পুংগ্যামেট ডিম্বাণুতে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে অনুরুপ উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী পদার্থ প্রয়োগ করে নিষেক ছাড়াই ডিম্বাণু থেকে ভ্রুণ উৎপন্ন করাকে কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস বলে। কৃত্রিম পদ্ধতিতে বীজবিহীন ফল উৎপাদনকে পার্থেনোকার্পি বলে। এক্স-রে, ইমাস্কুলেশনের পর পরাগায়ন বিলম্বিত করা, বেলভিটান জাতীয় পদার্থ দ্বারা কৃত্রিম পার্থেনোজেনেসিস ঘটানো হয়।
পার্থেনোজেনেসিস কী ।। পার্থেনোজেনেসিস বা অপুংজনি কত প্রকার ও কী কী ।। Parthenogenesis
গ্রিক শব্দ parthenos অর্থ virgin বা অনিষিক্ত এবং genesis অর্থ origin বা উৎপত্তি নিয়ে Parthenogenesis শব্দটি গঠিত। যে প্রক্রিয়ায় নিষেক ছাড়াই ডিম্বাণু ভ্রুণে এবং ডিম্বক বীজে পরিনত হয় তাকে পার্থেনোজেনেসিস বলে। হরমোন প্রয়োগে বীজবিহীন ফল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি বলে। ১৯০৮ সালে বিজ্ঞানী উইঙ্কলার (Winkler) সর্বপ্রথম নিষেকবিহীন ভ্রুণ উৎপাদন প্রক্রিয়া লক্ষ্য করেন। লেবু, কমলালেবু প্রভৃতি উদ্ভিদে পার্থেনোজেনেসিস ঘটে।
প্রাকৃতিক পার্থেনোজেনেসিস প্রধানত দুই প্রকার। এগুলো হলো-
১। হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস (Haploid parthenogenesis)ঃ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রুণে পরিনত হলে তাকে হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জীব হ্যাপ্লয়েড এবং অনুর্বর হয়। যেমন- মৌমাছি, বোলতা, তামাক, তিতবেগুন (Solanum nigrum), বেগুনী অর্কিড (Orchis maculata) প্রভৃতি।
২। ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস (Diploid parthenogenesis)ঃ মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ডিপ্লয়েড ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রুণে পরিনত হলে তাকে ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জীব ডিপ্লয়েড হয়। যেমন- পার্থেনিয়াম (Parthenium argentatum), তামাক (Nicotiana tabacum), টারাক্সিকাম (Taraxacum albidum) প্রভৃতি।
পার্থেনোজেনেসিস ।। ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস কী ।। Diploid parthenogenesis কী
মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ডিপ্লয়েড ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রুণে পরিনত হলে তাকে ডিপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জীব ডিপ্লয়েড হয়। যেমন- পার্থেনিয়াম (Parthenium argentatum), তামাক (Nicotiana tabacum), টারাক্সিকাম (Taraxacum albidum) প্রভৃতি।
পার্থেনোজেনেসিস ।। হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস কী ।। Haploid parthenogenesis
মায়োসিস প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট হ্যাপ্লয়েড ডিম্বাণু নিষেক ছাড়াই ভ্রুণে পরিনত হলে তাকে হ্যাপ্লয়েড পার্থেনোজেনেসিস বলে। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন জীব হ্যাপ্লয়েড এবং অনুর্বর হয়। যেমন- মৌমাছি, বোলতা, তামাক, তিতবেগুন (Solanum nigrum), বেগুনী অর্কিড (Orchis maculata) প্রভৃতি।
পার্থেনোজেনেসিস ।। পার্থেনোজেনেসিস কী ।। অপুংজনি কী ।। Parthenogenesis কী ।।
গ্রিক শব্দ parthenos অর্থ virgin বা অনিষিক্ত এবং genesis অর্থ origin বা উৎপত্তি নিয়ে Parthenogenesis শব্দটি গঠিত। যে প্রক্রিয়ায় নিষেক ছাড়াই ডিম্বাণু ভ্রুণে এবং ডিম্বক বীজে পরিনত হয় তাকে পার্থেনোজেনেসিস বলে। হরমোন প্রয়োগে বীজবিহীন ফল উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে পার্থেনোকার্পি বলে। ১৯০৮ সালে বিজ্ঞানী উইঙ্কলার (Winkler) সর্বপ্রথম নিষেকবিহীন ভ্রুণ উৎপাদন প্রক্রিয়া লক্ষ্য করেন। লেবু, কমলালেবু প্রভৃতি উদ্ভিদে পার্থেনোজেনেসিস ঘটে।
অঙ্গজ প্রজননের অসুবিধা ।। Disadvantage of vegetative reproduction
১। অঙ্গজ প্রজননে সৃষ্ট উদ্ভিদ সহজেই ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়। ফলে উদ্ভিদের মৃত্যু ঘটতে পারে।
২। অঙ্গজ প্রজননে উৎপন্ন উদ্ভিদে বৈচিত্র্য বা প্রকরণ সৃষ্টি হয় না।
৩। অঙ্গজ প্রজননে উৎপন্ন উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা কম হয়।
৪। এই প্রক্রিয়ায় অসংখ্য উদ্ভিদ গাদাগাদি করে জন্মায় এবং খাদ্য ও স্থানের অভাবে সহজেই মারা যায়।
অঙ্গজ প্রজননের সুবিধা ।। Advantage of vegetative reproduction
১। যে সব উদ্ভিদে বীজ সৃষ্টি হয় না, সেসব উদ্ভিদ অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। যেমন- আখ, গোলাপ, জবা, আলু, কলা প্রভৃতি।
২। অঙ্গজ প্রজননের ফলে উদ্ভিদের গুণগতমান একই রকম থাকে। অর্থাৎ নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি হয় না।
৩। যে সব উদ্ভিদের ফল ও বীজ হতে দীর্ঘ সময় লাগে সেসব উদ্ভিদের দ্রুত বংশ বৃদ্ধি ঘটানো যায়।
৪। যে কোন উদ্ভিদের দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়।
৫। মাইক্রোপ্রোপাগেশন পদ্ধতিতে জিনগত বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয়।
৬। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে অঙ্গজ প্রজনন ঘটিয়ে রোগমুক্ত উদ্ভিদ সৃষ্টি করা যায়।
৭। অঙ্গজ প্রজননে সৃষ্ট উদ্ভিদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ১০০% নিশ্চিত।
৮। এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদকে দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা যায়।
৯। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ সৃষ্টি করা যায়। ইহা এক ধরনের অঙ্গজ প্রজনন।
চোখ কলম কী ।। Budding কী
এক উদ্ভিদ থেকে কুঁড়ি বা চোখ অন্য উদ্ভিদে যুক্ত করাকে চোখ কলম বলে। কাংক্ষিত ফলন বিশিষ্ট উদ্ভিদের চোখ বা কুঁড়ি সাবধানে চাকু দিয়ে কেটে আলাদা করা হয়। এরপর একই প্রজাতির অন্য একটি উদ্ভিদের শাখার সমব্যাস যুক্ত অংশ কাটা হয়। এই শাখার সাথে কাক্সিক্ষত কুঁড়িটি লাগিয়ে দেয়া হয়। এরপর বায়ুরোধী করে বেঁধে দেয়া হয়। কিছু দিনের মধ্যে মুকুল গজিয়ে ঐ শাখা কাক্সিক্ষত গুণসম্পন্ন ফল উৎপন্ন করবে। ফল গাছ বিশেষ করে কুল বা বড়ই এবং গোলাপ গাছে চোখ কলম করা হয়।
গুটি কলম কী ।। Gootee কী
গুটি কলমের জন্য শক্ত কান্ডবিশিষ্ট গাছের শাখা নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত শাখার গোঁড়ার দিকে কয়েক সেমি বাকল ছাড়িয়ে নেয়া হয়। বাকল ছাড়ানো স্থানটি মাটি, গোবর ও খড় দিয়ে ঢেকে শক্ত করে বেঁধে দেয়া হয়। নিয়মিত পানি দিলে কিছু দিন পর সে স্থান থেকে অস্থানিক মূল বের হয়। মূলসহ শাখাটি কেটে মাটিতে রোপন করলে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। আম, লেবু, কমলালেবু, গোলাপ, গন্ধরাজ, বাগান বিলাস, লিচু, লটকন, সফেদা, জামরুল প্রভৃতি উদ্ভিদে গুটি কলম করা যায়।
জোড় কলম কী ।। Grafting কী
একটি উদ্ভিদের অংশের সাথে অপর একটি উদ্ভিদ অংশ যুক্ত করে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে জোড় কলম বলে। যে উদ্ভিদ অংশটি যুক্ত করা হয় তাকে সায়ন (scion) বলে। সায়নকে যে উদ্ভিদের সাথে সংযুক্ত করা হয় তাকে স্টক (stock) বলে। স্টক একটি টবে লাগানো হয়। পরে স্টকের সাথে কাক্সিক্ষত সায়ন সংযুক্ত করা হয়। স্টক নিম্নমানের উদ্ভিদ হতে পারে। কিন্তু সায়ন উন্নতমানের হতে হয়। সাধারণত ফুল ও ফল গাছে জোড় কলম করা হয়। কুল, আম, জাম, লিচু, পেঁয়ারা, চাঁপা, ম্যাগনোলিয়া প্রভৃতি উদ্ভিদে জোড় কলম করা হয়।