মনোস্পোরিক ।। মনোস্পোরিক ভ্রুণস্থলী ।। Monosporic

যে ভ্রুণথলীতে একটি মাত্র স্ত্রীরেণু থাকে তাকে মনোস্পোরিক বলে। উদ্ভিদ জগতে প্রায় ৭৫% হলো মনোস্পোরিক। ১৮৭৯ সালে স্ট্রাসবার্গার (Strusberger) সর্বপ্রথম Polygonum divaricatum উদ্ভিদের মনোস্পোরিক ভ্রুণথলীর গঠন বর্ণনা করেন। মনোস্পোরিক ভ্রুণথলী দুই ধরনের।
(i) ওয়েনোথেরা টাইপ (Oenothera)ঃ ওয়েনোথেরা হলো ৪ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Oenothera lamarckiana.
(ii) পলিগোনাম টাইপ (Polygonum)ঃ পলিগোনাম হলো ৮ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রুণথলী। যেমন- Polygonum hydropiper.

ডিম্বক ।। স্ত্রীরেণু ।। ডিম্বক বা স্ত্রীরেণু সৃষ্টির প্রক্রিয়া ।। Megasporogenesis

স্ত্রী ফুলের গর্ভাশয়ের ভিতরে অমরাতে একটি ছোট স্ফীত অঞ্চল সৃষ্টি হয়। স্ফীত অঞ্চলটি পর্যায়ক্রমে ডিম্বকে পরিনত হয়। গর্ভাশয়ের ভিতরে এক বা একাধিক আর্কিস্পোরিয়াল কোষ থাকে। প্রতিটি আর্কিস্পোরিয়াল কোষ আকারে বড়, সাইটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াস বড়। ইহা পেরিক্লিনাল বিভাজনের মাধ্যমে দুইটি কোষ সৃষ্টি করে। বাইরের দিকে দেয়াল কোষ এবং ভিতরের দিকে প্রাথমিক জনন কোষ বা স্পোরোজেনাস কোষ। দেয়াল কোষ বিভাজিত হয়ে স্ত্রীরেণুর প্রাচীর গঠন করে। স্পোরোজেনাস কোষ সরাসরি অথবা বিভাজনের মাধ্যমে স্ত্রীরেণু মাতৃকোষে পরিনত হয়। প্রতিটি স্ত্রীরেণু মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি করে ম্যাগাস্পোর বা স্ত্রীরেণু সৃষ্টি করে। চারটি স্ত্রীরেণুর মধ্যে তিনটি নষ্ট হয়ে যায় এবং একটি কার্যকরী থাকে।

পুংগ্যামিটোফাইট ।। পুংগ্যামিটোফাইটের গুরুত্ব ।। Importance of male gametophyte

জীবজগতে উদ্ভিদের পুংগ্যামিটোফাইটের বিকাশের প্রভাব/ গুরুত্ব আলোচনা করা হলো।

১। পুংগ্যামিট সৃষ্টিঃ এই প্রক্রিয়ায় পুংগ্যামিটোফাইটের বিকাশ ঘটে। পুংগ্যামিটোফাইটের প্রধান কাজ হলো পুংগ্যামিট বা শুক্রাণু উৎপন্ন করা। প্রতিটি পুংগ্যামিটোফাইটে দুইটি করে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়।

২। নিষেকঃ নিষেকের পূর্বশর্ত হলো শক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হওয়া। পুংগ্যামিটোফাইট শুক্রাণু উৎপন্ন করে যা নিষেকে অংশ গ্রহণ করে।

৩। সস্যের উৎপত্তিঃ জীবজগতের খাদ্যের প্রধান উৎস হলো সস্য। পুংগ্যামিটোফাইটে উৎপন্ন শুক্রাণু সেকেন্ডারী নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে সস্য উৎপন্ন করে।

৪। বীজ সৃষ্টিঃ এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট সৃষ্টি হওয়ার পর ফুলের ডিম্বকটি বীজে পরিনত হয়।

৫। ফল সৃষ্টিঃ নিষেকের পর ফুলের গর্ভাশয় ধীরে ধীরে ফলে পরিনত হয়।

৬। বংশ রক্ষাঃ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের পর ফুলের ডিম্বকটি বীজে পরিনত হয়। পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদ বীজ দ্বারা বংশ বৃদ্ধি করে। এ কারণে পুংগ্যামিটোফাইট উদ্ভিদের বংশরক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে।

৭। নতুন প্রজাতি সৃষ্টিঃ দুইটি ভিন্ন কোষ শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়। এতে নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন নতুন প্রজাতির উদ্ভব হয়।

৮। জীববৈচিত্র্য সৃষ্টিঃ পুংগ্যামিটোফাইটে উৎপন্ন শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট থেকে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি হয়। নতুন প্রজাতির মাধ্যমে জীববৈচিত্র্যতা সৃষ্টি হয়।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায়, পুংগ্যামিটোফাইট হলো উদ্ভিদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি কোষ। ইহা শুক্রাণু সৃষ্টি করে জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।

পুংগ্যামিটোফাইট ।। পুংগ্যামিটোফাইটের বিকাশ ।। Development of male gametophyte

উদ্ভিদের পরাগরেণু, পরাগনালিকা, নালিকা নিউক্লিয়াস ও পুংগ্যামিটকে একত্রে পুংগ্যামিটোফাইট বলে। উদ্ভিদের পুংকেশরের পরাগধানীর ভিতরে পরাগরেণু মাতৃকোষ থাকে। প্রতিটি পরাগরেণু মাতৃকোষ মায়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি করে মাইক্রোস্পোর বা পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। পরাগরেণু হলো পুং গ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ। এর নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুইটি নিউক্লিয়াস গঠন করে। বড়টিকে নালিকা নিউক্লিয়াস এবং ছোটটিকে জনন নিউক্লিয়াস বলে। নালিকা নিউক্লিয়াসটি গোলাকার এবং জনন নিউক্লিয়াসটি সামান্য বাঁকানো। এ অবস্থায় পরাগধানীর প্রাচীর ফেটে যায় এবং দ্বি-নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট পরাগরেণু বাইরে বেরিয়ে আসে। পরাগায়নের মাধ্যমে উহা স্ত্রী ফুলের গর্ভমুন্ডে পতিত হয়। পরাগরেণু গর্ভমুন্ডের সংস্পর্শে এলে আঠালো রসে আটকে যায় এবং গর্ভমুন্ডের রস শোষণ করে স্ফীত হতে থাকে। স্ফীত হওয়ার কারণে পরাগরেণুর ভিতরে চাপ সৃষ্টি হয়। চাপের ফলে ইন্টাইন জনন ছিদ্রের মধ্য দিয়ে নলাকারে বাইরে বেরিয়ে আসে। একে পরাগ নালিকা বলে। পরাগ নালিকা সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পরাগ উদ্গম বা অংকুরোদ্গম বলে। কিউটিনেজ এনজাইমের কারণে গর্ভমুন্ডের কিউটিন ক্ষয় হয়ে যায় এবং পরাগ নালিকা গর্ভমুন্ডের ভিতরে প্রবেশ করে। পরাগ নালিকার ভিতরে নালিকা নিউক্লিয়াসটি আগে এবং জনন নিউক্লিয়াসটি পরে প্রবেশ করে। পরাগ নালিকা বৃদ্ধি পেয়ে গর্ভাশয়ের দিকে অগ্রসর হয়। ডিম্বক রন্ধ্রে পৌছানোর আগেই জনন নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুইটি পুংগ্যামিট বা শুক্রাণু (gamete) উৎপন্ন করে। শুক্রাণু উৎপন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুংগ্যামিটোফাইটের বিকাশ পুর্ণাঙ্গ হয়।

পরাগরেণু ।। পরাগরেণুর গঠন ।। Structure of Microspore

মাইক্রোস্পোরোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরাগরেণু মাতৃকোষ হতে চারটি করে মাইক্রোস্পোর বা পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। পরাগরেণু হলো পুংগ্যামিটোফাইটের প্রথম কোষ। ইহা গোলাকার, ডিম্বাকার, লম্বাকার বা ত্রিকোণাকার হতে পারে। প্রতিটি পরাগরেণু দ্বিস্তর বিশিষ্ট একটি আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে। বাইরেরটিকে এক্সাইন এবং ভিতরেরটিকে ইন্টাইন বলে। এক্সাইন পুরু, শক্ত, অমসৃণ এবং লিগনিন যুক্ত। এর প্রধান রাসায়নিক উপাদান হলো স্পোরোপোলেনিন। এক্সাইনের স্থানে স্থনে পাতলা ছিদ্রের মতো অংশ থাকে। একে জনন ছিদ্র (রেণুরন্ধ্র বা জার্মপোর) বলে। পরাগরেণুতে জার্মপোরের সংখ্যা ৪টি (তবে ২০টি পর্যন্ত থাকতে পারে) অপরদিকে, ইন্টাইন পাতলা, নরম, মসৃণ, স্থিতিস্থাপক সেলুলোজ নির্মিত। পরাগরেণুর সাইটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াস কোষের মাঝখানে থাকে। পরিনত অবস্থায় কোষগহŸ সৃষ্টি হলে নিউক্লিয়াস কোষের পরিধির দিকে সরে আসে। প্রতিটি পরাগরেণুর ব্যাস ১০২০০ µm (অনেকের মতে, .০২৫.২৫ মিমি)

           

 [পরাগরেণুতে একটি রেণুরন্ধ্র থাকলে মনোকলপেট এবং অনেকগুলো রেণুরন্ধ্র থাকলে পলিকলপেট বলে]

পরাগরেণু ।। পরাগরেণু সৃষ্টির প্রক্রিয়া ।। Microsporogenesis

যে প্রক্রিয়ায় পরাগরেণু সৃষ্টি হয় তাকে মাইক্রোস্পোরোজেনেসিস বলে। ফুলের পুংকেশরের মাথার স্ফীত অংশকে পরাগধানী বলে। পরাগধানীর ভিতরে এক বা একাধিক আর্কিস্পোরিয়াল কোষ থাকে। প্রতিটি আর্কিস্পোরিয়াল কোষ আকারে বড়, সাইটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াস বড়। ইহা পেরিক্লিনালি বিভাজনের মাধ্যমে দুইটি কোষ সৃষ্টি করে। বাইরের দিকে দেয়াল কোষ এবং ভিতরের দিকে প্রাথমিক জনন কোষ বা স্পোরোজেনাস কোষ। দেয়াল কোষ বিভাজিত হয়ে পরাগরেণুর প্রাচীর গঠন করে। প্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তরকে ট্যাপেটাম বলে। স্পোরোজেনাস কোষ সরাসরি অথবা বিভাজনের মাধ্যমে পরাগরেণু মাতৃকোষে পরিনত হয়। প্রতিটি পরাগরেণু মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি করে মাইক্রোস্পোর বা পরাগরেণু সৃষ্টি করে। চারটি পরাগরেণুকে একসাথে টেট্রাড বা রেণুচতুষ্টয় বলে। অধিকাংশ পরাগরেণু হলুদ বর্ণের হয়। পরাগরেণু ট্যাপেটাম থেকে পুষ্টি লাভ করে। Orchidaceae, Asclepiadaceae প্রভৃতি গোত্রের উদ্ভিদের পরাগরেণু একসাথে থাকে। পরাগরেণু পরিনত অবস্থায় এক সাথে লেগে থেকে একটি বিশেষ গঠন সৃষ্টি করে। একে পলিনিয়াম বলে।
[যে পরাগধানীতে চারটি পুংরেণুস্থলী থাকে তাকে ডাইথিকাস পরাগধানী এবং এই অবস্থাকে টেট্রাস্পোরাঞ্জিয়েট বলে। যে পরাগধানীতে দুইটি পুংরেণুস্থলী থাকে তাকে মনোথিকাস পরাগধানী এবং এই অবস্থাকে বাইস্পোরাঞ্জিয়েট বলে ]

যৌন জনন ।। যৌন প্রজননের সুফল বা তাৎপর্য

১। যৌন প্রজননের ফলে জীব বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।

২। জীব বৈচিত্র্য সৃষ্টি হওয়ায় জীব নতুন পরিবেশে সহজেই খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

৩। যৌন প্রজননের মাধ্যমে নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয়।

৪। যৌন প্রজননের মাধ্যমে উদ্ভিদ দেহে খাদ্য বা শস্য উৎপন্ন হয়।

৫। যৌন প্রজননে বীজ উৎপন্ন হয় যা উদ্ভিদের বংশ রক্ষা করে।

৬। প্রজননের মাধ্যমে জীব নিজ প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

৭। প্রজননের মাধ্যমে জীবজগতে জীবের সংখ্যার ভারসাম্য বজায় থাকে।

যৌন জনন ।। যৌন জননের বৈশিষ্ট্য ।। Characters of sexual reproduction

১। যৌন জননে দুটি পৃথক জনন কোষ বা গ্যামিটের প্রয়োজন হয়।

২। যৌন জননে হ্যাপ্লয়েড জনন কোষ অংশ গ্রহণ করে।

৩। যৌন জননের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।

৪। নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদে সাধারণত প্রতিকূল পরিবেশে যৌন জনন ঘটে।

৫। যৌন জননের পর ডিপ্লয়েড দশার সূচনা হয়।

৬। যৌন জননে ক্রসিংওভার ঘটে এবং নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে।

৭। নিম্নশ্রেণীর জীব মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় গ্যামিট সৃষ্টি করে।

৮। নিষেক প্রক্রিয়া গ্যামিটের মিলনের সম্ভাবনার উপর নির্ভরশীল।

৯। যৌন প্রজনন পদ্ধতিতে অপত্য উৎপাদনে অধিক সময় লাগে।

উদ্ভিদের প্রজনন । Plant breeding

যে প্রক্রিয়ায় মাতৃ উদ্ভিদ থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করা হয় তাকে উদ্ভিদ প্রজনন বলে। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় উদ্ভিদের ভ্রুণ সৃষ্টি, ভ্রুণের বিকাশ, নিষক ও জাইগোটের বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে উদ্ভিদ প্রজনন বিজ্ঞান বলে। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় ভ্রুণ সৃষ্টি ও বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভ্রুণ বিজ্ঞান বলে।

উদ্ভিদের প্রজনন প্রধানত তিন ধরনের। যৌনজনন, অযৌনজনন ও পার্থেনোজেনেসিস বা অপুংজনি।

শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে যে প্রজনন ঘটে তাকে যৌন প্রজনন বলে। উদ্ভিদের যৌন জনন অঙ্গ হলো ফুল। ফুলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে যৌন জনন ঘটে। উদ্ভিদের যৌন জনন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। ফুল হলো উদ্ভিদের প্রজননের জন্য বিশেষ ভাবে রুপান্তরিত বিটপ (shoot)।

অবাত শ্বসনে CO2 গ্যাস নির্গমণের পরীক্ষা।

তত্ত¡ (Theory )ঃ যে প্রক্রিয়ায় O2 এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে কোষের জৈব বস্তু জারণের মাধ্যমে শক্তি নির্গত হয় এবং উপজাত দ্রব্য হিসেবে CO2 ও H2O উৎপন্ন হয় তাকে অবাত শ^সন বলে। এই প্রক্রিয়ায় শ্বসনিক বস্তু অসম্পূর্ণ ভাবে জারিত হয়ে ইথাইল অ্যালকোহল ও শক্তি উৎপন্ন হয়।

প্রয়োজনীয় উপকরণ
১। টেস্ট টিউব —————- ১টি
২। পেট্রিডিস —————— ১টি
৩। পারদ ——————— পরিমাণ মতো
৪। ক্ল্যাম্পসহ স্ট্যান্ড ———— ১টি
৫। অংকুরিত ছোলা বীজ ——— কয়েকটি
৬। বাঁকা চিমটা —————- ১টি
৭। কষ্টিক পটাশ —————- ১ টুকরা
৮। বিকার ———————- ১টি

কার্যপদ্ধতি বা কাজের ধারা
১। অংকুরিত ছোলা বীজগুলো ভালো ভাবে খোসা ছাড়িয়ে নিলাম।
২। ছোট বীকারটিতে পরিমাণ মতো পারদ নিলাম।
৩। টেস্ট টিউবটি পারদ দিয়ে সম্পূর্ণ ভর্তি করলাম।
৪। টেস্ট টিউবের মুখ বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে পেট্রিডিসের পারদের ওপর উপুড় করে বসিয়ে দিলাম।
৫। ক্লিপ দিয়ে টেস্টটিউবটি স্ট্যান্ডের সাথে এমনভাবে আটকে দিলাম যাতে এর মুখ পারদ পূর্ণ পেট্রিডিসের তলা স্পর্শ না করে।
৬। ছোলা বীজগুলো বাঁকা চিমটার সাহায্যে একটি একটি করে টেস্ট টিউবের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলাম। ছোলা বীজগুলো পারদের চেয়ে হালকা বলে টেস্ট টিউবের উপরের প্রান্তে উঠে গেল।
৭। ছোলা বীজগুলো ঢুকানোর সময় লক্ষ্য রাখলাম যেন টেস্ট টিউবে বায়ু প্রবেশ না করে। এই অবস্থায় পর্যবেক্ষণের জন্য এক দিন রেখে দিলাম।

পর্যবেক্ষণঃ এক দিন পর দেখা গেল টেস্ট টিউবের পারদ স্তম্ভ কিছুটা নিচে নেমে গিয়েছে। বাঁকা চিমটার সাহায্যে এক টুকরা কস্টিক পটাশ টেস্ট টিউবে প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট টিউবের ফাঁকা স্থান পারদ দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেল।

সিদ্ধান্ত
১। প্রথমে পারদ দ্বারা পূর্ণ থাকা অবস্থায় টেস্ট টিউবের ভিতরে অক্সিজেন ছিল না।
২। ছোলা বীজগুলোর অবাত শ্বসনে নির্গত গ্যাস টেস্ট টিউবে জমা হওয়ায় পারদ স্তম্ভ নিচে নেমে গিয়েছে এবং ফাঁকা স্থান সৃষ্টি হয়েছে।
৩। কস্টিক পটাশ প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গে গ্যাসটি শোষিত হয়েছে। কস্টিক পটাশ CO2 গ্যাস শোষণ করে। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, টেস্ট টিউবে জমাকৃত গ্যাস অবশ্যই CO2 ছিল।
—– অতএব অবাত শ্বসনেন CO2 গ্যাস নির্গত হয়।

সতর্কতা
১। অংকুরিত ছোলা বীজ ব্যবহার করলাম এবং বীজগুলোর খোসা ভালভাবে ছাড়িয়ে নিলাম।
২। টেস্ট টিউবটি সম্পূর্ণভাবে পারদপূর্ণ করলাম যাতে বাতাস প্রবেশ না করে।
৩। টেস্ট টিউবের মুখ পারদের মধ্যে ডুবিয়ে রাখলাম।
৪। টেস্ট টিউবের মুখ যাতে পেট্রিডিসের তলদেশ স্পর্শ না করে সেদিকে লক্ষ্য রাখলাম।
৫। ছোলা বীজ ঢুকানোর সময় টেস্ট টিউবে যাতে বায়ু প্রবেশ না করে সেদিকে খেয়াল রাখলাম।