অধোমূখী ডিম্বক ।। Anatropous

যে ডিম্বকের ডিম্বকমূল উপরের দিকে, ডিম্বকরন্ধ্র নিচের দিকে এবং ডিম্বকনাভি ডিম্বকরন্ধ্রের পাশে থাকে তাকে অধোমূখী ডিম্বক বলে। যেমন- শিম, রেড়ী, মটর, ছোলা (Cicer arietinum) ইত্যাদি।

উর্ধ্বমূখী ডিম্বক ।। Orthotropous

যে ডিম্বকের ডিম্বকনাভি, ডিম্বকমূল ও ডিম্বকরন্ধ্র এক সরলরেখায় অবস্থান করে এবং ডিম্বকরন্ধ্র উপরের দিকে থাকে তাকে উর্ধ্বমূখী ডিম্বক বলে। যেমন- পান, পানি মরিচ বা বিষকাটালী (Polygonum orientale), গোলমরিচ (Piper nigram) ইত্যাদি।

বীজ সৃষ্টি ।। বীজ সৃষ্টিতে স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের ভূমিকা ।। Roles of seed production

গর্ভাশয়ের ভিতরে স্ত্রীরেণুর নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। নিউক্লিয়াস দুটি কোষের দুই মেরুতে অবস্থান করে। উভয় মেরুর নিউক্লিয়াস পর পর দুই বার বিভাজিত হয়ে চারটি করে মোট আটটি নিউক্লিয়াস গঠন করে। উভয় মেরু হতে একটি করে নিউক্লিয়াস কোষের কেন্দ্র স্থলে আসে এবং মিলিত হয়ে সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াস গঠন করে। উপরের দিকের নিউক্লিয়াস তিনটির মধ্যে মাঝখানের বড় নিউক্লিয়াসটি হলো ডিম্বাণু।

ভ্রুণথলীতে শুক্রাণু ডিম্বাণুর নিষেক ঘটে। নিষেকের পর ডিম্বক উদ্দীপ্ত হয়। ডিম্বকের পরিবর্তন ঘটে। ডিম্বক পরিবর্তিত হয়ে বীজে পরিনত হয়। ডিম্বকের জলীয় অংশ কমে যায় এবং নরম অংশ শুকিয়ে কঠিন বীজে পরিনত হয়। ডিম্বকত্বক বীজত্বকে, ডিম্বকনাড়ী বীজবৃন্তে, ডিম্বকনাভী বীজনাভীতে, ডিম্বকরন্ধ্র বীজরন্ধ্রে এবং সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াস সস্যে পরিনত হয়।

ফল সৃষ্টি ।। ফল সৃষ্টিতে স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের ভূমিকা ।। Roles of fruit production

গর্ভাশয়ের ভিতরে স্ত্রীরেণুর নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। নিউক্লিয়াস দুটি কোষের দুই মেরুতে অবস্থান করে। উভয় মেরুর নিউক্লিয়াস পর পর দুই বার বিভাজিত হয়ে চারটি করে মোট আটটি নিউক্লিয়াস গঠন করে। উভয় মেরু হতে একটি করে নিউক্লিয়াস কোষের কেন্দ্র স্থলে আসে এবং মিলিত হয়ে সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াস গঠন করে। উপরের দিকের নিউক্লিয়াস তিনটির মধ্যে মাঝখানের বড় নিউক্লিয়াসটি হলো ডিম্বাণু।

ভ্রুণথলীতে শুক্রাণু ডিম্বাণুর নিষেক ঘটে। নিষেকের পর ফুলের গর্ভাশয় উদ্দীপিত হয়। গর্ভাশয়টি বৃদ্ধি পায় এবং এর বিভিন্ন অংশের পরিবর্তন ঘটে। গর্ভাশয় বৃদ্ধি পেয়ে ফলে পরিনত হয়। গর্ভাশয়ের প্রাচীর ফলত্বক গঠন করে। পুষ্পমঞ্জরীর প্রতিটি ফুলের গর্ভাশয় ফলে পরিনত হলে তাকে সরল ফল বা একক ফল বলে। আম, জাম, লিচু, বরই প্রভৃতি একক ফল। সম্পূর্ণ পুষ্পমঞ্জরী থেকে একটিমাত্র ফল সৃষ্টি হলে তাকে যৌগিক ফল বলে। কাঁঠাল, আনারস প্রভৃতি যৌগিক ফল।

স্ত্রীগ্যামিটোফাইট ।। স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের গুরুত্ব ।। Importance of female gametophyte

জীবজগতে উদ্ভিদের স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের বিকাশের প্রভাব/ গুরুত্ব আলোচনা করা হলো।

১। স্ত্রীগ্যামিট সৃষ্টিঃ এই প্রক্রিয়ায় স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের বিকাশ ঘটে। স্ত্রী গ্যামিটোফাইটের প্রধান কাজ হলো স্ত্রীগ্যামিট বা ডিম্বাণু উৎপন্ন করা। প্রতিটি স্ত্রীগ্যামিটোফাইটে একটি ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়।

২। নিষেকঃ নিষেকের পূর্বশর্ত হলো শুক্রাণু ডিম্বাণু উৎপন্ন হওয়া। স্ত্রীগ্যামিটোফাইট ডিম্বাণু উৎপন্ন করে যা নিষেকে অংশ গ্রহণ করে।

৩। সস্যের উৎপত্তিঃ জীবজগতের খাদ্যের প্রধান উৎস হলো সস্য। স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসের সাথে শুক্রাণু মিলিত হয়ে সস্য উৎপন্ন করে।

৪। বীজ সৃষ্টিঃ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ডিম্বাণু শুক্রাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট সৃষ্টি হওয়ার পর ডিম্বক বীজে পরিনত হয়।

৫। ফল সৃষ্টিঃ নিষেকের পর ফুলের গর্ভাশয় ধীরে ধীরে ফলে পরিনত হয়।

৬। বংশ রক্ষাঃ শুক্রাণু ডিম্বাণুর মিলনের পর ফুলের ডিম্বকটি বীজে পরিনত হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদ বীজ দ্বারা বংশ বৃদ্ধি করে। কারণে স্ত্রীগ্যামিটোফাইট উদ্ভিদের বংশরক্ষায় প্রধান ভুমিকা পালন করে।

৭। নতুন প্রজাতি সৃষ্টিঃ দুইটি ভিন্ন কোষ শুক্রাণু ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। এতে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়।

৮। জীববৈচিত্র্য সৃষ্টিঃ স্ত্রীগ্যামিটোফাইটে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। জাইগোট থেকে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হয়। নতুন প্রজাতির মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।

স্ত্রীগ্যামিটোফাইট ।। স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের বিকাশ বা উৎপত্তি ।। Development of female gametophyte

উদ্ভিদের ভ্রুণথলী, ডিম্বাণু, সহকারী নিউক্লিয়াস, প্রতিপাদ কোষ সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসকে একত্রে স্ত্রীগ্যামিটোফাইট বলে।

উদ্ভিদের স্ত্রী ফুলের গর্ভাশয়ের ভিতরে স্পোরোজেনাস কোষ থাকে। স্পোরোজেনাস কোষ বিভাজিত হয়ে অথবা সরাসরি স্ত্রীরেণু মাতৃকোষে পরিনত হয়। স্ত্রীরেণু মাতৃকোষ ডিপ্লয়েড এবং উহা মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড ম্যাক্রোস্পোর বা স্ত্রীরেণু উৎপন্ন করে। স্ত্রীরেণু হলো স্ত্রীগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ। চারটি স্ত্রীরেণুর মধ্যে উপরের তিনটি নষ্ট হয়ে যায় এবং নিচেরটি কার্যকরী থাকে। কার্যকরী স্ত্রীরেণুর নিউক্লিয়াসটি আকারে বড় হয় এবং মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুইটি নিউক্লিয়াসে পরিনত হয়। নিউক্লিয়াস দুটি কোষের দুই মেরুতে অবস্থান করে। প্রতিটি নিউক্লিয়াস অল্প সাইটোপ্লাজম এবং পাতলা প্রাচীর দ্বারা আবৃত থাকে। এসময় স্ত্রীরেণু কোষটি দুই মেরু বিশিষ্ট একটি থলীর ন্যায় অঙ্গে পরিনত হয়। উভয় মেরুর নিউক্লিয়াস পর পর দুই বার বিভাজিত হয়ে চারটি করে মোট আটটি নিউক্লিয়াস গঠন করে। অবস্থায় উভয় মেরু হতে একটি করে নিউক্লিয়াস কোষের মাঝখানে আসে এবং মিলিত হয়। একে ফিউশন নিউক্লিয়াস বা গৌণ নিউক্লিয়াস বা নির্ণীত নিউক্লিয়াস (secondary nucleus) বলে।

উপরের দিকের নিউক্লিয়াস তিনটিকে একত্রে ডিম্বাণু যন্ত্র বা গর্ভযন্ত্র (egg apparatus) বলে। ডিম্বাণু যন্ত্রের মাঝখানের বড় নিউক্লিয়াসটিকে ডিম্বাণু (ovum) এবং দুই পাশের ছোট নিউক্লিয়াস দুটিকে সহকারী নিউক্লিয়াস বা সাহায্যকারী নিউক্লিয়াস (synergids) বলে। নিচের দিকের নিউক্লিয়াস তিনটিকে প্রতিপাদ নিউক্লিয়াস বা প্রতিপাদ কোষ (antipodal cells) বলে।

ভ্রুণথলী ।। ভ্রুণথলীর গঠন ।। Structure of embryo sac

ভ্রুণথলীর প্রধান অংশ তিনটি। এগুলো হলো

১। গর্ভযন্ত্র (Egg apparatus) ভ্রুণথলীর ডিম্বকরন্ধ্রের নিকটের তিনটি কোষকে একত্রে গর্ভযন্ত্র বলে। এদের মধ্যে মাঝখানের বড় কোষটিকে ডিম্বাণু এবং দুই পাশের ছোট কোষ দুটিকে সহকারী কোষ বলে।

২। প্রদিপাদ কোষ (Antipodal cell) ভ্রুণথলীর ডিম্বকমূলের দিকের তিনটি কোষকে একত্রে প্রতিপাদ কোষ বলে।

৩। সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াস (Secondary nucleus) দুই মেরু থেকে দুইটি নিউক্লিয়াস ভ্রুণথলীর মাঝখানে আসে। এরপর নিউক্লিয়াস দুটি মিলিত হয়ে সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াস গঠন করে।

ভ্রুণথলী ।। ভ্রুণথলীর প্রকারভেদ ।। Embryo Sac

নিউসেলাসের ভিতরে অবস্থিত থলির মতো যে অংশ ডিম্বাণু বহন করে তাকে ভ্রুণথলী বলে। ভ্রুণথলী তিন প্রকার।
১। মনোস্পোরিক (Monosporic)ঃ যে ভ্রুণথলীতে একটি মাত্র স্ত্রীরেণু থাকে তাকে মনোস্পোরিক বলে। উদ্ভিদ জগতে প্রায় ৭৫% হলো মনোস্পোরিক। ১৮৭৯ সালে স্ট্রাসবার্গার (Strusberger) সর্বপ্রথম Polygonum divaricatum উদ্ভিদের মনোস্পোরিক ভ্রুণথলীর গঠন বর্ণনা করেন। মনোস্পোরিক ভ্রুণথলী দুই ধরনের।
(i) ওয়েনোথেরা টাইপ (Oenothera)ঃ ওয়েনোথেরা হলো ৪ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Oenothera lamarckiana.
(ii) পলিগোনাম টাইপ (Polygonum)ঃ পলিগোনাম হলো ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Polygonum hydropiper.
২। বাইস্পোরিক (Bisporic)ঃ যে ভ্রুণস্থলীতে দুইটি স্ত্রীরেণু থাকে তাকে বাইস্পোরিক বলে। বাইস্পোরিক ভ্রুণথলী দুই ধরনের।
(i) আলিয়াম টাইপ (Allium)ঃ আলিয়াম হলো ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Allium cepa.
(ii) অ্যান্ডিমিওন টাইপ (Endymion)ঃ অ্যান্ডিমিওন হলো ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Endymion hispanica.
৩। টেট্রাস্পোরিক (Tetrasporic)ঃ যে ভ্রুণথলীতে চারটি স্ত্রীরেণু থাকে তাকে টেট্রাস্পোরিক বলে। টেট্রাস্পোরিক ভ্রুণথলী ৭ প্রকার।
(i) অ্যাডোক্সা টাইপ (Adoxa)ঃ অ্যাডোক্সা ভ্রুণথলী ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট। যেমন- Adoxa moschatellina.
(ii) পেপেরোমা টাইপ (Peperomia)ঃ পেপেরোমা হলো ১৬ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Peperomia pellucida.
(iii) প্যানিয়া টাইপ (Penia)ঃ প্যানিয়া হলো ১৬ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী।
(iv) ড্রুসা টাইপ (Drusa)ঃ ড্রুসা ভ্রুণথলী ১৬ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট। যেমন- Drusa amatista.
(v) ফ্রিটিলিয়ারিয়া টাইপ (Fritilliaria)ঃ ফ্রিটিলিয়ারিয়া ভ্রুণথলী ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট। যেমন- Fritilliaria imperialis.
(vi) প্লুমবাজেলা টাইপ (Plumbagella)ঃ প্লুমবাজেলা হলো ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Plumbagella micrantha.
(viii) প্লুমবাগা টাইপ (Plumbaga)ঃ প্লুমবাগা হলো ১৬ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Plumbaga zeylanica.

টেট্রাস্পোরিক ।। টেট্রাস্পোরিক ভ্রুণস্থলী ।। Tetrasporic

যে ভ্রুণথলীতে চারটি স্ত্রীরেণু থাকে তাকে টেট্রাস্পোরিক বলে। টেট্রাস্পোরিক ভ্রুণথলী ৭ প্রকার।
(i) অ্যাডোক্সা টাইপ (Adoxa)ঃ অ্যাডোক্সা ভ্রুণথলী ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট। যেমন- Adoxa moschatellina.
(ii) পেপেরোমা টাইপ (Peperomia)ঃ পেপেরোমা হলো ১৬ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Peperomia pellucida.
(iii) প্যানিয়া টাইপ (Penia)ঃ প্যানিয়া হলো ১৬ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী।
(iv) ড্রুসা টাইপ (Drusa)ঃ ড্রুসা ভ্রুণথলী ১৬ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট। যেমন- Drusa amatista.
(v) ফ্রিটিলিয়ারিয়া টাইপ (Fritilliaria)ঃ ফ্রিটিলিয়ারিয়া ভ্রুণথলী ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট। যেমন- Fritilliaria imperialis.
(vi) প্লুমবাজেলা টাইপ (Plumbagella)ঃ প্লুমবাজেলা হলো ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Plumbagella micrantha.
(viii) প্লুমবাগা টাইপ (Plumbaga)ঃ প্লুমবাগা হলো ১৬ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Plumbaga zeylanica.

বাইস্পোরিক ।। বাইস্পোরিক ভ্রুণস্থলী ।। Bisporic

যে ভ্রুণস্থলীতে দুইটি স্ত্রীরেণু থাকে তাকে বাইস্পোরিক বলে। বাইস্পোরিক ভ্রুণথলী দুই ধরনের।
(i) আলিয়াম টাইপ (Allium)ঃ আলিয়াম হলো ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Allium cepa.
(ii) অ্যান্ডিমিওন টাইপ (Endymion)ঃ অ্যান্ডিমিওন হলো ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Endymion hispanica.