১। বীরুৎ (Herbaceous)ঃ ক্ষুদ্র ও নরম কান্ড বিশিষ্ট বর্ষজীবী উদ্ভিদকে বীরুৎ বলে। যেমন- ধান, গম, ভুট্রা, রক্তদ্রোণ, শ্বেতদ্রোণ, দুর্বাঘাস ইত্যাদি।
২। উপগুল্ম (Under shrub)ঃ গুল্মের চেয়ে ছোট আকৃতির উদ্ভিদকে উপগুল্ম বলা হয়। যেমন- দাদমর্দন, কালকাসুন্দা ইত্যাদি।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। গুল্ম (Shrub)ঃ গুড়িবিহীন শক্ত, কাষ্ঠল ও বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদকে গুল্ম বলে। যেমন- গোলাপ, জবা, ধুতুরা, রঙ্গন, বাসক ইত্যাদি।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৪। বৃক্ষ (tree)ঃ গুড়িবিশিষ্ট শক্ত, কাষ্ঠল ও বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদকে বৃক্ষ বলে। যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৫। পরাশ্রয়ী (Epiphyte)ঃ যে উদ্ভিদ অন্য উদ্ভিদকে আশ্রয় করে জন্মে কিন্তু খাদ্য শোষণ করে না তাকে পরাশ্রয়ী বলে। যেমন- অর্কিড ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৬। পরজীবী (Parasites)ঃ যে সব উদ্ভিদ অন্য সবুজ উদ্ভিদের উপর জন্মে এবং সেখান থেকে খাদ্য গ্রহণ করে তাকে পরজীবী বলে। যেমন- স্বর্ণলতা।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৭। মৃতজীবী (Saprophytes)ঃ যে সব উদ্ভিদ মৃত উদ্ভিদ বা প্রাণীদেহের উপর জন্মে এবং সেখান থেকে খাদ্য গ্রহণ করে তাকে মৃতজীবী বলে। যেমন- Agaricus, Mucor, Penicillium, Saprolegnia প্রভৃতি।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
আবৃতবীজী উদ্ভিদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
আবৃতবীজী উদ্ভিদের মধ্যে প্রায় ১০০০টি প্রজাতির অর্থনৈতিক ভূমিকা রয়েছে। এদের মধ্যে ১০০টি প্রজাতির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক গুরুত্ব রয়েছে।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১। খাদ্য হিসেবেঃ মানুষের ৮০% খাদ্য চাহিদা পুরণ করে মাত্র ২০ ধরনের আবৃতবীজী উদ্ভিদ। ১৫টি প্রজাতি সারা পৃথিবীতে প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়। এদের মধ্যে ৪টি প্রজাতি ধান, গম, ভূট্রা ও আখ মানুষের ৬৩% শর্করার চাহিদা পুরণ করে। পৃথিবীর ৬০% মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। ৩৫% মানুষের প্রধান খাদ্য গম বা রুটি।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
২। গবাদি পশুর খাদ্যঃ হাজার প্রজাতির ঘাস গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া প্রভৃতি গৃহপালিত পশুর প্রধান খাদ্য।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৩। চিনি উৎপাদনঃ আখ থেকে চিনি উৎপাদন করা হয়। চিনি দ্বারা বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরী করা হয়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৪। সুগন্ধি প্রসাধনীঃ লেমন ঘাস থেকে সুগন্ধি তেল এবং প্রসাধনী তৈরী করা হয়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৫। ওষুধ তৈরীঃ শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে ১২০ ধরনের আধুনিক ও মুল্যবান ওষুধ তৈরী করা হয়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৬। ভেষজ হিসেবেঃ দুর্বাঘাস রক্তপাত বন্ধে এবং ক্ষত নিরাময়ে ভেষজ হিসেবে ব্যবহার হয়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৭। কাগজ তৈরীঃ বাঁশ, নলখাগড়া এবং আখের ছোবড়া থেকে কাগজ তৈরী করা হয়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৮। জ্বালানীঃ উদ্ভিদের মূল, কান্ড ও পাতা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হয়।
৯। নির্মাণ সামগ্রীঃ বাঁশ এবং কাঠ নির্মাণ সামগ্রী হিসেবে ব্যবহার হয়।
১০। শিল্পক্ষেত্রেঃ উদ্ভিদ থেকে পাউরুটি, বিস্কুট, অ্যালকোহল, ভিনেগার প্রভৃতি তৈরী করা হয়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১১। সৌন্দর্য বৃদ্ধিঃ সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বাড়ি, রাস্তা এবং বাগানে ফুলের গাছ লাগানো হয়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১২। আগাছাঃ ফসলের জমিতে আগাছা জন্মে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
আবৃতবীজী উদ্ভিদের শ্রেণীবিভাগ । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
আবৃতবীজী উদ্ভিদের বিভাগ হলো ম্যাগনোলিওফাইটা। ম্যাগনোলিওফাইটাকে দুইটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। ম্যাগনোলিওপসিডা এবং লিলিওপসিডা।
১। ম্যাগনোলিওপসিডা বা দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ ঃ ম্যাগনোলিওপসিডা ৭টি সাব-ক্লাস, ৫৬টি বর্গ এবং ৩১৫টি গোত্র নিয়ে গঠিত। সাব-ক্লাস গুলো হলো-
(i) Magnolidaeঃ Magnolidae-এর বর্গ সংখ্যা ৭টি।
(ii) Hamamelidaeঃ Hamamelidae-এর বর্গ সংখ্যা ৮টি।
(iii) Ranunculidaeঃ Ranunculidae-এর বর্গ সংখ্যা ৩টি।
(iv) Caryophyllidaeঃ Caryophyllidae-এর বর্গ সংখ্যা ৩টি।
(v) Dillenidaeঃ Dillenidae-এর বর্গ সংখ্যা ১২টি।
(vi) Rosidaeঃ Rosidae-এর বর্গ সংখ্যা ১৬টি।
(vii) Asteridaeঃ Asteridae-এর বর্গ সংখ্যা ৭টি।
২। লিলিওপসিডা বা একবীজপত্রী উদ্ভিদ ঃ লিলিওপসিডা ৪টি সাব-ক্লাস, ২০টি বর্গ এবং ৬৫টি গোত্র নিয়ে গঠিত। সাব-ক্লাস গুলো হলো-
(i) Alismatidaeঃ Alismatidae-এর বর্গ সংখ্যা ৩টি।
(ii) Lilidaeঃ Lilidae-এর বর্গ সংখ্যা ৩টি।
(iii) Arecidaeঃ Arecidae-এর বর্গ সংখ্যা ৫টি।
(iv) Commelinidaeঃ Commelinidae-এর বর্গ সংখ্যা ৬টি।
আবৃতবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। আবৃতবীজী উদ্ভিদ বীরুৎ, গুল্ম ও বৃক্ষ জাতীয়। কিছু উদ্ভিদ পরাশ্রয়ী বা পরজীবী প্রকৃতির।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
২। প্রধান উদ্ভিদ দেহ স্পোরোফাইট। এরা সবচেয়ে উন্নত প্রকৃতির।
৩। উদ্ভিদের দেহ নরম বা শক্ত, কাষ্ঠল বা অকাষ্ঠল, চির সবুজ বা পর্ণমোচী, বর্ষজীবী বা বহুবর্ষজীবী হতে পারে।. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
৪। এরা পুষ্পক উদ্ভিদ। উদ্ভিদের পুষ্প একক বা মঞ্জরীতে থাকে।
৫। এরা ভাস্কুলার উদ্ভিদ। ভাস্কুলার বান্ডল সংযুক্ত ও অরীয়। মুক্ত ও সমপার্শ্বীয় বা সমদ্বিপার্শ্বীয়।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
৬। স্ত্রীকেশর গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ডে বিভক্ত।
৭। অংকুরিত পরাগরেণু গর্ভমুন্ডে পতিত হয়।
৮। এদের গর্ভাশয় প্রকোষ্ঠ বিশেষ। এতে ডিম্বক সৃষ্টি হয়।
৯। বীজ ফলের ভিতরে আবৃত থাকে।
১০। বীজে একটি বা দুইটি বীজপত্র থাকে।
১১। এদের শুক্রাণু ফ্ল্যাজেলাবিহীন এবং নিশ্চল।
১২। এদের দ্বি-নিষেক ঘটে।. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১৩। এদের শস্য ট্রিপ্লয়েড এবং নিষেকের পরে তৈরী হয়।
১৪। জাইলেমে ভেসেল এবং ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ থাকে।
১৫। এরা আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি করে না, তাই উন্নত প্রকৃতির।
১৬। গ্যামিটোফাইট খুব সংক্ষিপ্ত এবং পরনির্ভরশীল।
১৭। জীবনচক্রে সুস্পষ্ট জনুঃক্রম থাকে।
১৮। শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে ১২০ ধরনের আধুনিক ও মুল্যবান ওষুধ তৈরী করা হয়।ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
আবৃতবীজী উদ্ভিদ কী । Angiosperm কী
গ্রিক শব্দ Angeion অর্থ পাত্র বা আঁধার এবং spermos অর্থ বীজ নিয়ে Angiosperm শব্দটি গঠিত। Angiosperm শব্দের অর্থ আবৃতবীজী। যে সব উদ্ভিদের ফুল হয়, বীজ হয় এবং বীজ ফলের ভিতরে আবৃত থাকে তাদেরকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ বলে। আবৃতবীজী উদ্ভিদই হলো পুষ্পক উদ্ভিদ।
পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম আবৃতবীজী উদ্ভিদ হলো Wolffia microscopia। এর দৈর্ঘ্য ০.১ মিমি বা ৩০০-৬০০ মাইক্রোমিটার এবং ওজন ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। সবচেয়ে উঁচু আবৃতবীজী উদ্ভিদ হলো ইউক্যালিপ্টাস (Eucalyptus marginata)। এর উচ্চতা ৫০০ ফুট। এটি অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায় পাওয়া যায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম আবৃতবীজী উদ্ভিদ হলো Wolffia arrhiza (ডাকউইড)। পৃথিবীতে আবৃতবীজীর প্রজাতি সংখ্যা ২,৮৭,০০০। তবে বাংলাদেশে এর প্রজাতি সংখ্যা প্রায় ৫০০০।
ধারণা করা হয়, ১৩ কোটি বছর আগে ক্রিটেসিয়াস যুগে আবৃতবীজী উদ্ভিদের উৎপত্তি হয়েছে। গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চল বিশেষ করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রথম আবৃতবীজী উদ্ভিদ উৎপত্তি লাভ করে। ৪-৫ কোটি বছরের মধ্যে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ পর্যন্ত আবৃতবীজী উদ্ভিদের কোন জীবাশ্ম পাওয়া যায় নাই।
নগ্নবীজী উদ্ভিদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। খাদ্য হিসেবেঃ Cycas-এর রসালো কচি কান্ড ও বীজ সবজি হিসেবে ব্যবহার হয়। এর বীজ থেকে জাপানে সাগো তৈরী করা হয়। এদের বীজ গুঁড়া করে ইনডাম পোডি ময়দা তৈরী করা হয়। ইনডাম পোডি ময়দা কেক ও অন্যান্য খাবার তৈরীতে ব্যবহার হয়।
২। অলঙ্কারিক উদ্ভিদঃ Cycas অলঙ্কারিক উদ্ভিদ হিসেবে উদ্যানে, আঙ্গিনায়, রাস্তার পাশে এবং গোল চত্বরে রোপণ করা হয়।
৩। ওষুধ তৈরীঃ পাকস্থলীর পীড়া এবং চর্মরোগে Cycas-এর কচি পাতা ব্যবহার।
৪। মাদুর তৈরীঃ Cycas এর পাতা দিয়ে মাদুর তৈরী করা হয়।
৫। মদ তৈরীঃ Cycas এর কান্ডের মজ্জা মদ তৈরীতে ব্যবহার হয়।
৬। রোগ সৃষ্টিঃ t Lytico-boding নামক রোগ সৃষ্টি করে। এই রোগের লক্ষণ অনেকটা Parkinsons disease এর লক্ষণের মতো।
৭। প্রথাগত ব্যবহারঃ অনেক স্থানে সাইকাস এর ধর্মীয় এবং সামাজিক প্রথায় গুরুত্ব রয়েছে।
Cycas-এর জীবনচক্রে মেগাস্পোরোফিলের ভূমিকা । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। ডিম্বাণু সৃষ্টিঃ Cycas-এর মেগাস্পোরোফিল গুলো একত্রে মুকুট গঠন করে। মেগাস্পোরোফিলের উপরের অংশকে পিনিউল বলে। এর গোড়ায় ২-৪ জোড়া বৃহৎ এবং লাল বর্ণের ডিম্বক থাকে। ডিম্বকসহ মেগাস্পোরোফিলকে সাপের ফণার মতো দেখায়। একে সর্পমণি বলে। ডিম্বকের ভিতরে স্ত্রীরেণু মাতৃকোষ থাকে। স্ত্রীরেণু মাতৃকোষগুলো মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে স্ত্রীরেণু (megaspore) উৎপন্ন করে। স্ত্রীরেণু হতে আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি হয়। আর্কিগোনিয়ামের ভিতরে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়।
২। নিষেকঃ Cycas-এর পুংরেণু থেকে পরাগনালিকা সৃষ্টি হয়। পরাগনালিকার ভিতরে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিষেক ঘটে। নিষেকের ফলে জাইগোট সৃষ্টি হয়।
৩। বীজ সৃষ্টিঃ জাইগোট থেকে ভ্রুণ সৃষ্টি হয়। ভ্রুণ বিভাজিত হয়ে বীজে পরিনত হয়। ঈুপধং-এর বীজ রসালো, কমলা বা লাল বর্ণের।
৪। নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টিঃ Cycas-এর বীজ অংকুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
সর্পমণি কী । সাইকাসের সর্পমণি কী
সাইকাসের মেগাস্পোরোফিলের গোড়ায় দুই পাশে ডিম্বক সাজানো থাকে। ডিম্বকসহ মেগাস্পোরোফিলকে সাপের ফণার মতো দেখায়। একে সর্পমণি বলে। বিভিন্ন স্থানে সর্পমণি সর্ব রোগের ওষুধ হিসেবে বিক্রি হয়। আসলে এর কোন ওষুধি গুণ নাই। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত বা বঞ্চিত হচ্ছে।
Cycas-এর জনন । Cycas-এর যৌন জনন । Reproduction of Cycas । ড. সিদ্দিক পিাবলিকেশন্স
১। অঙ্গজ জননঃ Cycas এর কান্ডের গোড়া থেকে একপ্রকার মুকুল উৎপন্ন হয়। মুকুল কেটে অন্যত্র রোপন করলে পূর্ণাঙ্গ Cycas গাছে পরিনত হয়। এছাড়া শল্ক পত্রের অক্ষ থেকে বুলবিল সৃষ্টি হয়। বুলবিল থেকে নতুন চারা উৎপন্ন হয়।
২। যৌন জননঃ Cycas হলো ভিন্নবাসী এবং অসমরেনুপ্রসূ উদ্ভিদ। এদের পুরুষ উদ্ভিদে পুংরেণু বা মাইক্রোস্পোর এবং স্ত্রী উদ্ভিদে স্ত্রীরেণু বা মেগাস্পোর সৃষ্টি হয়। মাইক্রোস্পোর মাইক্রোস্পোরোফিলে এবং মেগাস্পোর মেগাস্পোরোফিলে অবস্থান করে। মাইক্রোস্পোরোফিল গুলো একত্রে পুং স্ট্রোবিলাস বা স্টামিনেট বা কোন্ গঠন করে। মেগাস্পোরোফিল গুলো স্ট্রোবিলাস গঠন না করে মুকুট গঠন করে।
(i) মাইক্রোস্পোরোফিলঃ Cycas উদ্ভিদের শীর্ষে মোচাকৃতির পুং স্ট্রোবিলাস থাকে (৫০ সেমি)। পুং স্ট্রোবিলাসের চারিদিকে অসংখ্য পুংরেণুপত্র বা মাইক্রোস্পোরোফিল থাকে। মাইক্রোস্পোরোফিলের দৈর্ঘ্য ৩-৫ সেমি এবং প্রস্থ ১২-২৩ মিমি। মাইক্রোস্পোরোফিল গুলো সর্পিলাকারে ও ঘনসন্নিবিষ্ট ভাবে সজ্জিত থাকে। ইহা চ্যাপ্টা, কাষ্ঠল এবং কলকীকার। এর গোড়া সরু এবং অগ্রভাগ চওড়া। অগ্রভাগে ত্রিভুজাকৃতির অ্যাপোফাইসিস থাকে। প্রতিটি মাইক্রোস্পোরোফিলে অসংখ্য স্পোরাঞ্জিয়া থাকে। ২-৫টি স্পোরাঞ্জিয়া মিলে সোরাস গঠন করে। স্পোরাঞ্জিয়ামের ভিতরে স্পোর মাতৃকোষ থাকে। প্রতিটি স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে পুংরেণু বা মাইক্রোস্পোর উৎপন্ন করে। মাইক্রোস্পোর থেকে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। Cycas-এর শুক্রাণু লাটিমের মতো, বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট এবং উদ্ভিদজগতের সবচেয়ে বড় শুক্রাণু।
(ii) মেগাস্পোরোফিলঃ Cycas-এর মেগাস্পোরোফিল গুলো পাতার ন্যায়, রোমশ যুক্ত এবং বাদামী বর্ণের। এরা একত্রে মুকুট গঠন করে। মেগাস্পোরোফিলের উপরের অংশকে পিনিউল বলে। এর গোড়ায় ২-৪ জোড়া বৃহৎ এবং লাল বর্ণের ডিম্বক থাকে। ডিম্বকসহ মেগাস্পোরোফিলকে সাপের ফণার মতো দেখায়। একে সর্পমণি বলে (বাজারে সর্পমণি নামে বিক্রি করতে দেখা যায়)। ডিম্বকের ভিতরে স্ত্রীরেণু মাতৃকোষ থাকে। স্ত্রীরেণু মাতৃকোষগুলো মায়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে স্ত্রীরেণু বা মেগাস্পোর উৎপন্ন করে। স্ত্রীরেণু হতে আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি হয়। আর্কিগোনিয়ামের ভিতরে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয়। আর্কিগোনিয়াম হলো সাইকাসের আদি বৈশিষ্ট্য।
(iii) নিষেকঃ Cycas-এর পুংরেণু বায়ুবাহিত হয়ে স্ত্রী উদ্ভিদের ডিম্বকে পতিত হয়। পুংরেণু থেকে পরাগনালিকা বা পোলেন টিউব সৃষ্টি হয়। পরাগনালিকার ভিতরে শুক্রাণু উৎপন্ন হয়। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট বীজে পরিনত হয়। বীজ রসালো, কমলা বা লাল বর্ণের। বীজ অংকুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
সাইকাসের মেগাস্পোরোফিলের গোড়ায় দুই পাশে ডিম্বক সাজানো থাকে। ডিম্বকসহ মেগাস্পোরোফিলকে সাপের ফণার মতো দেখায়। একে সর্পমণি বলে। বিভিন্ন স্থানে সর্পমণি সর্ব রোগের ওষুধ হিসেবে বিক্রি হয়। আসলে এর কোন ওষুধি গুণ নাই। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতারিত বা বঞ্চিত হচ্ছে।
Cycas উদ্ভিদের সাথে ফার্নের সাদৃশ বা মিল । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স
১। প্রধান উদ্ভিদ স্পোরোফাইট।
২। দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায়।
৩। পাতা বৃহৎ, সবুজ, পক্ষল যৌগিক।
৪। কচি পাতা সারসিনেট ভারনেশন বা কুন্ডলিত অবস্থায় থাকে।
৫। এদের শুক্রাণু বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট এবং সচল।
৬। এরা হেটারোস্পোরাস বা অসমরেণুপ্রসু।
৭। হেটারোমরফিক বা অসম আকৃতির জনুঃক্রম দেখা যায়।