গ্রিক শব্দ myxa অর্থ slime বা পিচ্ছিল আবরণী। এরা হ্যাগফিস নামে পরিচিত। কুৎসিত প্রকৃতির মাছকে স্নাইম ইল (slime eel) বলে। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৭০।
১। এদের দেহ সরু, লম্বাটে, পিচ্ছিল গ্রন্থিযুক্ত এবং জোড়া পাখনাবিহীন।
২। এরা দেখতে ইল বা বাইন মাছের মতো।
৩। মেরুদন্ডে নটোকর্ড ও তন্তুময় নিউরাল টিউব থাকে।
৪। এদের মুখ প্রান্তীয় এবং ৪ জোড়া কর্ষিকাযুক্ত।
৫। এদের ৫-১৫ জোড়া ফুলকারন্ধ্র থাকে।
৬। এদের নাসিকা থলী মুখ গহ্বরে উন্মুক্ত।
৭। পৃষ্ঠীয় স্নায়ুরজ্জুর অগ্রভাগ মস্তিষ্ক গঠন করে। সেরেবেলাম অনুপস্থিত। ১০ জোড়া করোটিক স্নায়ু বিদ্যমান।
৮। এরা হ্যাগফিস নামে পরিচিত।
৯। এরা অ্যানিলিড, মলাস্ক, ক্রাস্টাসিয়ান, আর্থ্রাপোড বা মৃতপ্রায় মাছ আহার করে।
১০। পরিপাকতন্ত্রে পাকস্থলী থাকে না এবং অন্ত্রে সর্পিল কপাটিকা অনুপস্থিত।
১১। এরা সবাই সামুদ্রিক।
১২। এদের জীবনচক্র লার্ভা দশা নাই।
১৩। এরা একলিঙ্গিক প্রাণী। এদের বহিঃনিষেক ঘটে। ডিম কুসুমযুক্ত এবং বৃহদাকার।
Category: Biology Second Paper
সাইক্লোস্টোমাটা ।। অ্যাগনাথা ।। Cyclostomata ।। Agnatha ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গ্রিক শব্দ a অর্থ অনুস্থিত এবং gnathos অর্থ চোয়াল নিয়ে Agnatha শব্দটি গঠিত। Agnatha এর অর্থ হলো চোয়ালবিহীন। গ্রিক শব্দ cyclos অর্থ round বা গোলাকার এবং stoma অর্থ mouth বা মুখ নিয়ে Cyclostomata শব্দটি গঠিত। যে সব মেরুদন্ডী প্রাণীদের চোয়াল, আঁইশ এবং যুগ্ম উপাঙ্গ নাই তাদেরকে সাইক্লোস্টোমাটা (Cyclostomata) বলা হয়। এদের অন্তঃকঙ্কাল তরুণাস্থিময় এবং ৫-১৫ জোড়া ফুলকাছিদ্র থাকে। এরা পরজীবী বা মৃতজীবী খাদ্যাভাসে অভিযোজিত। জীবিত হ্যাগফিস (Hagfish), ল্যাম্প্রে (Lamprey) এবং বিলুপ্ত অস্ট্রাকোডার্ম (Ostracoderm) অ্যাগনাথার অন্তর্ভুক্ত। অ্যাগনাথা ২টি শ্রেণী নিয়ে গঠিত। মিক্সিনি এবং পেট্রোমাইজনটিডা।
ভার্টিব্রাটা উপপর্বের বৈশিষ্ট্য ।। Vertebrata ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। এদের নটোকর্ডটি মেরুদন্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
২। ফাঁপা স্নায়ুরজ্জুর অগ্রভাগ মস্তিষ্ক এবং পশ্চাৎ ভাগ সুষুষ্মাকান্ড গঠন করে।
৩। এদের ৫–১৫ জোড়া গলবিলীয় ফুলকারন্ধ্র থাকে।
৪। পার্শ্বীয় জোড় পাখনা অথবা পদ এদের চলন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে।
৫। রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ধরনের। ইহা পেশিবহুল হৃৎপিন্ড, রক্তনালি ও লাল রক্ত (হিমোগ্লোবিন যুক্ত) দ্বারা গঠিত।
৬। দেহ ত্বক এপিডার্মিস (এক্টোডার্ম উদ্ভ‚ত) এবং ডার্মিস (মেসোডার্ম উদ্ভ‚ত) নিয়ে গঠিত।
৭। ২–৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট হৃৎপিন্ড ও রক্ত নালিকা থাকে।
৮। মস্তিষ্ক করোটিকা দ্বারা সুরক্ষিত থাকে। মস্তিষ্কে ১০–১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু থাকে।
৯। অস্থি বা তরুণাস্থি নির্মিত অন্তঃকঙ্কাল রয়েছে। অন্তঃকঙ্কাল নিউরাল ক্রেস্ট থেকে সৃষ্ট।
১০। দেহে ত্বকীয় গ্রন্থি, পালক, আঁইশ, নখ, নখর, লোম, শিং, খুর প্রভৃতি বিদ্যমান।
১১। দেহে বিভিন্ন ধরনের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বিদ্যমান।
১২। পৌষ্টিকতন্ত্র সম্পূর্ণ; পেশিময় পৌষ্টিকনালি, যকৃত ও অগ্ন্যাশয় নিয়ে গঠিত।
১৩। রেচন ও অসমোরেগুলেশনের জন্য সুগঠিত বৃক্ক রয়েছে।
[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ মেরুদন্ড, মস্তিষ্ক, সুষুষ্মাকান্ড, ফুলকারন্ধ্র, পদ, পাখনা, বদ্ধ সংবহনতন্ত্র, করোটিক স্নায়ু, অন্তঃকঙ্কাল, রেচন, অসমোরেগুলেশন]
ভার্টিব্রাটা কী ।। Vertebrata ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ল্যাটিন শব্দ vertebratus অর্থ মেরুদন্ডবিশিষ্ট নিয়ে Vertebrata শব্দটি গঠিত। যে সকল প্রাণীর ভ্রæণীয় নটোকর্ড পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় অস্থি অথবা তরুণাস্থি গঠিত মেরুদন্ড দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় তাদেরকে ভার্টিব্রাটা বলে। ভার্টিব্রাটা বা মেরুদন্ডী প্রাণী উচ্চশ্রেণীর প্রাণি হিসেবে পরিচিত। এদের মস্তিষ্ক ক্রেনিয়ামের মধ্যে অবস্থান করে বলে এদের আরেক নাম ক্রেনিয়াটা (craniata)। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৬৬,১৭৮ (IUCN, 2014)।
১৫০ মিলিয়ন বছরের বেশি সময় ধরে মেরুদন্ডী (মাছ) সাগরে ছিল। প্রায় ৩৬৫ মিলিয়ন বছর আগে মেরুদন্ডী প্রাণীদের একটি গোষ্ঠীতে হাত ও পা সৃষ্টি হয়। ফলে তারা উভচর হিসেবে জলে এবং স্থলে বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করে। কালক্রমে উভচরদের বংশধর নানাভাবে অভিযোজিত হয়ে সরীসৃত, পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীতে রুপান্তরিত হয়।
এন্ডোস্টাইল কী ।। Endostyle ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ইউরোকর্ডেট এবং সেফালোকর্ডেট প্রাণীদের গলবিলে মিউকাস ক্ষরণকারী একজোড়া ভাঁজকে এন্ডোস্টাইল বলে। এন্ডোস্টাইল হলো সমান্তরাল অনুদৈর্ঘ্য ভাঁজ। ইহা গলবিলের অঙ্কীয় তলে অবস্থিত। ভার্টিব্রেট প্রাণীদের এন্ডোস্টাইল থাইরয়েড গ্রন্থিতে রুপান্তরিত হয়। যেমন– Branchiostoma ।
ওরাল সিরি কী ।। Oral cirri ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
সেফালোকর্ডেট প্রাণীদের ওরাল হুডে যে সরু সূতার মতো কর্ষিকা থাকে তাকে ওরাল সিরি বলে। ওরাল সিরিগুলো মুখের চারিদিকে ঝুলে থাকে। ইহা সংবেদী অঙ্গ। ইহা ছাঁকন যন্ত্র হিসেবে কাজ করে। যেমন– Branchiostoma|
ওরাল হুড কী ।। Oral hood ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
সেফালোকর্ডেট প্রাণীদের মুখের চারিদিকে নৌকার ছইয়ের মতো যে গঠন থাকে তাকে ওরাল হুড বলে। মুখের মেটাপ্লিউরাল ভাঁজ প্রসারিত হয়ে ওরাল হুড গঠন করে। যেমন– Branchiostoma।
সেফালোকর্ডাটার বৈশিষ্ট্য ।। Cephalochordata ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। দেহ লম্বা, পাতলা, পার্শ্বীয় ভাবে চাপা, স্বচ্ছ, নৌকাকৃতির এবং উভয় প্রান্ত সূঁচালো।
২। দেহের সামনে অঙ্কীয়ভাবে ওরাল হুড এবং তাতে ওরাল সিরি থাকে।
৩। দেহের সম্মুখ থেকে পশ্চাৎ পর্যন্ত স্থায়ী নটোকর্ড ও নার্ভকর্ড থাকে।
৪। গলবিলে অসংখ্য ফুলকা রন্ধ্র থাকে। ফুলকা গুলো অ্যাট্রিয়ামে উন্মুক্ত হয়।
৫। দেহের অঙ্কীয়দেশে এট্রিওপোর থাকে।
৬। দেহ ৩–৭ সেমি লম্বা এবং দেহের দু’পাশে ৬০ জোড়া > আকারের মায়োটোম পেশি থাকে।
৭। এরা দেখতে অনেকটা বল্লামের আগার মতো। তাই এদের ডাক নাম ভল্লাকার প্রাণী।
৮। এদের গলবিলে অসংখ্য অ্যাট্রিয়াম এবং তাতে অ্যাট্রিওপোর থাকে।
৯। এদের বহিঃনিষেক ঘটে।
১০। এদেরকে ইংরেজিতে ল্যানসেলেট বলে।
১১। এদের সুস্পষ্ট মস্তক নাই।
১২। রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ ও উন্নত ধরনের। হেপাটিক পোর্টালতন্ত্র বিদ্যমান।
১৩। প্রধান রেচন অঙ্গ হলো প্রোটোনেফ্রিডিয়া। প্রোটোনেফ্রিডিয়ায় সোলেনোসাইট কোষ থাকে।
[বৈশিষ্ট্য মনে রাখার প্রধান শব্দঃ নৌকাকৃতি, ওরাল হুড, ওরাল সিরি, নটোকর্ড, নার্ভকর্ড, ফুলকারন্ধ্র, মায়োটোম পেশি, বহিঃনিষেক, ল্যানসেলেট, প্রোটোনেফ্রিডিয়া]
সেফালোকর্ডাটা কী ।। Cephalochordata ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
গ্রীক শব্দ Kephale অর্থ head বা মাথা এবং chorda অর্থ chord নিয়ে Cephalochordata শব্দটি গঠিত। এদেরকে সাধারণত বর্শাফলক প্রাণী বা lancelets বলা হয়। প্রথমে এদেরকে Amphioxus (amphi = both অর্থ উভয় প্রান্ত, ends = oxys অর্থ ধারালো) হিসেবে বর্ণনা করা হয়। পরে অগ্রাধিকার আইন অনুযায়ী এদের Branchiostomata (branchia = gill অর্থ ফুলকা, stoma = mouth অর্থ মুখ) নাম দেওয়া হয়। সেফালোকর্ডাটাদেরকে invertebrate chordates বলা হয়। ১৭৭৪ সালে বিজ্ঞানী পিটার সিমন প্যালাস (Peter Simon Pallas, 1774) Branchiostoma lanceolatum বর্ণনা করেন। এদের প্রজাতি সংখ্যা ৩৩।
টিউনিক কী ।। Tunic ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
ইউরোকর্ডেট প্রাণীদের দেহ যে আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে তাকে টিউনিক বলে। ইহা স্বচ্ছ বা অর্ধ-স্বচ্ছ এবং চর্মবৎ। ইহা টিউনিসিন নামক সেলুলোজ দ্বারা গঠিত। টিউনিসিন হলো উদ্ভিদ সেলুলোজের অনুরুপ। যেমন- Ascidia mentula|