রেস্ট্রিকশন এনজাইম কী ।। Restriction Enzyme কী

যে এনজাইম ব্যবহার করে DNA হতে নির্দিষ্ট অংশ কেটে নেয়া হয় তাকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম বা RE বলে। রেস্ট্রিকশন এনজাইমকে আণবিক কাঁচি বা জৈবিক ছুরি (Biological Knife) বলা হয়। রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে DNA অণু কাটলে দুইটি প্রান্তদেশ তৈরী হয়। একটিব্লান্ট প্রান্ত এবং অপরটি স্টিকি প্রান্ত। ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রায় ২৫০ রকমের রেস্ট্রিকশন এনজাইম পাওয়া গিয়েছে। বিজ্ঞানী হামিল্টন স্মিত (Hamilton Smith) এবং তাঁর সহযোগীরা (১৯৭০) রেস্ট্রিকশন এনজাইম আবিষ্কার করেন।

GM ফসল ক্ষতিকর কিনা

Bt জিন পোকার জন্য ক্ষতিকর হলেও প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর নয়। পৃথিবীর উন্নত দেশ ছাগল, মুরগী, মাছ, খরগোশ, ইঁদুর, গিনিপিগ প্রভৃতির উপর ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে প্রমাণ করেছে যে, বিটি বেগুন ক্ষতিকর নয়। ইহা মানুষের জন্য ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়নি। তাই দ্বিধাহীন মনে Bt বেগুন খাওয়া যাবে।

বিটি বেগুন চাষের সুবিধা কী কী

১। কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। উৎপাদন খরচ কম হয়।

২। ইহা বিষক্রিয়া ঘটায় না এবং ক্যান্সারের ঝুকি থাকে না।

৩। মাটি পরিবেশ বিষমুক্ত থাকবে।

৪। জলাশয় এবং পানি বিষমুক্ত থাকবে।

৫। ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

৬। পোকামাকড়ের আক্রমণ ঘটে না বলে ফসল নষ্ট হয় না।

৭। পোকার আক্রমণ রোধে ৬০১৮০ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হতো। বিটি বেগুনে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না।

বিটি বেগুন (Bt) কী

Bacillus thuringiensis ব্যাকটেরিয়া থেকে জিন নিয়ে বেগুনে প্রবেশ করিয়ে বিটি বেগুন (Bt) উৎপন্ন করা হয়েছে। এছাড়া এই বেগুনে অ্যান্টিবডি প্রতিরোধকারী এবং জীবাণু প্রতিরোধকারী জিন প্রবেশ করানো হয়েছে। বিটি বেগুন হলো কীটপতঙ্গ রোগ প্রতিরোধী জাত। ভারতের মহারাষ্ট্রের মায়ায়কো কোম্পানি বিটি বেগুন সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশে প্রথম GM খাদ্য ফসল কোনটি

জেনেটিক মডিফিকেশনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন যে ফসল উৎপাদন করা হয় তাকে GM ফসল বলে। পৃথিবীতে ৩০টিও বেশি দেশ GM (Genetically Modified Crop) ফসল উৎপাদন করছে। বাংলাদেশে প্রথম GM খাদ্য ফসল হলো বিটি (Bt) বেগুন। বাংলাদেশ সরকার ২২ জানুয়ারী ২০১৪ সালে বিটি (Bt) বেগুনের চারটি জাত চাষের জন্য কৃষকের কাছে বিতরণ করেছে।

GMO ।। GMO এর অসুবিধা কী কী

১। খাদ্যে অতিরিক্ত প্রোটিন থাকে যা দেহের জন্য ক্ষতিকর।

২। এলার্জি সৃষ্টি হতে পারে।

৩। দেশী জাতের ফসল হারিয়ে যেতে পারে।

৪। সাধারণ মানুষকে খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানীর উপর নির্ভরশীল হতে হবে।

৫। স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থা অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যেতে পারে।

৬। ক্ষতিকর পতঙ্গগুলো কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে।

৭। স্বাভাবিক ইকোসিস্টেমের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

৮। অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিন মানুষের দেহে ক্ষতি করতে পারে।

৯। মানুষের দেহে অ্যালার্জেন, কার্সিনোজেন (ক্যান্সার সৃষ্টিকারী) প্রভৃতি সৃষ্টি হতে পারে।

১০। জিনের বিশুদ্ধতা নষ্ট হতে পারে।

১১। প্রকৃতিতে আগাছানাশক প্রতিরোধী অতি আগাছা সৃষ্টি হতে পারে।

১২। ট্রান্সজেনিক জীব সৃষ্টি ব্যয় বহুল এবং সময় সাপেক্ষ।

GMO ।। MO এর সুবিধা কী কী

১। ফসল অধিক ফলনশীল এবং পরিবেশীয় পীড়ন ঠান্ডা, খরা, তাপ, লবণাক্ততা প্রভৃতি সহ্যক্ষম হয়।
২। খাদ্যের গুণগত মান উন্নয়ন হয়। সোনালী ধানের উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন এবং সয়াবিনে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।
৩। প্রাণীদের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।
৪। ফসল জীবাণু, পোকা ও আগাছা প্রতিরোধী হয়।
৫। পরিবেশ বান্ধব এবং পরিবেশ দুষণ মুক্ত হয়।
৬। খাদ্য চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।
৭। অল্প জায়গায় বেশি পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব।
৮। ট্রান্সজেনিক খাদ্যশস্য রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে দেয়।
৯। সংরক্ষণের সময়ে ফসলের ক্ষতি কম হয়।
১০। মাটির উর্বরতা বজায় থাকে। তাই অতিরিক্ত খরচ করতে হয় না।

GMO কী ।। GEO কী

জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে বিভিন্ন প্রকার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন যে সব জীব সৃষ্টি করা হয় তাকে GMO (Genetically Modified Organism) বা GEO (Genetically Egineered Organism)) বলে। ট্রান্সজেনেসিস পদ্ধতিতে এই জীবের উৎপত্তি ঘটে।

১৯৯৫ সালে আমেরিকায় সর্বপ্রথম GMO খাদ্য মানুষের আহার যোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৯ সালের মধ্যে প্রায় ৫০% শস্য, তুলা সয়াবিন GM  বলে জানা যায়। ২০১০ সালে বিশ্বের ২৯টি দেশের ৯.মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার জমি GM খাদ্যশস্য চাষের আওতায় আসে। বর্তমানে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, ইন্ডিয়া প্রভৃতি দেশ ৯০% GM খাদ্যশস্য উৎপাদন করে।

আগাছা নিধনকারী পদার্থ সহনশীল উদ্ভিদ

গ্লাইফোসেট (Glyphosate) একটি মারাত্বক আগাছা নিধনকারী পদার্থ। পৃথিবীতে বিদ্যমান ৭৮টি আগাছার মধ্যে ৭৬টি গ্লাইফোসেট দ্বারা ধ্বংস হয়। ইহা ফসলী উদ্ভিদেরও ব্যাপক ক্ষতি করে। তাই গ্লাইফোসেট অতি সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। ব্যাকটেরিয়া থেকে এনজাইম উৎপাদনকারী জিন নিয়ে ফসলী উদ্ভিদে প্রবেশ করিয়ে ট্রান্সজেনিক ফসলী উদ্ভিদ (তুলা, সয়াবিন) সৃষ্টি করা হয়েছে। গ্লাইফোসেট এসব ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদের কোন ক্ষতি করতে পারে না। তাই ট্রান্সজেনিক ফসলে গ্লাইফোসেট হার্বিসাইড নিশ্চিন্তে প্রয়োগ করা হচ্ছে।