Cycas-কে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয় কেন ।। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

Cycas হলো Cycadales বর্গের উদ্ভিদ। Cycadales বর্গের উদ্ভিদকে Cycads বলা হয়। Cycads-রা মেসোজোয়িক যুগে সারা পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত ছিল। পরে এরা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে এদেরকে জীবাশ্ম (fossil) হিসেবে পাওয়া যায়। Cycadales বর্গের Cycas সহ ৯টি গণের ১০০টি প্রজাতি এখনো পৃথিবীতে জীবিত আছে।  বর্তমানকালের জীবিত Cycas এর বৈশিষ্ট্যের সাথে অতীতকালের জীবাশ্ম Cycads এর বৈশিষ্ট্যের হুবহু মিল খুজে পাওয়া যায়। তাই Cycas-কে জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল (Living fossil) বলা হয়।

জীবন্ত জীবাশ্ম কী । Living fossil কী

বর্তমান কালের কোন জীবিত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে অতীত কালের কোন জীবাশ্ম উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বা লিভিং ফসিল (Living fossil) বলে। Cycas একটি জীবন্ত জীবাশ্ম।

Cycas এর দৈহিক গঠন । ড. দ্দিক পাবলিকেশন্স

১। মূলঃ Cycas-এর প্রধান মূল ক্ষণস্থায়ী। প্রধান মূল নষ্ট হওয়ার পর অস্থানিক মূল সৃষ্টি হয়। অস্থানিক মূল মাটির নিচে বৃদ্ধ পায়। অস্থানিক মূলের কতিপয় অংশ মাটির উপরে চলে আসে এবং দ্বিধাবিভক্ত হয়ে শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি করে। মাটির উপরে এসব মূল ব্যাকটেরিয়া, নস্টক (Nostoc), অ্যানাবিনা (Anabaena) প্রভৃতি দ্বারা আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত এসব মূলের স্বাভাবিক আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে বিকৃত আকার ধারণ করে। মূলের বিকৃত আকৃতি সমুদ্রের প্রবাল বা কোরালের মতো হওয়ায় এদেরকে কোরালয়েড মূল বা প্রবাল মূল বা রুট টিউবারকল বলে। কোরালয়েড মূলের কর্টেক্সের যে অংশে নস্টক ও অ্যানাবিনা অবস্থান করে সে অংশকে শৈবাল স্তর বলে।

২। কান্ডঃ Cycas এর কান্ড সোজা, দীর্ঘ, অশাখ, স্থুল ও বেলনাকার। ইহা ৮-১৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। কোন কোন প্রজাতি এর চেয়েও লম্বা হয়। কান্ডের শীর্ষমুকুল ভেঙ্গে গেলে কান্ড শাখাযুক্ত হয়। ইহা বর্মের ন্যায় অস্থায়ী পত্রমূল দ্বারা আবৃত থাকে। এতে স্থায়ী পত্রমূলের চিহ্ন বা Leaf scar থাকে।

৩। পাতাঃ Cycas এর কান্ডের শীর্ষে দুই ধরনের পাতা থাকে। পর্ণপত্র এবং শল্কপত্র।

(i) পর্ণপত্র বা যৌগপত্রঃ পর্ণপত্র গুলো সরল, সবুজ, মসৃণ, বৃহৎ এবং পক্ষল যৌগিক। ইহা কান্ডের অগ্রভাগে সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকে এবং মুকুটের ন্যায় গঠন সৃষ্টি করে। র‌্যাকিসে ৫০-১০০ জোড়া বা ১০০-২০০টি পত্রক থাকে। পত্রকগুলো স্থুল, মোটা এবং চর্মবৎ। এর দৈর্ঘ্য ১.০-২.৭ মি। পরিনত পত্রকে মধ্যশিরা থাকে, শিরা ও উপশিরা অস্পষ্ট। অপরিনত এবং কচি পাতা ফার্নের ন্যায় কুন্ডলিত থাকে। এই অবস্থাকে সারসিনেট ভারনেশন বলে।

(ii) শল্কপত্রঃ শল্কপত্র গুলো ছোট এবং বাদামী বর্ণের রোমশ যুক্ত। ইহা পর্ণপত্রের সাথে একান্তর ভাবে সজ্জিত থাকে। ইহা যৌগপত্রের মুকুলকে আবৃত করে রাখে।

পাম উদ্ভিদ এবং ফার্ন এর পাতার সাথে সাইকাসের পাতার কিছুটা মিল রয়েছে। তাই সাইকাসকে পামফার্ন বলা হয়।

কোরালয়েড মূল কী । প্রবাল মূল কী । রুট টিউবারকল কী

Cycas-এর প্রধান মূল নষ্ট হওয়ার পর অস্থানিক মূল সৃষ্টি হয়। অস্থানিক মূল মাটির নিচে বৃদ্ধ পায়। অস্থানিক মূলের কতিপয় অংশ মাটির উপরে চলে আসে এবং দ্বিধাবিভক্ত হয়ে শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি করে। মাটির উপরে এসব মূল ব্যাকটেরিয়া, নস্টক (Nostoc), অ্যানাবিনা (Anabaena) প্রভৃতি দ্বারা আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত এসব মূলের স্বাভাবিক আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে বিকৃত আকার ধারণ করে। মূলের বিকৃত আকৃতি সমুদ্রের প্রবাল বা কোরালের মতো হওয়ায় এদেরকে কোরালয়েড মূল বা প্রবাল মূল বা রুট টিউবারকল বলে। কোরালয়েড মূলের কর্টেক্সের যে অংশে নস্টক ও অ্যানাবিনা অবস্থান করে সে অংশকে শৈবাল স্তর বলে।

Cycas উদ্ভিদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য কী । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১। Cycas হলো স্পোরোফাইট উদ্ভিদ। এর দেহকে মূল, কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
২। এরা খাড়া পাম জাতীয় উদ্ভিদ।
৩। এদের বাদামী বর্ণের রোমশ শল্কপত্র এবং সবুজ পর্ণপত্র থাকে।
৪। সবুজ পাতা বৃহৎ, পক্ষল যৌগিক এবং সর্পিলাকারে সজ্জিত থাকে।
৫। কচি পাতা সারসিনেট ভারনেশন বা কুন্ডলিত অবস্থায় থাকে।
৬। এদের পাতায় ট্রান্সফিউশন টিস্যু থাকে।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
৭। কান্ড সোজা, অশাখ, স্থুল, বেলনাকার এবং স্থায়ী পত্রমূল যুক্ত।
৮। এদের বীজ হয়, ফল হয় না এবং বীজ নগ্ন থাকে।
৯। পুংরেণুপত্র গুলো স্ট্রোবিলাস গঠন করে।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১০। এদের ডিম্বক বৃহৎ, অনাবৃত এবং স্ত্রীরেণুপত্রে অবস্থান করে।
১১। এরা হেটারোস্পোরিক বা অসমরেণুপ্রসু।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১২। এরা বায়ু পরাগী। অর্থাৎ বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে।
১৩। এদের কোরালয়েড মূল বিদ্যমান।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১৪। এদের শুক্রাণু সর্ববৃহৎ, লাটিমের মতো, বহু ফ্ল্যাজেলাবিশিষ্ট এবং সচল।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১৫। এদের যৌন জনন উগ্যামাস প্রকৃতির।
১৬। এদের ভ্রুণ সৃষ্টি হয়।ড.সিদ্দিকপাবলিকেশন্স
১৭। এরা আর্কিগোনিয়েডস্।

সাইকাস এর ভৌগোলিক বিস্তার । Cycas । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১৫-২০টি Cycas প্রজাতি পৃথিবীর সর্বত্র পাওয়া যায়। তবে উঞ্চ ও উপ উঞ্চমন্ডলীয় অঞ্চলে Cycas-এর বিস্তৃতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। পূর্ব আফ্রিকা, ভারত, দক্ষিণ চীন, জাপান, মাদাগাস্কার, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে Cycas প্রচুর জন্মে। বাংলাদেশে চট্রগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলে এবং শেরপুরের গজনী বনাঞ্চলে Cycas জন্মে। Cycas revolutaCycas circinalis শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে বাগানে লাগানো হয়।

 

সাইকাস এর স্বভাব । সাইকাস এর আবাসভ‚মি । Cycas । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

সাইকাস বহুবর্ষজীবী, দীর্ঘ, কাষ্ঠল, চিরহরিৎ এবং নগ্নবীজী উদ্ভিদ। Cycas দেখতে অনেকটা পাম বৃক্ষ বা ফার্নের মতো বলে একে পামফার্ন বলা হয়। পাহাড়ের উপরে শুষ্ক স্থানে এরা জন্মে। সমতল ভ‚মিতে ইহা বৃদ্ধি লাভ করে। উঞ্চ ও আর্দ্র আবহওয়ায় এরা ভাল জন্মে। ধারণা করা হয়, ৩০ কোটি বছর পূর্বে Cycas উৎপত্তি লাভ করেছে।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ তিনটি বৃক্ষ

১। Sequoia sempervirensSequoia sempervirens হলো নগ্নবীজী উদ্ভিদ। এর উচ্চতা- ১১৫.৯২ মিটার বা ৩৮০.৩ ফুট। রেডউড ন্যাশনাল পার্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, আমেরিকা।

২। Shorea faguetianaShorea faguetiana হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ। এর উচ্চতা- ১০০.৮ মিটার বা ৩৩১ ফুট। বোর্নিও, ইন্দোনেশিয়া, এশিয়া।

৩। Eucalyptus regnansEucalyptus regnans হলো আবৃতবীজী উদ্ভিদ। এর উচ্চতা- ৯৯.৮২ মিটার বা ৩২৯.৭ ফুট। তাসমানিয়া, অস্ট্রেলিয়া।

পত্রমূলের চিহ্ন কী । Leaf scar কী

নগ্নবীজী উদ্ভিদের পাতা ঝড়ে পড়লে কান্ডে বিশেষ চিহ্ন থাকে। এই বিশেষ চিহ্নকে leaf scar বা পত্রমূলের চিহ্ন বলে। Leaf scar হলো নগ্নবীজী উদ্ভিদের একটি ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য।

নগ্নবীজী ।। নগ্নবীজী উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য কী কী । Gymnosperm । ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

 ১। নগ্নবীজী উদ্ভিদ হলো সবুজ, স্বভোজী এবং চিরহরিৎ।

২। প্রধান উদ্ভিদ স্পোরোফাইট এবং কাষ্ঠল। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৩। এদের দেহ মূল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৪। এদের দুই ধরনের পাতা থাকে। বাদামী বর্ণের শল্কপত্র এবং সবুজ বর্ণের পর্ণপত্র।

৫। এদের পর্ণপত্র সূচাকার (পাইন) ও পক্ষল যৌগিক ধরনের (সাইকাস)।

৬। উদ্ভিদে Leaf scar বা পত্রমূলের চিহ্ন থাকে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৭। এদের পুষ্প সরল এবং একলিঙ্গিক। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৮। পুষ্পে মাইক্রোস্পোরোফিল বা পুংরেণুপত্র এবং মেগাস্পোরোফিল বা স্ত্রীরেণুপত্র থাকে। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

৯। এদের ফুলে গর্ভাশয়, গর্ভদন্ড ও গর্ভমুন্ড থাকে না।

১০। পরাগায়নের সময় পরাগরেণু সরাসরি ডিম্বক রন্ধ্রে পতিত হয়।

১১। ফুলে গর্ভাশয় না থাকায় ফল সৃষ্টি হয় না। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১২। ফল সৃষ্টি না হওয়ায় বীজ নগ্ন বা ব্যক্ত থাকে।

১৩। এদের শস্য হ্যাপ্লয়েড এবং নিষেকের পূর্বে তৈরী হয়।

১৪। এদের বীজ অংকুরিত হয়ে ডিপ্লয়েড স্পোরোফাইট উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।

১৫। এদের দ্বি-নিষেক ঘটে না (Ephedra ঘটে)। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

১৬। এদের ভ্রুণে বীজপত্রের সংখ্যা একটি, দুইটি (Cycas) বা ততোধিক (Pinus)।

১৭। এরা বায়ু পরাগী। অর্থাৎ বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন ঘটে।

১৮। ভাস্কুলার বান্ডল মুক্ত, সমপার্শ্বীয় এবং বলয়াকার।

১৯। জাইলেমে ভেসেল কোষ থাকে না (Gnetum থাকে) এবং ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ অনুপস্থিত। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

২০। এরা আর্কিগোনিয়েটস্। অর্থাৎ আর্কিগোনিয়া সৃষ্টি করে।

২১। এরা হেটারোস্পোরাস। অর্থাৎ দুই বা ততোধিক রকমের স্পোর উৎপন্ন করে।

২২। এদের অধিকাংশ প্রজাতি স্থলজ ও মরুজ। ড. সিদ্দিক পাবলিকেশন্স

২৩। জীবনচক্রে অসম বা হেটারোমরফিক জনুঃক্রম বিদ্যমান।