সার্কোপটেরাইজিয়াই-এর বৈশিষ্ট্য ।। Sarcopterygii ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। অন্তঃকঙ্কাল এন্ডোকন্ড্রালজাত অস্থি নির্মিত।

২। দেহ গ্যানয়েড বা কসময়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত। কসময়েড আঁইশ কসমিনযুক্ত।

৩। মাংসাল খন্ডক বিশিষ্ট পিন্ডাকার যুগ্ন পাখনা থাকে।

৪। পুচ্ছ পাখনা ডাইফিসার্কাল প্রকৃতির। অর্থাৎ পুচ্ছ পাখনার অংশ দুটি একীভূত হয়ে অভিন্ন নমনীয় পাখনা হিসেবে লেজকে ঘিরে অবস্থিত।

৫। মাথার দুই পাশে অস্থিময় ফুলকা থাকে। ফুলকা দ্বারা এরা শ্বসন ঘটায়।

৬। কানকো দ্বারা এদের ফুলকা আবৃত থাকে।

৭। এদের বায়ু থলী বা পটকা রক্তজালিকা সমৃদ্ধ এবং ^সন ভেসে থাকতে সাহায্য করে।

৮। এদের হৃৎপিন্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।

৯। এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট বা এক্টোথার্মিক প্রাণী। অর্থাৎ পরিবেশের তাপমাত্রা উঠানামার সাথে এদের দেহের তাপমাত্রা পরিবর্তন হয়।

১০। এদের চোয়ালে এনামেল আবৃত দাঁত থাকে।

১১। এরা একলিঙ্গিক প্রাণী। এদের বহিঃনিষেক বা অন্তঃনিষেক ঘটে।

[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ অন্তঃকঙ্কাল, গ্যানয়েড, কসময়েড, পিন্ডাকার পাখনা, ডাইফিসার্কাল, ফুলকা, কানকো, পটকা, এক্টাথার্মিক, এনামেল]

   সার্কোপটেরাইজিয়াই কী ।। Sarcopterygii ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রিক শব্দ sarkos অর্থ flesh বা মাংসল এবং pteryx অর্থ fin বা পাখনা নিয়ে Sarcopterygii শব্দটি গঠিত। পিন্ডাকার পাখনাবিশিষ্ট মাছ সার্কোপটেরাইজিয়াই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এদের যুগ্ন পাখনাগুলো মাংসল তাই এরা লোব ফিনড নামে পরিচিত। এরা লাংফিশ এবং সিলাকান্থ নামে পরিচিত। লাংফিশ আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় বিস্তৃত। সিলাকান্থ ভারত মহাসাগর এবং ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে বিস্তৃত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই শ্রেণীর মাছ থেকে চতুষ্পদী স্থলচর হিসেবে উভচর গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমানে এদের ৮টি প্রজাতির মাছ জীবিত আছে।

টিনয়েড আঁইশ কী ।। Cteoid scale ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

অস্থিময় মাছের দেহে চাকতির যে আঁইশ থাকে তাকে টিনয়েড আঁইশ বলে। এর পশ্চাৎ ভাগের কিনারা সুক্ষ্ম  কাঁটাযুক্ত। যেমন- Anabas testudineus

সাইক্লয়েড আঁইশ কী ।। Cycloid scale ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মাছের যে আঁইশ গুলো গোলাকার বা ডিম্বাকার, বৃদ্ধিরেখা যুক্ত এবং কিনারা মসৃন তাকে সাইক্লয়েড আঁইশ বলে। আঁইশের ভিতরের অংশকে অগ্রভাগ, বাইরের অংশকে পশ্চাদভাগ এবং দু’পাশের অংশকে পার্শ্বভাগ বলে। অগ্রভাগে লম্বালম্বি খাঁজ বা radii থাকে। যেমন- Labeo rohita

হোমোসার্কাল কী ।। Homocercal ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

মাছের পুচ্ছ পাখনার খন্ড দু’টি সমান হলে তাকে হোমোসার্কাল বলে। অ্যাকটিনোটেরিজি শ্রেণীর মাছে হোমোসার্কাল থাকে। যেমন- ইঁলিশ (Tenualosa ilisha)।

ক্যাট ফিশ কী ।। Cat fish ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব মাছের মুখের চারিদিকে বিড়ালের গোঁফের মতো বার্ব বা কর্ষিকা থাকে তাদেরকে ক্যাট ফিশ বলে। ক্যাটফিশ অ্যাকটিনোটেরিজি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত মাছ। যেমন- শিং মাছ, মাগুর মাছ প্রভৃতি।

অ্যাকটিনোপটেরিজি শ্রেণীর কয়েকটি মাছ, উদাহরণ ।। Osteichthyes ।। Actinopterygii ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

ইঁলিশ- Tenualosa ilisha

রুই- Labeo rohita

কাতলা- Catla catla

টাকি মাছ- Channa punctatus

মাগুর মাছ- Clarias batrachus

বোয়াল- Wallago attu

রানী মাছ- Botia dario

টুনা মাছ- Thunnus albacares

কই মাছ- Anabas testudineus

চিতল মাছ- Notopterus chitala

পাঙ্গাস মাছ- Pangasius pangasius

মৃগেল মাছ- Cirrhinus cirrhosus

বোম্বে ডাক/লইট্রা মাছ- Harpadon nehereus

স্টার্জন মাছ- Acipenser oxyrhynchus

প্যাডল মাছ- Polyodon spathula

শিং মাছ- Heteropneustis fossilis

সানফিশ- Mola mola

অ্যাকটিনোপটেরিজির বৈশিষ্ট্য ।। Osteichthyes ।। Actinopterygii ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। এদের অন্তঃকঙ্কাল অস্থি নির্মিত।

২। দেহ সাইক্লয়েড, টিনয়েড ও গ্যানয়েড আঁইশ দ্বারা আবৃত। কোন কোন মাছে আঁইশ থাকে না। যেমন- শিং, মাগুর ইত্যাদি।

৩। দেহের সকল পাখনা অস্থিময় এবং ত্বকীয় রশ্মি যুক্ত (লেপিডোট্রাকিয়া)।

৪। এদের ফুলকা কানকো দ্বারা আবৃত।

৫। পুচ্ছ পাখনা হোমোসার্কাল ধরনের। অর্থাৎ পুচ্ছ পাখনা দুইটি সমান অংশে বিভক্ত।

৬। এদের মুখছিদ্র অগ্রপ্রান্তে অবস্থিত।

৭। এদের মস্তিষ্ক সেরেবেলাম, অপটিক লোব ও সেরেব্রাম দ্বারা গঠিত।

৮। দেহে ১০ জোড়া করোটিক স্নায়ু থাকে।

৯। চার জোড়া ফুলকা নিয়ে শ^সন অঙ্গ গঠিত। মাথার দু’পাশে একটি করে ফুলকারন্ধ্র থাকে।

১০। দেহে বায়ুথলী বিদ্যমান।

১১। পটকার সাহায্যে এরা শ্বসন চালায় এবং ভেসে থাকে।

১২। এদের হৃৎপিন্ড দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং ভেনাস হার্ট নামে পরিচিত।

১৩। এরা একলিঙ্গিক প্রাণী। বহিঃনিষেক ঘটে। প্রত্যক্ষ বাপরোক্ষ পরিস্ফুটন দেখা যায়।

[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ অন্তঃকঙ্কাল, সাইক্লয়েড, টিনয়েড, গ্যানয়েড, ত্বকীয় রশ্মি, কানকো, হোমোসার্কাল, মুখছিদ্র, মস্তিষ্ক, করোটিক স্নায়ু, ফুলকা, বায়ুথলী, হৃৎপিন্ড]

অ্যাকটিনোপটেরিজি কী।। অস্থিময় মাছ ।। Osteichthyes ।। Actinopterygii ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

গ্রিক শব্দ actis অর্থ rays বা রশ্মি, pteryx অর্থ fin বা পাখনা নিয়ে Actinopterygii শব্দটি গঠিত। Actinopterygii এর অর্থ হলো রশ্মিযুক্ত পাখনা। রশ্মিময় পাখনাবিশিষ্ট মাছ Actinopterygii নামে পরিচিত। জীবিত মাছের প্রায় ৯৬% এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এরা ১০ মিমি থেকে ৪ মিটার লম্বা এবং ১৫০০ কেজি ওজনের হয়। এদের প্রজাতির সংখ্যা ৩১,০৪৫। বাংলাদেশের মিঠা পানিতে এই শ্রেণীর ১২টি বর্গ, ৪৮টি গোত্র এবং ২৫৩টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে।

সফিশ কী ।। Sow fish ।। ডি. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

যে সব মাছের দেহের অগ্রভাগে করাতের মতো লম্বা তুন্ড থাকে তাদেরকে করাত মাছ বা স’ফিশ বলে। এরা কন্ড্রিকথিস শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। যেমন- Pristis pectinata