সংযুক্তি তল হিসেবে কাজ করে।
৩। ইহা দেহকে সংকোচন-প্রসারণ করে।
৪। দেহের নমনীয় কঙ্কাল হিসেবে কাজ করে।
৫। ইহা মায়োফাইব্রিল ধারণ করে।